প্রকাশ: শনিবার, ১৯ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ৩:১৬ পিএম

ল্যাবরেটরিতে তৈরি মানুষের মস্তিষ্কের টিস্যু বিশেষ প্রক্রিয়ায় ইঁদুরের দেহে প্রতিস্থাপন করেছেন বিজ্ঞানীরা। বিখ্যাত বিজ্ঞানভিত্তিক জার্নাল ‘নেচার’-এ প্রকাশিত এই গবেষণাটি পরিচালনা করেছেন স্ট্যানফোর্ড ইউনিভার্সিটির স্নায়ুবিজ্ঞানী সের্জিউ পাসকা। বিজ্ঞানীদের দাবি, এই সাফল্য মানুষের মস্তিষ্কের বিকাশ এবং বিভিন্ন জটিল মানসিক ও স্নায়বিক রোগের কারণ ও কার্যপদ্ধতি বোঝার ক্ষেত্রে নতুন সম্ভাবনার দ্বার উন্মুক্ত করেছে।
গবেষণার পদ্ধতি ও প্রক্রিয়া
স্টেম সেল থেকে অর্গানয়েড তৈরি: গবেষণার শুরুতে বিজ্ঞানীরা মানুষের ত্বক বা রক্তের কোষকে রিপ্রোগ্রাম করে স্টেম কোষে রূপান্তর করেন। পরবর্তীতে এসব কোষ থেকে মানুষের সেরিব্রাল কর্টেক্সের বিভিন্ন বৈশিষ্ট্যযুক্ত ত্রিমাত্রিক অর্গানয়েড তৈরি করা হয়।
ইঁদুরের মস্তিষ্কে প্রতিস্থাপন: যেসব ইঁদুরের নিজস্ব সেরিব্রাল কর্টেক্স ও হিপোক্যাম্পাসের কোষের বিকাশ জিনগতভাবে বাধাগ্রস্ত ছিল, তাদের জন্মের পরপরই এই মানব কর্টিকাল অর্গানয়েড প্রতিস্থাপন করা হয়।
কার্যকর সংযোগ স্থাপন: প্রতিস্থাপনের পর এই টিস্যুগুলো বিভিন্ন ধরনের কর্টিকাল কোষ তৈরি করে এবং ইঁদুরের নিজস্ব স্নায়ুতন্ত্রের সঙ্গে কার্যকরভাবে যুক্ত হয়। এর মধ্যে বিরল ‘ভন ইকোনোম নিউরন’-এর উপস্থিতিও লক্ষ্য করা গেছে।
গবেষণার গুরুত্ব ও সম্ভাবনা
বিজ্ঞানীদের মতে, এই অভিনব পদ্ধতির মাধ্যমে রোগসংশ্লিষ্ট মানব জেনেটিক পরিবর্তনগুলো কীভাবে স্নায়ুর বিকাশ ও মস্তিষ্কের সার্কিটে প্রভাব ফেলে, তা নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ করা সম্ভব হবে। একই সঙ্গে কোনো সম্ভাব্য চিকিৎসা এই পরিবর্তনগুলো রোধ করতে পারে কি না, সেটিও পরীক্ষা করা যাবে।
অক্সিজেনের ঘাটতির প্রভাব পরীক্ষা করতে গিয়ে দেখা গেছে, মানব কর্টিকাল কোষে এর ফলে ক্ষতি হয় এবং ইঁদুরের হাঁটা ও মোটর সমন্বয়ে অস্বাভাবিকতা দেখা দেয়, যা সাধারণ ইঁদুরে দেখা যায়নি।
নৈতিকতা ও সতর্কতা
বিজ্ঞানীরা এই বিশেষ ইঁদুরগুলোকে ‘জেনোকর্টিক্যাল’ ইঁদুর হিসেবে অভিহিত করেছেন। তাদের স্পষ্ট বক্তব্য, এগুলো মানব মস্তিষ্কের কোনো পূর্ণাঙ্গ প্রতিরূপ নয়; বরং মানব স্নায়ুকোষের বিকাশ ও রোগ নিয়ে গবেষণার একটি সুযোগ মাত্র। পুরো গবেষণাটিতে প্রাণী কল্যাণ এবং সম্ভাব্য নৈতিক ঝুঁকিগুলোর কথা মাথায় রেখে কঠোর নির্দেশিকা অনুসরণ করা হয়েছে।
স্বদেশ প্রতিদিন/এস পি