শনিবার ● ৩ অক্টোবর ২০২৬
   
শিরোনাম:
● রাইড শেয়ারিংয়ে বিশৃঙ্খলা! সমাধান প্রয়োজন      ● সালমান মুক্তাদিরের শ্বশুরের ক্লাবে এসআরবি ও এনবিআরের অভিযান      ● নতুন নাটকে সাদিয়া ইসলাম মৌ      ● শিল্পকারখানার মিটার চোর চক্রের ২ সদস্য গ্রেপ্তার      ● ‘চীনের সঙ্গে সম্পর্কের ক্ষেত্রে বাংলাদেশকে থামাতে পারবে না যুক্তরাষ্ট্র’      ● নিখোঁজ কিশোরের লাশ উদ্ধার      ● পশুর চ্যানেলে নিখোঁজ জেলের মরদেহ       ● মাদক ও জুয়া বিরোধী সমাবেশ      ● বাংলাদেশ শিক্ষক সমিতির মহাসচিব হলেন: রেজাউল করিম লিটন      ● স্প্রেইড হিউম্যানিটির প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী      ● এডিপির বরাদ্দপ্রাপ্ত প্রতিষ্ঠানগুলোর মাঝে চিঠি বিতরণ      ● ‘হাম ও ডেঙ্গুঃ জনস্বাস্থ্য সুরক্ষায় নগর পরিকল্পনার ভূমিকা’       
বঙ্গোপসাগরকে যৌথ সমৃদ্ধির অঞ্চলে রূপান্তরের আহ্বান
স্বদেশ ডেস্ক
প্রকাশ: শনিবার, ৩ অক্টোবর, ২০২৬, ১:৪৫ পিএম

প্রজন্মের পর প্রজন্ম ধরে বঙ্গোপসাগর বাংলাদেশের ভাগ্য নির্ধারণে ভূমিকা রেখে চলেছে বলে মন্তব্য করেছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। তিনি বলেছেন, বাংলাদেশের ভৌগোলিক ও কৌশলগত অবস্থানের কারণে সমুদ্রবন্দর, নৌপথ ও উপকূলীয় অর্থনীতির মাধ্যমে বিশ্বের সঙ্গে আরও গভীরভাবে যুক্ত হওয়ার সুযোগ রয়েছে। জাহাজ চলাচল, মৎস্যসম্পদ, পর্যটন, জ্বালানি ও আঞ্চলিক সরবরাহ চেইনে বাংলাদেশের জন্য বড় সম্ভাবনা রয়েছে।

শনিবার (৩ অক্টোবর) রাজধানীর প্যান প্যাসিফিক সোনারগাঁও হোটেলে ‘বে অব বেঙ্গল কনভারসেশন ২০২৬’-এর উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে তিনি এসব কথা বলেন। তিন দিনের এ সম্মেলন ৩ থেকে ৫ অক্টোবর পর্যন্ত অনুষ্ঠিত হচ্ছে। এবারের প্রতিপাদ্য ‘ফ্র্যাগমেন্টস, ফ্রন্টিয়ার্স অ্যান্ড ফিউচারস: নেভিগেটিং পাওয়ার, টেকনোলজি অ্যান্ড ট্রাস্ট ইন আ ওয়ার্ল্ড রিরিটেন’।

বঙ্গোপসাগরের গুরুত্ব তুলে ধরে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘প্রজন্মের পর প্রজন্ম ধরে বঙ্গোপসাগর বাংলাদেশের ভাগ্য নির্ধারণে ভূমিকা রেখে চলেছে।’ তিনি বলেন, ‘বাংলাদেশের ভৌগোলিক ও কৌশলগত অবস্থানের কারণে সমুদ্রবন্দর, নৌপথ ও উপকূলীয় অর্থনীতির মাধ্যমে বিশ্বের সঙ্গে আরও গভীরভাবে যুক্ত হওয়ার সুযোগ রয়েছে। জাহাজ চলাচল, মৎস্যসম্পদ, পর্যটন, জ্বালানি এবং আঞ্চলিক সরবরাহ চেইনে অপার সম্ভাবনা রয়েছে।’

আঞ্চলিক সহযোগিতা বাড়ানোর ওপর গুরুত্ব দিয়ে প্রধানমন্ত্রী বলেন, অভিন্ন ভৌগোলিক অবস্থানকে অভিন্ন সমৃদ্ধিতে রূপ দিতে আরও গভীর দ্বিপক্ষীয় ও বহুপক্ষীয় সম্পৃক্ততা প্রয়োজন। বাণিজ্য, জ্বালানি, শিক্ষা, প্রযুক্তি, জলবায়ু ও সমুদ্র খাতে সহযোগিতা সম্প্রসারণের পাশাপাশি নতুন বাজার সৃষ্টি এবং তরুণদের জন্য আরও সুযোগ তৈরির ওপরও গুরুত্ব দেন তিনি।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘বাংলাদেশ সংলাপ, অংশীদারিত্ব ও পারস্পরিক শ্রদ্ধাবোধে বিশ্বাসী। জাতীয় স্বার্থ ও সার্বভৌমত্ব রক্ষার পাশাপাশি বাংলাদেশ তার সব আঞ্চলিক ও বৈশ্বিক অংশীদারের সঙ্গে ইতিবাচকভাবে কাজ করে যাবে। কারণ শান্তি ও সম্প্রীতিই হলো যৌথ সমৃদ্ধি ও উন্নয়নের মূল ভিত্তি।’

