| শিরোনাম: |

কারিগরি শিক্ষিত ব্যক্তি আর একাডেমিক শিক্ষিত ব্যক্তির মধ্যে চাকরির বাজারে ব্যাপক ব্যবধান বাড়ছে। সরকারি বা বেসরকারি চাকরির বাজারে আসছে কারিগরি শিক্ষানির্ভরতা। অনভিজ্ঞ কর্মীর চেয়ে অভিজ্ঞ কর্মীর ব্যাপক চাহিদা দেশ ও বিশ্ববাজারে। এ চাহিদা থেকেই সরকার কারিগরি শিক্ষা বোর্ডের অধীনে সরকারিভাবে বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান গড়ে তুলেছে। এর মধ্যে পলিটেকনিক ইনস্টিটিউট, টেকনিক্যাল স্কুল ও কলেজ (TSC), ইঞ্জিনিয়ারিং কলেজ, কারিগরি প্রশিক্ষণ কেন্দ্র (TTC), কৃষি ট্রেনিং ইনস্টিটিউট (ATI), টেক্সটাইল ইনস্টিটিউট, শিক্ষক প্রশিক্ষণ কলেজসহ আরও বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান রয়েছে।
এসব প্রতিষ্ঠানে একসময় লটারিতে ভর্তির প্রচলন থাকলেও এখন সরাসরি ভর্তি যুদ্ধে অংশগ্রহণ করতে হয় ভর্তিচ্ছুদের। আর এ যুদ্ধে জয়ী হওয়ার জন্য দেশের প্রতিটি জেলায় গড়ে উঠেছে কোচিং সেন্টার। এতে যেমন কারিগরি শিক্ষা বোর্ডের অধীনে বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানে ভর্তি হওয়ার প্রস্তুতি ও সঠিক গাইডলাইন পাচ্ছে শিক্ষার্থীরা, তেমনি কর্মসংস্থানের সুযোগও বেড়েছে।
ঠিক তেমনি টাঙ্গাইল পলিটেকনিকের সামনে গড়ে উঠেছে ‘ডিপ্লোমা হাট’ নামের প্রতিষ্ঠানটি। এ প্রতিষ্ঠান থেকে ২০২৬ সালে অনুষ্ঠিত পলিটেকনিক ইনস্টিটিউটের ভর্তি পরীক্ষায় অংশ নেওয়া ২৮ জন শিক্ষার্থীর মধ্যে শতভাগ শিক্ষার্থী ভর্তি যুদ্ধে অংশ নিয়ে সাফল্য অর্জন করেছেন। এখন তারা স্বপ্ন দেখছেন, প্রস্তুতি নিচ্ছেন সুন্দর আগামীর।
এ প্রসঙ্গে ডিপ্লোমা হাটের কৃতী শিক্ষার্থী আলিফ আহসান জানান, যখন এসএসসির ফলাফল হলো, তখন ভাবছিলাম আট-দশটা শিক্ষার্থীর মতো আমিও কোনো একটা কলেজে ভর্তি হব। পরে পরিবারের সিদ্ধান্তের সঙ্গে সহমত পোষণ করে পলিটেকনিকে ভর্তি পরীক্ষায় অংশ নেওয়ার জন্য আবেদন করি। কীভাবে পড়তে হবে, কী পড়তে হবে—আমার জানা ছিল না। পরে ডিপ্লোমা হাটের খবর পেয়ে অফিসে যোগাযোগ করি। শিক্ষকদের সঙ্গে কথা বলে আমার আত্মবিশ্বাস বেড়ে যায়। পরবর্তীতে ভর্তি পরীক্ষায় কৃতিত্বের সঙ্গে উত্তীর্ণ হয়েছি।
অভিভাবক রহিমা রহমান বলেন, আমার অনেক সহপাঠী আছেন, যারা বিএ, এমএ পাস করেও ভালো কোনো পেশায় নিয়োজিত হতে পারেননি। কারণ, তারা শিক্ষার্থী হিসেবে মেধাবী হলেও তাদের টেকনিক্যাল স্কিল ছিল না। তাই আমরা পরিবারের সব সদস্য মিলে আমার সন্তানকে পলিটেকনিক ইনস্টিটিউটে ভর্তির সিদ্ধান্ত নিয়েছি। সে ডিপ্লোমা হাটে কোচিং সহায়তা নিয়ে সাফল্যের সঙ্গে ভর্তি পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হয়েছে।
ডিপ্লোমা হাটের পরিচালক শরিফুল ইসলাম শান্ত জানান, সাধারণ শিক্ষার চেয়ে কারিগরি শিক্ষা চাকরির বাজারে দ্রুত কর্মসংস্থান তৈরি করতে পারে এবং এর মাধ্যমে দক্ষ জনবল তৈরি হয়, যা দেশের অর্থনৈতিক উন্নয়নে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। আমরা কারিগরি শিক্ষায় শিক্ষিত হয়ে যাতে দেশে দক্ষ জনবল তৈরি হয়, এ লক্ষ্যে সহায়ক প্রতিষ্ঠান হিসেবে কাজ করছি।
স্বদেশ প্রতিদিন/এফএইচ