
সুন্দরবন রক্ষা ও বনজ সম্পদ সংরক্ষণে ভূমিকা রাখায় স্থানীয় একটি অসাধু চক্রের ষড়যন্ত্র এবং সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে কুরুচিপূর্ণ অপপ্রচারের শিকার হওয়ার অভিযোগ করেছেন চিলা ইউনিয়ন বিএনপির সভাপতি ও সুন্দরবন চাঁদপাই রেঞ্জের কো-ম্যানেজমেন্ট কমিটির (সিএমসি) সভাপতি মো. ফারুক হাওলাদার।
বুধবার রাত সাড়ে ৮টার দিকে মোংলা প্রেস ক্লাবে আয়োজিত এক জরুরি সংবাদ সম্মেলনে তিনি এসব অভিযোগ করেন।
সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্যে ফারুক হাওলাদার বলেন, তিনি দীর্ঘ ৪০ বছর ধরে বিএনপির রাজনীতির সঙ্গে যুক্ত এবং পেশায় একজন ইলিশ মাছ ব্যবসায়ী। একই সঙ্গে সুন্দরবন সুরক্ষায় চাঁদপাই রেঞ্জের কো-ম্যানেজমেন্ট কমিটির সভাপতি হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন। সুন্দরবনে বিষ দিয়ে মাছ শিকার ও হরিণ শিকারিদের বিরুদ্ধে তিনি ও তাঁর সংগঠন নিয়মিত তৎপর থাকায় একটি অসাধু চক্র তাঁর ওপর ক্ষুব্ধ হয়েছে বলে অভিযোগ করেন তিনি।
তিনি অভিযোগ করেন, চাঁদপাই ফরেস্ট এলাকার সোহেল শেখ ও গাববুনিয়া এলাকার মিলন শেখ সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ‘রাজ খান’, ‘মিডিয়া সেল মোংলা’সহ বিভিন্ন ফেসবুক আইডি ও পেজের মাধ্যমে তাঁর বিরুদ্ধে ভিত্তিহীন ও কুরুচিপূর্ণ অপপ্রচার চালাচ্ছেন।
বিষ দিয়ে মাছ ধরা ও হরিণ শিকারে বাধা দেওয়ায় অভিযুক্তরা তাঁকে নিয়মিত খুন ও জখমের হুমকি দিচ্ছেন বলেও সংবাদ সম্মেলনে অভিযোগ করেন ফারুক হাওলাদার।
তিনি জানান, জীবনের নিরাপত্তার স্বার্থে ইতিমধ্যে অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে মোংলা থানায় একটি সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করেছেন। পাশাপাশি হুমকি প্রদানকারী ও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে অপপ্রচারকারীদের বিরুদ্ধে সাইবার অপরাধ আইনে মামলা দায়েরের প্রস্তুতি নিচ্ছেন।
এদিকে সোহেল শেখ তাঁর বিরুদ্ধে ওঠা অভিযোগ অস্বীকার করে দাবি করেছেন, এসবই প্রতিপক্ষের অপপ্রচার। অপর অভিযুক্ত মিলন শেখের মোবাইল ফোন বন্ধ থাকায় তাঁর বক্তব্য জানা যায়নি। এছাড়া ‘রাজ খান’-এর সঙ্গে ফেসবুক মেসেঞ্জারে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি ফোন রিসিভ করেননি এবং পাঠানো বার্তারও কোনো জবাব দেননি।
সংবাদ সম্মেলনে ফারুক হাওলাদারের দায়িত্ব পালন নিয়ে প্রশ্ন তুলে অভিযুক্তরা ফেসবুকে বিভিন্ন পোস্ট করেছেন বলেও অভিযোগ করা হয়। এসব পোস্টে সুন্দরবনের বড় হলদিখালী ও ছোট হলদিখালী খালে বিষ দিয়ে মাছ শিকারের অভিযোগে বন বিভাগের অভিযানের কথা উল্লেখ করা হয়েছে।
অভিযোগ অনুযায়ী, ওই অভিযানে নয়ন ও বিএনপি নেতা ফারুক হাওলাদারের ট্রলারে তল্লাশি চালানো হয়। বন বিভাগের উপস্থিতি টের পেয়ে মাছ নদীতে ফেলে প্রমাণ লোপাটের চেষ্টা করা হয় এবং পরে ফারুক হাওলাদারের ট্রলার থেকে নিষিদ্ধ টোনা জাল উদ্ধার ও ট্রলারের ড্রাইভার/ম্যানেজার রিয়াদকে আটক করা হয়েছে—এমন দাবি করে ভিডিওসহ বিভিন্ন তথ্য সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রচার করা হয়।
তবে এসব অভিযোগের বিষয়ে বন বিভাগের কোনো বক্তব্য সংবাদ সম্মেলনে উল্লেখ করা হয়নি।
সংবাদ সম্মেলনে মোংলা প্রেস ক্লাবের সাংবাদিকরা উপস্থিত ছিলেন।
স্বদেশ প্রতিদিন/এস পি