বঙ্গোপসাগরীয় অঞ্চলকে এমন একটি এলাকায় পরিণত করার আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, যেখানে প্রতিটি রাষ্ট্র একসঙ্গে বিকশিত হবে, পারস্পরিক সুবিধা গ্রহণ করবে এবং নাগরিকরা অর্থবহ সহযোগিতার সুযোগ পাবে। বাংলাদেশ এ ক্ষেত্রে নিজের ভূমিকা পালনে প্রস্তুত বলেও জানান তিনি।

বাংলাদেশকে নিরাপদ ও আকর্ষণীয় বিনিয়োগের গন্তব্য হিসেবে গড়ে তুলতে সরকার কাজ করছে বলেও জানান প্রধানমন্ত্রী। তিনি বলেন, সমতা, স্বচ্ছতা ও পারস্পরিক সম্মানের ভিত্তিতে সম্পর্ক গড়ে তুলতে চায় বাংলাদেশ। উৎপাদন, সেবা ও রপ্তানি খাতে ব্যাপক কর্মসংস্থান সৃষ্টির লক্ষ্য রয়েছে সরকারের। বিনিয়োগকারীদের জন্য দীর্ঘমেয়াদি নীতির ধারাবাহিকতা নিশ্চিত করার ওপরও গুরুত্ব দেন তিনি।

বিশাল তরুণ জনগোষ্ঠীকে দেশের অগ্রগতির অন্যতম চালিকাশক্তি উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, এই জনমিতিক সুবিধা কাজে লাগাতে দক্ষতা উন্নয়ন ও উপযুক্ত কর্মসংস্থান নিশ্চিত করা জরুরি। ভাষাগত দক্ষতা, প্রযুক্তিগত রূপান্তর, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার ব্যবহার, উদ্ভাবন, উদ্যোক্তা উন্নয়ন ও স্টার্টআপে সহায়তার ওপর সরকার গুরুত্ব দিচ্ছে বলে জানান তিনি। তরুণদের বিশ্বমঞ্চে প্রতিযোগিতার উপযোগী করে গড়ে তোলা এবং ‘ব্রেইন ড্রেন’কে ‘ব্রেইন সার্কুলেশন’-এ রূপান্তরের কথাও বলেন প্রধানমন্ত্রী।

সামাজিক সুরক্ষা কর্মসূচির বিষয়ে তিনি বলেন, ফ্যামিলি কার্ডসহ বিভিন্ন কার্ডের সমন্বয়ে প্রত্যেক নাগরিককে একটি ইউনিভার্সেল কার্ড দেওয়ার পরিকল্পনা রয়েছে। শিশুদের জন্য আনন্দময় শিক্ষা নিশ্চিত করতে ইউনিফর্ম, মিড ডে মিলসহ বিভিন্ন সুবিধা দেওয়ার উদ্যোগের কথাও জানান তিনি। একই সঙ্গে স্বচ্ছতা, জবাবদিহিতা ও মতপ্রকাশের স্বাধীনতার ওপর গুরুত্ব দেন প্রধানমন্ত্রী।

কৃষি ও পানি নিরাপত্তার বিষয়ে প্রধানমন্ত্রী বলেন, প্রযুক্তি, সেচ, কৃষি অর্থায়ন ও কৃষিপণ্যের বাজারসংযোগ আরও সহজলভ্য করা হচ্ছে। মৎস্য, প্রাণিসম্পদ ও গ্রামীণ উদ্যোক্তাদের সহায়তার পাশাপাশি কৃষি প্রক্রিয়াজাতকরণ ও কৃষিপণ্য রপ্তানি শিল্পকে এগিয়ে নেওয়ার প্রয়োজনীয়তার কথাও তুলে ধরেন তিনি।

পানি নিরাপত্তায় আগামী পাঁচ বছরে ২০ হাজার কিলোমিটার খাল ও জলপথ খননের পরিকল্পনার কথা জানান প্রধানমন্ত্রী। পানি সংরক্ষণ ও ব্যবস্থাপনার জন্য পদ্মা ব্যারাজ প্রকল্প এগিয়ে নেওয়া এবং তিস্তা মহাপরিকল্পনা তৈরির কথাও বলেন তিনি। এসব উদ্যোগ কৃষিকে সহায়তার পাশাপাশি জলবায়ু সহনশীলতা বাড়াতে ভূমিকা রাখবে বলে উল্লেখ করেন।

