
কুমিল্লার নাঙ্গলকোটে ভাড়াটিয়া চুক্তিনামার শর্ত ভঙ্গ করে বাঙ্গড্ডা ফাজিল ডিগ্রি মাদ্রাসা মার্কেটের ৭টি দোকান জোরপূর্বক দখল করে রাখার অভিযোগ উঠেছে ভাড়াটিয়াদের বিরুদ্ধে। এ ছাড়া ভাড়াটিয়াগণ চুক্তিনামায় উল্লেখিত শর্ত ভঙ্গ করে অবৈধভাবে দোকানগুলোকে অন্যদের কাছে কয়েক গুণ বেশি জামানত ও ভাড়ায় হস্তান্তর করার অভিযোগ রয়েছে।
এ ঘটনায় বারবার নোটিশ দিয়ে ব্যর্থ হয়ে দোকানগুলোতে গত সোমবার তালা ঝুলিয়ে দেয় মাদ্রাসা কর্তৃপক্ষ। এতে ক্ষিপ্ত হয়ে মাদ্রাসা অধ্যক্ষ মাওলানা মনিরুল ইসলাম ও সহকারী অধ্যাপক আব্দুল হাইয়ের বিরুদ্ধে ঘুষ দাবির মিথ্যা অভিযোগ এনে অপপ্রচার চালান মাদ্রাসার দোকানঘর অবৈধভাবে দখলে রাখা মধ্যস্বত্বভোগী নিজাম উদ্দিন ও বিল্লাল হোসেন।
এ অপপ্রচারের প্রতিবাদে মঙ্গলবার বিকেলে মাদ্রাসা প্রাঙ্গণে সংবাদ সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয়। সংবাদ সম্মেলন শেষে মাদ্রাসার শিক্ষার্থীরা বাঙ্গড্ডা বাজারে বিক্ষোভ মিছিল করেন।
সংবাদ সম্মেলনে বক্তব্য রাখেন বাঙ্গড্ডা ফাজিল ডিগ্রি মাদ্রাসার অধ্যক্ষ মাওলানা মনিরুল ইসলাম, উপাধ্যক্ষ মাওলানা জাকির হোসেন, সহকারী অধ্যাপক আব্দুল হাই, খোরশেদ আলম ও মুহাদ্দিস রফিকুল্লাহ আফসারী।
সংবাদ সম্মেলনে বক্তারা বলেন, ভাড়াটিয়া নামের মধ্যস্বত্বভোগীদের কারণে মাদ্রাসা কর্তৃপক্ষ বিগত সরকারের পতনের পর ২০২৪ সালের নভেম্বর মাসে জেলা প্রশাসক কার্যালয়ের তোপের মুখে পড়ে। জেলা প্রশাসক কার্যালয় গোপনে তথ্য সংগ্রহ করে দেখতে পায়, মাদ্রাসার নথিতে উল্লেখিত টাকার চেয়ে কয়েক গুণ বেশি জামানত ও ভাড়ায় ব্যবসা করছেন ব্যবসায়ীরা।
পরে মাদ্রাসা কর্তৃপক্ষের তথ্যের সত্যতার ভিত্তিতে মেয়াদোত্তীর্ণ অসাধু মধ্যস্বত্বভোগীদের কাছ থেকে দোকানঘরগুলো উদ্ধারের নির্দেশনা প্রদান করেন তৎকালীন মাদ্রাসা গভর্নিং বডির সভাপতি ও কুমিল্লার অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক তৌহিদুর রহমান। অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক তৌহিদুর রহমান মাদ্রাসার ৯৬ নম্বর সভার রেজুলেশনে এ নির্দেশনা প্রদান করেন।
পরে একই বিষয়ে বর্তমান সভাপতি ডক্টর হেদায়েতুল্লাহ ২০২৫ সালের ডিসেম্বর মাসে ১০৯ নম্বর সভার রেজুলেশনে একই সিদ্ধান্ত প্রদান করেন। সভাপতিদের নির্দেশনায় মাদ্রাসা কর্তৃপক্ষ মেয়াদোত্তীর্ণ ভাড়াটিয়াদের বারবার নোটিশ প্রদান করে। ভাড়াটিয়াগণ সাড়া না দেওয়ায় সর্বশেষ তালা ঝুলিয়ে দেওয়া হয়।
এ ছাড়া বক্তারা অপপ্রচারকারীদের বিরুদ্ধে আইনগত পদক্ষেপ গ্রহণ করবেন বলে জানান।
সংবাদ সম্মেলনে উপস্থিত ছিলেন সমাজসেবক খোরশেদ আলম, আমজাদ হোসেন, মাদ্রাসা গভর্নিং বডির সদস্য আব্দুল গফুর মজুমদারসহ মাদ্রাসার শিক্ষক-শিক্ষার্থী ও এলাকাবাসী।
অপপ্রচারের ঘটনায় অভিযুক্ত নিজাম উদ্দিন ও বিল্লাল হোসেনকে দোকানে গিয়ে না পাওয়ায় বক্তব্য নেওয়া সম্ভব হয়নি।
নাঙ্গলকোট উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা আবু রায়হান বলেন, বিষয়টি আমি জেনেছি। মাদ্রাসা কমিটি ও স্থানীয়রা বসে সমাধান করতে পারলে ভালো। আমার কাছে এলে কাগজপত্র দেখে প্রয়োজনীয় সহায়তা প্রদান করা হবে।
স্বদেশ প্রতিদিন/এফএইচ