
পটুয়াখালীর বাউফলে পল্লী উন্নয়ন বোর্ডের (বিআরডিবি) একটি প্রকল্পের মাঠ সংগঠক মো. সাইদুর রহমান নাজমুলের বিরুদ্ধে গ্রাহকদের কাছ থেকে প্রায় ৩ লাখ টাকা উত্তোলন করে অফিসে জমা না দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে।
এ ঘটনায় গঠিত তদন্ত কমিটি অর্থ আত্মসাতের প্রমাণ পাওয়ার কথা জানিয়েছে। তবে দীর্ঘ সময় পেরিয়ে গেলেও অভিযুক্তের বিরুদ্ধে কার্যকর আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি বলে অভিযোগ রয়েছে।
বিআরডিবি সূত্র জানায়, দারিদ্র্য নারীদের জন্য সমন্বিত পল্লী উন্নয়ন ও কর্মসংস্থান সহায়তা প্রকল্পের (ইরেসপো) দ্বিতীয় পর্যায়ের মাঠ সংগঠক হিসেবে দায়িত্ব পালন করছিলেন সাইদুর রহমান নাজমুল। ২০২৫ সালের ১ জানুয়ারি থেকে তিনি কর্মস্থলে অনুপস্থিত রয়েছেন। এ সময় গ্রাহকদের কাছ থেকে উত্তোলন করা অর্থ অফিসে জমা দেওয়া হয়নি। পরপর দুটি নোটিশ দেওয়ার পরও তার সন্ধান না পাওয়ায় ১২ জানুয়ারি তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়।
তদন্ত কমিটির প্রতিবেদনে বলা হয়, সাইদুর রহমানের দায়িত্বপ্রাপ্ত ব্লকের ১২টি সমিতি সরেজমিনে পরিদর্শন করা হয়। এ সময় সদস্যদের পাসবইয়ের সঙ্গে অফিসের হিসাবের গরমিল পাওয়া যায়। এতে প্রায় ৩ লাখ টাকা আত্মসাতের প্রমাণ পাওয়া গেছে বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়।
অভিযোগ রয়েছে, রাজনৈতিক প্রভাব ও ঊর্ধ্বতন পর্যায়ের সুপারিশের কারণে সাইদুর রহমানের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিতে বিলম্ব হচ্ছে। স্থানীয় সূত্রের দাবি, তৎকালীন পটুয়াখালী জেলা ছাত্রলীগের সভাপতি হাসান শিকদারের রেফারেন্স এবং বিআরডিবির তৎকালীন মহাপরিচালকের একান্ত সচিব (পিএস) ও উপপরিচালক সাদেকুর রহমানের সুপারিশে সাইদুর চাকরি পেয়েছিলেন।
এ বিষয়ে জানতে চাইলে সাদেকুর রহমান সাইদুরের নিয়োগের সময় তার সঙ্গে যোগাযোগের বিষয়টি স্বীকার করেন। তবে নিয়োগে তার সুপারিশের বিষয়ে তিনি বিস্তারিত মন্তব্য করেননি।
সাদেকুর রহমানের বিরুদ্ধে ২০১৫ সালে তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়ার গাড়িতে হামলা, ভাঙচুর ও অগ্নিসংযোগের ঘটনায় দায়ের করা মামলায় এজাহারভুক্ত আসামি থাকার বিষয়েও জানতে চাওয়া হয়। তিনি মামলায় আসামি থাকার বিষয়টি স্বীকার করে বলেন, মামলা থেকে অব্যাহতি পাওয়ার জন্য সরকারি বিধান অনুযায়ী ঢাকা মহানগর পুলিশ (ডিএমপি) কমিশনারের কাছে আবেদন করেছেন।
তবে এসব বিষয়ই সাইদুর রহমানের বিরুদ্ধে অর্থ আদায় বা আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণে বিলম্বের কারণ কি না, সে বিষয়ে সংশ্লিষ্টদের বক্তব্যে স্পষ্ট ব্যাখ্যা পাওয়া যায়নি।
অভিযোগের বিষয়ে সাইদুর রহমান নাজমুল বলেন, ‘টাকা পাওনা আছে, আমি পরিশোধ করে দেব। হেড অফিসের সঙ্গে কথা হয়েছে।’
বাউফল বিআরডিবি কার্যালয়ের সহকারী কর্মকর্তা (ইরেসপো) নাজমুন নাহার ইরানি অভিযোগের সত্যতা স্বীকার করে বলেন, ‘তদন্ত প্রতিবেদন ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের কাছে পাঠানো হয়েছে। নির্দেশ পেলে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’
পটুয়াখালী জেলা বিআরডিবির উপপরিচালক হাসানুল হক মোল্লা বলেন, ‘বিষয়টি হেড অফিস সরাসরি মনিটরিং করছে। পরে জেনেছি, আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।’
ইরেসপো হেড অফিসের উপপ্রকল্প পরিচালক এ এস এম সোলেমান বলেন, ‘তদন্ত প্রতিবেদনের ভিত্তিতে আইনি পদক্ষেপ নিতে বলা হয়েছিল। তবে অভিযুক্তের টাকা ফেরত দেওয়ার আশ্বাস ও উচ্চপর্যায়ের হস্তক্ষেপের কারণে বিলম্ব হচ্ছে।’
তিনি আরও বলেন, অভিযোগের বিষয়ে টাকা উদ্ধারে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নিতে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
স্বদেশ প্রতিদিন/এফএইচ