
আসন্ন শারদীয় দুর্গাপূজা-২০২৬ সুষ্ঠু, শান্তিপূর্ণ ও উৎসবমুখর পরিবেশে উদযাপনের লক্ষ্যে ব্রাহ্মণবাড়িয়ার বাঞ্ছারামপুরে একটি প্রস্তুতিমূলক সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে।
আজ বৃহস্পতিবার (৮ অক্টোবর) সকাল ১১টায় উপজেলা পরিষদ অডিটোরিয়ামে উপজেলা প্রশাসনের উদ্যোগে এ সভার আয়োজন করা হয়। বাঞ্ছারামপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. আল এমরান খাঁনের সভাপতিত্বে সভায় ভার্চুয়ালি যুক্ত হয়ে প্রধান অতিথির বক্তব্য দেন পরিকল্পনা মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী মো. জোনায়েদ আব্দুর রহিম সাকি, এমপি।
সভায় বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন সহকারী কমিশনার (ভূমি) মো. রবিউল হাসান ভূঁইয়া, বাঞ্ছারামপুর মডেল থানার অফিসার ইনচার্জ মোহাম্মদ ইয়াছিন, বাঞ্ছারামপুর উপজেলা বিএনপির সভাপতি কৃষিবিদ মেহেদী হাসান পলাশ, পৌর বিএনপির সাধারণ সম্পাদক ছালে মুসা, গণসংহতি আন্দোলনের বাঞ্ছারামপুর উপজেলা সমন্বয়ক মো. শামীম শিবলী, বাঞ্ছারামপুর প্রেস ক্লাবের সভাপতি মোল্লা মো. নাসির আহমেদ, পূজা উদযাপন কমিটির সভাপতি শ্রী বাবু রতন চন্দ্র সাহা ও শ্রী শ্যামল চন্দ্র সাহা, রকিবুল ইসলাম এবং ছয়ফুল্লাকান্দি ইউনিয়নের গণসংহতি আন্দোলনের সমন্বয়ক।
এ ছাড়া উপজেলার বিভিন্ন পূজামণ্ডপের প্রতিনিধি, সামাজিক-ধর্মীয় সংগঠনের নেতৃবৃন্দ ও হিন্দু সম্প্রদায়ের বিশিষ্ট ব্যক্তিরা সভায় অংশ নেন।
প্রধান অতিথির বক্তব্যে পরিকল্পনা প্রতিমন্ত্রী মো. জোনায়েদ আব্দুর রহিম সাকি বলেন, "শারদীয় দুর্গাপূজা আমাদের সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি ও ঐতিহ্যের প্রতীক। প্রতিটি পূজামণ্ডপে নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে প্রশাসন, আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী, পূজা উদযাপন কমিটি ও স্থানীয় জনগণকে সমন্বিতভাবে কাজ করতে হবে। পাশাপাশি গুজব ও উসকানি থেকে সবাইকে সতর্ক থাকতে হবে।"
তিনি পূজামণ্ডপে পর্যাপ্ত আলোর ব্যবস্থা, সিসি ক্যামেরা সচল রাখা এবং স্বেচ্ছাসেবকদের দায়িত্বশীল ভূমিকা পালনের ওপর গুরুত্বারোপ করেন।
বাঞ্ছারামপুর উপজেলা বিএনপির সভাপতি কৃষিবিদ মেহেদী হাসান পলাশ বলেন, দুর্গাপূজা শান্তিপূর্ণভাবে উদযাপনে পারস্পরিক সহযোগিতা ও সম্প্রীতি বজায় রাখা জরুরি। পূজামণ্ডপের শৃঙ্খলা রক্ষায় স্থানীয় রাজনৈতিক ও সামাজিক নেতৃবৃন্দ প্রশাসনকে সর্বাত্মক সহায়তা করবেন।
বাঞ্ছারামপুর মডেল থানার অফিসার ইনচার্জ মোহাম্মদ ইয়াছিন জানান, উপজেলায় মোট ৪৬টি পূজামণ্ডপ রয়েছে। প্রতিটি মণ্ডপে সিসি ক্যামেরা সচল রাখার পাশাপাশি যেকোনো সন্দেহজনক তথ্য তাৎক্ষণিকভাবে পুলিশকে জানানোর অনুরোধ জানান তিনি।
তিনি বলেন, "কেউ গুজবে কান দেবেন না এবং যাচাই না করে কোনো তথ্য প্রচার করবেন না।"
সভায় পূজামণ্ডপের নিরাপত্তা বিধান, আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখা এবং উৎসবের সার্বিক পরিবেশ সুষ্ঠু রাখাসহ নানা বিষয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়।
পরিশেষে প্রশাসন, আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী, রাজনৈতিক ও সামাজিক সংগঠনের নেতৃবৃন্দ এবং পূজা উদযাপন কমিটির নেতারা পারস্পরিক সম্প্রীতির মাধ্যমে নিরাপদ ও উৎসবমুখর দুর্গোৎসব সম্পন্ন করার দৃঢ় প্রত্যয় ব্যক্ত করেন।
স্বদেশ প্রতিদিন/এফএইচ