
মৌলভীবাজারের কুলাউড়া উপজেলার কর্মধা ইউনিয়নের নার্সারি খাসিয়া পুঞ্জিতে ১০টি পরিবারের ১০ হাজারের বেশি পানগাছ রাতের আঁধারে কেটে ফেলার অভিযোগ উঠেছে। বুধবার দিবাগত রাতে এ ঘটনা ঘটে। এতে প্রায় ৫০ লাখ টাকার ক্ষতি হয়েছে বলে দাবি করেছেন ক্ষতিগ্রস্তরা।
সরেজমিনে গিয়ে এবং ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলোর সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, কর্মধা ইউনিয়নের নার্সারি খাসিয়া পুঞ্জির বাসিন্দা লিকিন খংপ্ডা, পাইলা পতাম, নাসরিন পতাম, জনি পতাম, নিস্তার পাটুয়াট, শিউলি আজিম, টিউনি আজিম, ডিমান পতাম ও মাসার তংপেরসহ ১০টি পরিবারের জুমের পানগাছ কেটে ফেলা হয়েছে।
ক্ষতিগ্রস্ত জুমের মালিক নাসরিন পতাম ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, ‘কে বা কারা এই কাজ করেছে জানি না। তবে, যে বা যারা এই কাজ করেছে তারা নিশ্চিত জানে, খাসিয়াদের শেষ করার সহজ কৌশল হলো পানগাছ কেটে ফেলা। খাসিয়ারা সারাদিন জুমে কাজ করে জেনেই রাতের আঁধারে জুমের গাছগুলো কেটে দেওয়া হয়েছে।’
নার্সারি পুঞ্জির মান্রী (প্রধান) জনি পতাম বলেন, ‘আমরা নিরীহ মানুষ। পান চাষ করেই সংসার চালাই। একটি গাছ চার বছর যত্ন করার পর পান পাওয়া যায়। অথচ দায়ের এক কোপে চার বছরের পরিশ্রম ও খরচ সব শেষ হয়ে যায়। পুঞ্জির দশটি পরিবারের জীবিকা নির্বাহের পথ নিমিষে ধ্বংস হয়ে গেল। আমরা খুব ভয়ে আছি, পানগাছই আমাদের একমাত্র আয়ের উৎস।’
তিনি আরও জানান, ইতোমধ্যে প্রশাসনের পক্ষ থেকে ঘটনাস্থল সরেজমিনে তদন্ত করতে লোকজন এসেছেন। সঠিক তদন্তের মাধ্যমে ঘটনায় জড়িতদের আইনের আওতায় আনার দাবি জানিয়েছেন তারা।
কুবরাজ আন্তঃপুঞ্জি উন্নয়ন সংগঠনের সাধারণ সম্পাদক ফ্লোরা বাবলী তালাং বলেন, ‘আমাদের হয়রানির শেষ নেই। কে দেবে আমাদের জীবিকার নিরাপত্তা, এ উত্তর আমার জানা নেই। কেন খাসিয়া পুঞ্জির আদিবাসীদের জীবিকা বারবার হামলার শিকার হবে, দুষ্কৃতকারীদের বিচার হবে কি না সন্দেহ।’
ঘটনার বিষয়ে কুলাউড়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) শেখ জহিরুল ইসলাম মুন্না বলেন, ঘটনাস্থলে পুলিশ পাঠানো হয়েছে। বিষয়টি তদন্ত করে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
স্থানীয়রা দ্রুত তদন্তের মাধ্যমে ঘটনায় জড়িতদের শনাক্ত করে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানিয়েছেন। পাশাপাশি ক্ষতিগ্রস্ত পুঞ্জিবাসীর জীবিকা পুনরুদ্ধারে প্রশাসনের জরুরি সহায়তারও দাবি জানিয়েছেন তারা।
স্বদেশ প্রতিদিন/এস পি