প্রকাশ: বৃহস্পতিবার, ১ অক্টোবর, ২০২৬, ১১:০২ AM

চাঁপাইনবাবগঞ্জ সদর উপজেলার পদ্মা নদীর চরাঞ্চলে জামায়াত নেতা মুসা মাওলানার ভাতিজার বাড়িতে মজুদ থাকা ককটেল বিস্ফোরণের ঘটনা ঘটেছে। সোমবার (২৮ সেপ্টেম্বর) রাতে বিকট শব্দে একের পর এক বিস্ফোরণে বাড়িটির একটি ঘরের একাংশ ভেঙে পড়ে এবং টিনের চালা উড়ে যায়। তবে এ ঘটনায় কোনো হতাহতের খবর পাওয়া যায়নি।
ঘটনার পর মঙ্গলবার (২৯ সেপ্টেম্বর) রাতে সদর থানায় পুলিশ বাদী হয়ে একটি মামলা করেছে। মামলায় বাড়ির মালিক পলাতক ইউনূস আলীর ছেলে ইয়াহিয়া হোসেন ওরফে এহু হোসেন এবং তাঁর স্ত্রীর নাম উল্লেখ করে অজ্ঞাতনামা আরও দুই-তিনজনকে আসামি করা হয়েছে।
বুধবার (৩০ সেপ্টেম্বর) দুপুরে বিষয়টি নিশ্চিত করেন অতিরিক্ত পুলিশ সুপার এ এস এম ওয়াসিম ফিরোজ। তিনি জানান, পলাতক আসামিদের গ্রেপ্তারে অভিযান শুরু করেছে পুলিশ। দুর্গম এলাকা হলেও পুলিশ ও বিজিবির নজরদারি রয়েছে। পরিস্থিতি সম্পূর্ণ স্বাভাবিক এবং পুলিশের নিয়ন্ত্রণে রয়েছে বলেও জানান তিনি।
স্থানীয়দের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, নারায়ণপুর ইউনিয়নের জহুরপুর নরোশিয়া গ্রামের ওই বাড়িতে বিস্ফোরণের পর এলাকায় উৎকণ্ঠা তৈরি হয়েছে। মাটির নিচে থাকা ককটেল বিস্ফোরিত হওয়ায় সেখানে আরও কোনো ককটেল পুঁতে রাখা হয়েছে কি না, তা নিয়ে স্থানীয়দের মধ্যে শঙ্কা রয়েছে। ঘটনাস্থল পুলিশ ঘিরে রেখেছে। বাড়িটির অন্যান্য ঘর তালাবদ্ধ অবস্থায় দেখা গেছে।
স্থানীয়রা জানান, ইয়াহিয়া হোসেন পেশায় মাছ ব্যবসায়ী। সীমান্তসংলগ্ন নতুন সাঁকো এলাকায় একটি মাছের ঘেরের নিয়ন্ত্রণ নিয়ে তাঁর সঙ্গে একটি পক্ষের বিরোধ রয়েছে। আধিপত্য বিস্তারকে কেন্দ্র করে ওই ককটেলগুলো মজুদ করা হয়ে থাকতে পারে বলে স্থানীয়দের ধারণা। তবে এ বিষয়ে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর পক্ষ থেকে নিশ্চিত কোনো তথ্য পাওয়া যায়নি।
বাড়ির মালিক ইয়াহিয়া হোসেন ও তাঁর পরিবারের সদস্যরা ঘটনার পর থেকে পলাতক রয়েছেন। সোমবার রাত ৮টার দিকে বিকট শব্দে একের পর এক বিস্ফোরণ ঘটলে স্থানীয়দের মধ্যে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে।
এদিকে বিস্ফোরিত ককটেলের সঠিক সংখ্যা এখনো নিশ্চিত হওয়া যায়নি। স্থানীয়দের কেউ কেউ প্রায় অর্ধশতাধিক ককটেল বিস্ফোরণের কথা বললেও পুলিশ, বিজিবি বা গোয়েন্দা সংস্থার পক্ষ থেকে নির্দিষ্ট সংখ্যা জানানো হয়নি। ফলে ঠিক কতটি ককটেল বিস্ফোরিত হয়েছে, তা এখনো নিশ্চিত নয়।
স্বদেশ প্রতিদিন/এস পি