
মালয়েশিয়ায় কর্মী পাঠানোর ক্ষেত্রে দেশের স্বার্থ রক্ষা, সঠিক অভিবাসন ব্যয় নির্ধারণ এবং চাকরির শতভাগ নিশ্চয়তা নিশ্চিত করার নির্দেশ দিয়েছেন প্রবাসীকল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থানমন্ত্রী আরিফুল হক চৌধুরী। তিনি বলেছেন, মালয়েশিয়ায় আর ‘যেমন-তেমনে’ কর্মী পাঠানো যাবে না। পুরো প্রক্রিয়াকে সুনির্দিষ্ট শৃঙ্খলার মধ্যে আনা হচ্ছে।
মঙ্গলবার দুপুরে রাজধানীর ইস্কাটনে প্রবাসীকল্যাণ ভবনে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে তিনি এসব কথা বলেন। এ সময় প্রবাসীকল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান প্রতিমন্ত্রী মো. নুরুল হক এবং সচিব মো. মোখতার আহমেদ উপস্থিত ছিলেন।
বোয়েসেলকে দেওয়া হচ্ছে অগ্রাধিকার
মন্ত্রী জানান, বেসরকারি এজেন্সির ওপর নিয়ন্ত্রণের অভাব এবং অতিরিক্ত অর্থ আদায়ের ঝুঁকি এড়াতে সরকারি সংস্থা বাংলাদেশ ওভারসিজ এমপ্লয়মেন্ট অ্যান্ড সার্ভিসেস লিমিটেডকে (বোয়েসেল) অগ্রাধিকার দেওয়া হচ্ছে। বিদেশে পাঠানোর আগে কর্মীর চাকরির নিশ্চয়তা ও যাতায়াত খরচ সুনির্দিষ্ট করা হবে।
তিনি বলেন, বেসরকারি এজেন্সির মাধ্যমে পুরো প্রক্রিয়ায় কার্যকর নিয়ন্ত্রণ রাখা কঠিন। তাই বোয়েসেলের মাধ্যমে কর্মী পাঠানোর বিষয়ে জোর দেওয়া হচ্ছে। বোয়েসেল প্রায় প্রস্তুত এবং আগামী ৮ অক্টোবরের মধ্যে প্রক্রিয়াটিতে আনুষ্ঠানিকভাবে যুক্ত হবে বলে আশা করা হচ্ছে।
চাহিদাপত্র যাচাই করছে হাইকমিশন
আরিফুল হক চৌধুরী বলেন, যেসব বেসরকারি এজেন্সি মালয়েশিয়া থেকে চাহিদাপত্র নিয়ে আসছে, সেগুলো বাংলাদেশ হাইকমিশনের মাধ্যমে সরেজমিনে যাচাই করা হচ্ছে। বর্তমানে মালয়েশিয়ার অনলাইন প্ল্যাটফর্ম এফডব্লিউসিএমএসে প্রয়োজনীয় তথ্য-উপাত্ত ইনপুট দেওয়ার কাজ চলছে।
সার্বিয়ায় ভিসা প্রতারণার অভিযোগ
সার্বিয়ার ভিসাপ্রাপ্তদের আন্দোলন নিয়ে এক প্রশ্নের জবাবে মন্ত্রী বলেন, কিছু অসাধু ট্রাভেলস এজেন্সি শত শত যুবকের কাছ থেকে ৮ লাখ টাকা করে নিয়ে ভিসা প্রতারণা করেছে। এখন তারাই লোক জড়ো করে আন্দোলন করাচ্ছে বলে অভিযোগ করেন তিনি।
প্রবাসীকল্যাণমন্ত্রী সতর্ক করে বলেন, যাদের ভিসা ও ওয়ার্ক পারমিট সঠিক রয়েছে, তারা নিয়ম অনুযায়ী ক্লিয়ারেন্স পাবেন। তবে ভুয়া কাগজপত্র তৈরি করে যারা প্রতারণা করেছেন, তাদের কঠোরভাবে আইনের আওতায় আনা হবে।
স্বদেশ প্রতিদিন/এফএইচ