প্রকাশ: বৃহস্পতিবার, ৮ অক্টোবর, ২০২৬, ৪:০১ পিএম

চট্টগ্রামের আনোয়ারায় সাঙ্গু ট্রমা অ্যান্ড জেনারেল হাসপাতালের বিরুদ্ধে চিকিৎসায় অবহেলার অভিযোগ তুলে মো. আয়ন (৮) নামে এক শিশুর মরদেহ হাসপাতালের সামনে রেখে বিক্ষোভ করেছেন স্বজনরা। বুধবার রাত ২টার দিকে উপজেলার বটতলী রুস্তম হাট এলাকায় এ ঘটনা ঘটে। এর আগে রাত ১০টার দিকে শিশুটির মৃত্যু হয়।
নিহত আয়ন চট্টগ্রামের সাতকানিয়া উপজেলার বাসিন্দা হলেও বাবা-মায়ের বিচ্ছেদের পর সে মা কুমকুম আকতার রুম্পার সঙ্গে আনোয়ারা উপজেলার বারশত ইউনিয়নের গুন্ধীপাড়া এলাকার নানা ছাদেক আলী তালুকদারের বাড়িতে থাকত। তার মা কেইপিজেডের একটি পোশাক কারখানায় শ্রমিক হিসেবে কাজ করেন।
স্বজনরা জানান, বুধবার বিকেলে একটি প্রাইভেটকারের সঙ্গে ধাক্কা লেগে আয়ন আহত হয়। পরে তাকে সাঙ্গু ট্রমা অ্যান্ড জেনারেল হাসপাতালে নেওয়া হলে চিকিৎসকরা প্রাথমিক চিকিৎসা দিয়ে বাড়িতে পাঠিয়ে দেন এবং তিন দিন পর হাসপাতালে আনতে বলেন। বাড়িতে নেওয়ার পর রাত ৯টার দিকে শিশুটির অবস্থার অবনতি হলে তাকে চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেওয়া হয়। সেখানে চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন।
স্বজনদের অভিযোগ, সাঙ্গু ট্রমা হাসপাতালে কোনো ধরনের পরীক্ষা-নিরীক্ষা ছাড়াই হাসপাতালের কর্মচারী দিয়ে শিশুটিকে চিকিৎসা দেওয়া হয়। বিষয়টি নিয়ে বারবার বলার পরও হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ গুরুত্ব দেয়নি।
তবে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের দাবি, দুর্ঘটনায় আহত হওয়ার পর আয়নকে হাসপাতালে আনা হলে তাকে চিকিৎসা দিয়ে স্বজনরা বাড়ি নিয়ে যান। পরে চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেওয়া হলেও শিশুটির মৃত্যু হয়।
সাঙ্গু ট্রমা অ্যান্ড জেনারেল হাসপাতালের পরিচালক ডা. মো. মিজানুর রহমান বলেন, ‘শিশুটি দুর্ঘটনায় আহত হওয়ার পর আমাদের হাসপাতালে নিয়ে আসে। এখানে চিকিৎসা দিয়ে স্বজনরা শিশুটিকে বাড়ি নিয়ে যায়। পরে চট্টগ্রাম মেডিকেলে নিয়ে গেলেও শিশুটি মারা যায়। কিন্তু শিশুর অভিভাবকরা রাতে মরদেহ নিয়ে আমাদের হাসপাতাল ভাঙচুর করে। আমাদের কাছ থেকে ২০ লাখ টাকাও দাবি করছে। টাকা না দেওয়ায় তারা হাসপাতালের সামনে শিশুর মরদেহ রেখে গেছে।’
আনোয়ারা থানার ওসি জুনায়েত চৌধুরী বলেন, বটতলী রুস্তম হাটে সাঙ্গু ট্রমা নামের একটি বেসরকারি হাসপাতালে এক শিশুর মৃত্যু নিয়ে উত্তেজনা দেখা দিলে পুলিশ দ্রুত ঘটনাস্থলে গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে। নিহত শিশুর স্বজন, হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ ও স্থানীয় লোকজনের মধ্যে আলোচনা চলছে বলে তিনি জানতে পেরেছেন। তবে এ ঘটনায় এখনো কেউ থানায় অভিযোগ করেনি।
এদিকে শিশুটির মৃত্যুর ঘটনায় তিন সদস্যের তদন্ত কমিটি গঠন করেছে উপজেলা স্বাস্থ্য বিভাগ। উপজেলা স্বাস্থ্য কর্মকর্তা ডা. মাহতাব উদ্দিন চৌধুরী বলেন, ‘শিশুর মৃত্যুর অভিযোগের ভিত্তিতে আমরা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের ডা. জামশেদ গিয়াস উদ্দিনকে প্রধান করে বিবি জয়নাব ও মো. বেলাল হোসেনকে সদস্য করে তিন সদস্যের একটি তদন্ত কমিটি করেছি। এ কমিটি আগামী ৩ কার্যদিবসের মধ্যে তদন্ত প্রতিবেদন জমা দেবে। তারপর আমরা আইনি ব্যবস্থা নেব।’
স্বদেশ প্রতিদিন/এস পি