প্রকাশ: মঙ্গলবার, ২৯ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ১:০৬ পিএম

পটুয়াখালীর মির্জাগঞ্জে পায়রা নদীর তীব্র ভাঙন শুরু হয়েছে। হঠাৎ পানি বৃদ্ধি ও স্রোতের তীব্রতায় নদীতীরবর্তী কয়েকশ পরিবার চরম আতঙ্কের মধ্যে দিন কাটাচ্ছেন। ভাঙনে ইতোমধ্যে নদীর পাড়ে বড় বড় ধস দেখা দিয়েছে। ভিটেমাটি নদীতে বিলীন হয়ে যাওয়ায় ঘরে পানি ওঠার আশঙ্কায় হাজিখালী এলাকার অনেক বাসিন্দা সারারাত জেগে কাটিয়েছেন।
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, গতকাল রাতে হঠাৎ করে পায়রা নদীর পানি বাড়তে শুরু করে। পরে তীব্র স্রোতে নদীর পাড়ে ভাঙন দেখা দেয়। এতে নদীতীরবর্তী এলাকায় আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে। ভাঙনের কারণে অনেক পরিবার তাদের বসতভিটা নিয়ে উদ্বিগ্ন হয়ে পড়েছেন।
ভাঙনকবলিত এলাকার বাসিন্দাদের অভিযোগ, টেকসই নদী প্রতিরক্ষা বাঁধ না থাকায় প্রতি বছরই তাদের জীবন ও সম্পদ হারানোর আশঙ্কায় থাকতে হয়। এলাকার বয়স্ক বাসিন্দা মো. কালু সিকদার ও ইসমাইল হোসেন জানান, প্রায় ১৯৯০ সালের দিকে এখানে সর্বশেষ বড় ধরনের বাঁধ নির্মাণ করা হয়েছিল। পরবর্তীতে প্রয়াত সাবেক ধর্ম প্রতিমন্ত্রী অ্যাডভোকেট মো. শাহজাহান মিয়া বাঁধটি সংস্কার ও সংরক্ষণে কিছু কাজ করেছিলেন। এরপর দীর্ঘ সময় পেরিয়ে গেলেও নদীতীরবর্তী মানুষের সুরক্ষা কিংবা বাঁধ সংস্কারে কার্যকর কোনো পদক্ষেপ নেওয়া হয়নি বলে অভিযোগ তাদের।
ভাঙনের ঘটনায় ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন স্থানীয় রাজনৈতিক ও সামাজিক নেতৃবৃন্দ। উপজেলা বিএনপির তথ্যবিষয়ক সম্পাদক মো. বায়জিদ হোসেন মল্লিক বলেন, ‘গতকাল রাতের আকস্মিক ভাঙনে পুরো হাজিখালীর সাধারণ মানুষ দিশেহারা হয়ে পড়েছিল। অত্যন্ত দুঃখের বিষয় হলো, এখন পর্যন্ত আমরা প্রশাসনের পক্ষ থেকে কোনো দৃশ্যমান বা কার্যকর ভূমিকা দেখতে পাইনি। দীর্ঘদিন ধরে বাঁধ নির্মাণের প্রতিশ্রুতি দেওয়া হলেও তা বাস্তবায়ন হয়নি। আমরা দ্রুততম সময়ে নদীর তীর রক্ষায় বাঁধ নির্মাণের দাবি জানাচ্ছি।’
হাজিখালী ও বিকাখালীর বাসিন্দারা বলেন, নাগরিক হিসেবে নিরাপত্তা পাওয়া তাদের মৌলিক অধিকার। প্রতি বছর কেন তাদের নদীভাঙনের আতঙ্কে দিন কাটাতে হবে—এমন প্রশ্ন তুলে তারা অনতিবিলম্বে পায়রা নদীর তীর রক্ষায় স্থায়ী ও টেকসই বাঁধ নির্মাণের দাবি জানিয়েছেন। একই সঙ্গে নদীভাঙন থেকে বসতভিটা ও মানুষের জীবন-জীবিকা রক্ষায় সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের জরুরি হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন তারা।
স্বদেশ প্রতিদিন/এস পি