পরিবেশ সুরক্ষায় আগামী পাঁচ বছরে ২৫ কোটি গাছ লাগানোর পরিকল্পনার কথাও জানান প্রধানমন্ত্রী। সৌরবিদ্যুতের ব্যবহার বাড়ানো, বর্জ্য পুনর্ব্যবহার এবং পরিবেশবান্ধব গ্রিন ফ্যাক্টরি স্থাপনের ওপর গুরুত্ব দেওয়ার কথা বলেন তিনি। পরিচ্ছন্ন ও পরিবেশবান্ধব শহর গড়ে তোলার মাধ্যমে বর্জ্য কমানো, জলবায়ু সহনশীলতা বাড়ানো এবং অর্থনীতিকে আরও গতিশীল করার ওপরও গুরুত্বারোপ করেন।

প্রাতিষ্ঠানিক সংস্কারের বিষয়ে প্রধানমন্ত্রী বলেন, উন্নয়নের জন্য শক্তিশালী রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠান অপরিহার্য। প্রাতিষ্ঠানিক স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা জোরদার করার পাশাপাশি মানবাধিকার, গণতান্ত্রিক মূল্যবোধ ও মতপ্রকাশের স্বাধীনতা সুরক্ষিত রাখার কথা বলেন তিনি। আইনের শাসন প্রতিটি নাগরিকের জন্য সমানভাবে প্রযোজ্য হওয়ার ওপরও গুরুত্ব দেন প্রধানমন্ত্রী।

রোহিঙ্গা সংকটের প্রসঙ্গে তিনি বলেন, বাংলাদেশ এখনো প্রায় ১৩ লাখ রোহিঙ্গা শরণার্থীকে আশ্রয় দিয়ে যাচ্ছে। তাদের প্রত্যাবাসনের জন্য আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের রাজনৈতিক সমর্থন ও অর্থায়ন প্রয়োজন। একই সঙ্গে সংকটের মূল কারণগুলোর সমাধানও জরুরি উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘যে সংকটের উৎপত্তি মিয়ানমারে, তার সমাপ্তিও হতে হবে মিয়ানমারেই।’

এবারের বে অব বেঙ্গল কনভারসেশনে শতাধিক দেশের অংশগ্রহণকারী এবং প্রায় ২০০ বক্তা অংশ নিচ্ছেন। সম্মেলনে ভূরাজনীতি ও নিরাপত্তা, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা ও সাইবারস্পেস, বাণিজ্য ও সংযোগ, জলবায়ু ও মানব নিরাপত্তা এবং গণতন্ত্র ও সুশাসনসহ বিভিন্ন বিষয়ে আলোচনা হচ্ছে।





স্বদেশ প্রতিদিন/এস পি


আরও সংবাদ   বিষয়:  তারেক রহমান   প্রধানমন্ত্রী   বঙ্গোপসাগর   বে অব বেঙ্গল কনভারসেশন   বাংলাদেশ   বিনিয়োগ   তরুণদের দক্ষতা   পানি নিরাপত্তা   রোহিঙ্গা   জলবায়ু   অর্থনীতি  






Loading...
Loading...
এই ক্যাটেগরির আরো সংবাদ  
অনুসরণ করুন
     
সম্পাদক ও প্রকাশক : মোঃ মজিবুর রহমান চৌধুরী
স্বদেশ গ্লোবাল মিডিয়া লিমিটেড -এর পক্ষে প্রকাশক কর্তৃক সিটি পাবলিশিং লি, আর কে মিশন রোড, ঢাকা-১২০৩ থেকে মুদ্রিত ও ১০, তাহের টাওয়ার, গুলশান সার্কেল-২ থেকে প্রকাশিত।
ফোন: ৯৮৫১৬২০, ৮৮৩২৬৪-৬, ফ্যাক্স: ৮৮০-২-৯৮৯৩২৯৫। ই-মেইল : [email protected], [email protected]
🔝
close
অনুসরণ করুন
     
সম্পাদক ও প্রকাশক : মোঃ মজিবুর রহমান চৌধুরী
স্বদেশ গ্লোবাল মিডিয়া লিমিটেড -এর পক্ষে প্রকাশক কর্তৃক সিটি পাবলিশিং লি, আর কে মিশন রোড, ঢাকা-১২০৩ থেকে মুদ্রিত ও ১০, তাহের টাওয়ার, গুলশান সার্কেল-২ থেকে প্রকাশিত।
ফোন: ৯৮৫১৬২০, ৮৮৩২৬৪-৬, ফ্যাক্স: ৮৮০-২-৯৮৯৩২৯৫। ই-মেইল : [email protected], [email protected]
🔝
close