প্রকাশ: বুধবার, ৩০ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ১১:৪৬ AM

রাশিয়া থেকে বাংলাদেশের রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্রের দ্বিতীয় ইউনিটের জন্য পাঠানো পারমাণবিক জ্বালানি পরিবহনে আকাশসীমা ব্যবহারের অনুমতি না দেওয়ার কারণ ব্যাখ্যা করেছে পাকিস্তান। দেশটির পক্ষ থেকে বিষয়টিকে ‘কারিগরি ও প্রক্রিয়াগত’ সমস্যা হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে। খবর এএনআইয়ের।
মঙ্গলবার (২৯ সেপ্টেম্বর) ঢাকায় পাকিস্তান হাইকমিশনের এক বিবৃতিতে বলা হয়, কূটনৈতিক ফ্লাইট ও আকাশসীমা ব্যবহারের অনুমতির আবেদন নির্ধারিত নিয়ম ও বেসামরিক বিমান চলাচল প্রোটোকল অনুযায়ী প্রক্রিয়া করা হয়।
হাইকমিশন জানায়, সংশ্লিষ্ট বিষয়টি ফ্লাইট রুট নির্ধারণ ও আকাশসীমা ব্যবহারের অনুমতির সঙ্গে সম্পর্কিত কারিগরি ও প্রক্রিয়াগত ব্যবস্থাপনার বলে মনে হচ্ছে। এ ধরনের ক্ষেত্রে সংশ্লিষ্ট বিমান চলাচল ও অন্যান্য কর্তৃপক্ষের মধ্যে সমন্বয়ের প্রয়োজন হতে পারে। এর ফলে কখনো কখনো ফ্লাইটের সময়সূচিতে পরিবর্তন আসতে পারে।
পাকিস্তান হাইকমিশন আরও বলেছে, বাংলাদেশের সঙ্গে সম্পর্ককে তারা অত্যন্ত গুরুত্ব দেয়। তাই বিষয়টিকে যথাযথ কারিগরি প্রেক্ষাপটে দেখা উচিত এবং এমন কোনো প্রতিবেদন বা বয়ানকে অতিরিক্ত গুরুত্ব দেওয়া উচিত নয়, যা দুই দেশের দ্বিপক্ষীয় সম্পর্ককে ক্ষতিগ্রস্ত করতে পারে।
এর আগে রাশিয়া থেকে রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্রের দ্বিতীয় ইউনিটের জন্য পাঠানো প্রথম দফার পারমাণবিক জ্বালানি ২৪ সেপ্টেম্বর বাংলাদেশে পৌঁছানোর কথা ছিল। তবে পাকিস্তানের আকাশসীমা ব্যবহারের অনুমতি না পাওয়ায় নির্ধারিত সময়ে চালানটি পৌঁছায়নি। বাংলাদেশের বিজ্ঞান ও প্রযুক্তিমন্ত্রী ফকির মাহবুব আনাম বিষয়টি নিশ্চিত করে জানিয়েছিলেন, রাশিয়া অক্টোবরের প্রথম সপ্তাহে জ্বালানি পৌঁছানোর নতুন সময় জানিয়েছে।
রোসাটমের পক্ষ থেকেও জানানো হয়েছে, রূপপুরের দ্বিতীয় ইউনিটের পারমাণবিক জ্বালানি সরবরাহ অক্টোবর থেকে আবার শুরু হবে এবং ডিসেম্বরের মধ্যে চালানগুলো সম্পন্ন করার পরিকল্পনা রয়েছে। বিকল্প রুট ব্যবহার করে কয়েকটি ফ্লাইটে অবশিষ্ট জ্বালানি বাংলাদেশে পৌঁছানোর কথা রয়েছে।
রাশিয়ার রাষ্ট্রীয় পারমাণবিক শক্তি করপোরেশন রোসাটমের সহায়তায় পাবনার ঈশ্বরদীতে নির্মিত হচ্ছে বাংলাদেশের প্রথম পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্র রূপপুর। প্রকল্পটিতে তৃতীয় প্রজন্মের দুটি ভিভিইআর-১২০০ চুল্লি নির্মাণ করা হচ্ছে। দুটি ইউনিট থেকে মোট ২ হাজার ৪০০ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ উৎপাদনের পরিকল্পনা রয়েছে।
এর আগে রূপপুরের প্রথম ইউনিটের জন্য রাশিয়া থেকে পারমাণবিক জ্বালানি বাংলাদেশে আনা হয়। ২০২৩ সালে প্রথম ইউনিটের জ্বালানি সরবরাহ সম্পন্ন করে রোসাটম।
স্বদেশ প্রতিদিন/এস পি