প্রকাশ: শুক্রবার, ১৮ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ২:৪০ পিএম

ইউরোপীয় ইউনিয়নের (ইইউ) বাজারে বাংলাদেশের তৈরি পোশাক রপ্তানি কমেছে। ২০২৫ সালের জানুয়ারি-জুলাইয়ের তুলনায় ২০২৬ সালের একই সময়ে বাংলাদেশ থেকে ইউরোপে পোশাক রপ্তানির মূল্য ও পরিমাণ—দুটিই কমেছে। একই সময়ে বাংলাদেশের অন্যতম প্রতিযোগী চীন ও ভিয়েতনামের রপ্তানি বেড়েছে।
ইউরোস্ট্যাটের হালনাগাদ তথ্য অনুযায়ী, ২০২৬ সালের জানুয়ারি থেকে জুলাই পর্যন্ত ইইউর মোট পোশাক আমদানির মূল্য কমেছে ৫ দশমিক ১০ শতাংশ। একই সময়ে আমদানির পরিমাণ কমেছে ৩ দশমিক ২৩ শতাংশ এবং পোশাকের গড় আমদানিমূল্য প্রতি কেজিতে কমেছে ১ দশমিক ৯৩ শতাংশ।
অর্থাৎ ইউরোপের বাজারে সামগ্রিকভাবেই পোশাকের চাহিদা ও আমদানি কমেছে। তবে বাজারের এই সামগ্রিক সংকোচনের তুলনায় বাংলাদেশের রপ্তানিতে পতনের হার আরও বেশি।
প্রাপ্ত তথ্য অনুযায়ী, আলোচ্য সময়ে ইইউতে বাংলাদেশের পোশাক রপ্তানির মূল্য কমেছে ১৩ দশমিক ৬৫ শতাংশ। একই সময়ে রপ্তানির পরিমাণ কমেছে ৫ দশমিক ৬৬ শতাংশ। এর ফলে ইউরোপের পোশাকের বাজারে বাংলাদেশের মার্কেট শেয়ারও কমেছে।
শুধু রপ্তানির পরিমাণ ও মূল্য নয়, বাংলাদেশ থেকে ইউরোপে পাঠানো পোশাকের গড় দামও কমেছে। প্রতি কেজি পোশাকের গড় রপ্তানিমূল্য কমেছে ৮ দশমিক ৪৭ শতাংশ। প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ইউরোপে পোশাক সরবরাহকারী শীর্ষ দেশগুলোর মধ্যে বাংলাদেশ তুলনামূলক কম দামে পোশাক সরবরাহ করছে।
অন্যদিকে, ইউরোপের সামগ্রিক পোশাক আমদানি কমলেও চীন ও ভিয়েতনাম এই বাজারে রপ্তানি বাড়াতে সক্ষম হয়েছে। আলোচ্য সময়ে ইইউতে চীনের পোশাক রপ্তানির মূল্য বেড়েছে ১ দশমিক ৮৯ শতাংশ এবং ভিয়েতনামের বেড়েছে ৩ দশমিক ৯২ শতাংশ।
ভিয়েতনাম তাদের পোশাকের গড় রপ্তানিমূল্যও বাড়াতে সক্ষম হয়েছে। দেশটির পোশাকের গড় দাম প্রতি কেজিতে বেড়েছে ১১ দশমিক ৭৬ শতাংশ। কম্বোডিয়ার ক্ষেত্রেও গড় রপ্তানিমূল্য বেড়েছে ৭ দশমিক ৮৬ শতাংশ।
বাংলাদেশ অ্যাপারেল ভয়েসের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা মহিউদ্দিন রুবেলের মতে, চলতি বছর সামগ্রিকভাবে ইউরোপে পোশাক আমদানি কমেছে, যার প্রভাব বাংলাদেশের রপ্তানিতেও পড়েছে। তিনি জানান, গত দুই মাসে বাংলাদেশের রপ্তানি কিছুটা বেড়েছে। তবে প্রধান প্রতিযোগী চীন ও ভিয়েতনামের রপ্তানি বাড়ার বিষয়টি উদ্বেগের কারণ।
বাংলাদেশের তৈরি পোশাক খাতের জন্য ইউরোপীয় ইউনিয়নের বাজার অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। তাই বাজারের সামগ্রিক চাহিদা কমার পাশাপাশি প্রতিযোগী দেশগুলোর রপ্তানি বাড়তে থাকলে বাংলাদেশের রপ্তানিকারকদের জন্য প্রতিযোগিতার চাপ আরও বাড়তে পারে।
স্বদেশ প্রতিদিন/এস পি