
মোংলা (বাগেরহাট) প্রতিনিধি: সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ও মুঠোফোনে প্রেমের সম্পর্ক গড়ে তুলে ভিডিও কলে বিয়ের আয়োজনের মাধ্যমে সৌদি আরবপ্রবাসী এক ব্যক্তির কাছ থেকে প্রায় চার লাখ টাকা আত্মসাতের অভিযোগ উঠেছে মোংলার এক তরুণীর বিরুদ্ধে। ভুক্তভোগী প্রবাসী জাফরের অভিযোগ, বিভিন্ন অজুহাতে দফায় দফায় টাকা নেওয়ার পর ওই তরুণী তাঁর সঙ্গে যোগাযোগ বন্ধ করে দিয়েছেন। এ ঘটনায় আইনি পদক্ষেপ নেওয়ার প্রস্তুতি নিচ্ছেন বলে জানিয়েছেন তিনি।
ভুক্তভোগীর ভাষ্য অনুযায়ী, মোংলা পোর্ট পৌরসভার শেহরতলী পূর্ব কবরস্থান রোডের বাসিন্দা ওই তরুণীর সঙ্গে সৌদি আরবপ্রবাসী জাফরের মুঠোফোনে পরিচয় হয়। জাফরের বাড়ি কুমিল্লা জেলায়। পরিচয়ের পর তাঁদের মধ্যে কুশল বিনিময় থেকে ঘনিষ্ঠতা তৈরি হয়। একপর্যায়ে মেসেঞ্জার ও হোয়াটসঅ্যাপে নিয়মিত কথাবার্তা শুরু হয়। এভাবে তাঁদের সম্পর্ক প্রায় দুই বছর গড়ায়।
জাফরের অভিযোগ, সম্পর্ক চলাকালে বিভিন্ন সময়ে নানা অজুহাতে বিকাশ ও নগদের মাধ্যমে তাঁর কাছ থেকে প্রায় চার লাখ টাকা নেওয়া হয়। এ ছাড়া ভিডিও বার্তার মাধ্যমে এক কাজির উপস্থিতিতে তাঁদের বিয়ে হয়েছে বলেও দাবি করেন তিনি। তবে ওই বিয়ের আইনগত বৈধতা সম্পর্কে কোনো স্বাধীন তথ্য পাওয়া যায়নি।
প্রবাসী জাফর জানান, সম্প্রতি ওই তরুণী তাঁর সঙ্গে প্রায় দুই মাস ধরে যোগাযোগ বন্ধ রেখেছেন। মাঝেমধ্যে যোগাযোগের চেষ্টা করলে কখনো সাড়া দিলেও পরে আবার যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন করে দেন। একই সঙ্গে তাঁকে বিভিন্নভাবে হুমকি-ধমকি দেওয়া হচ্ছে বলেও অভিযোগ করেছেন তিনি।
জাফরের দাবি, এসব ঘটনার পর তিনি বুঝতে পারেন, প্রেমের সম্পর্ক ও বিয়ের আশ্বাসের আড়ালে তাঁকে অর্থের ফাঁদে ফেলা হয়েছে। তাঁর ভাষায়, এটি পরিকল্পিত প্রতারণা।
এ ধরনের ঘটনায় উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন স্থানীয় সচেতন ব্যক্তিরা। তাঁদের দাবি, প্রবাসীদের সঙ্গে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে সম্পর্ক গড়ে তুলে অর্থ আদায়ের ঘটনা প্রতিরোধে কার্যকর পদক্ষেপ প্রয়োজন। প্রবাসীদের কষ্টার্জিত অর্থ এভাবে হাতছাড়া হলে তাঁদের পরিবারগুলো আর্থিক ও মানসিক সংকটে পড়তে পারে।
ভুক্তভোগী জানিয়েছেন, এ বিষয়ে আইনি পদক্ষেপ নেওয়ার প্রস্তুতি নিচ্ছেন তিনি। তাঁর কাছে ভিডিও বিয়ের দৃশ্যসহ বিভিন্ন প্রমাণ সংরক্ষিত রয়েছে বলেও দাবি করেছেন।
এ বিষয়ে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর বক্তব্য হিসেবে প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, সুনির্দিষ্ট অভিযোগ পেলে সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
তবে অভিযুক্ত তরুণীর বক্তব্য, অভিযোগের বিষয়ে তাঁর কোনো প্রতিক্রিয়া কিংবা পুলিশের তদন্তের বিস্তারিত পাওয়া যায়নি। অভিযোগের সত্যতা ও অর্থ লেনদেনের প্রকৃত ঘটনা তদন্তের মাধ্যমে নিশ্চিত হওয়া প্রয়োজন।
স্বদেশ প্রতিদিন/এস পি