
গজারিয়া প্রেস ক্লাবে ‘কুরআনের আলোকে দায়িত্বশীল সাংবাদিকতা’ বিষয়ক মতবিনিময় সভা অনুষ্ঠিত।
গতকাল মঙ্গলবার বিকেলে মুন্সীগঞ্জের গজারিয়া প্রেস ক্লাবে সাংবাদিক নেতৃবৃন্দের সঙ্গে ‘কুরআনের আলোকে দায়িত্বশীল সাংবাদিকতা’ শীর্ষক এক ব্যতিক্রমধর্মী মতবিনিময় সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে। মো. নজরুল ইসলাম শেখের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত এ সভায় উপজেলার বিভিন্ন পর্যায়ের প্রিন্ট, ইলেকট্রনিক ও অনলাইন গণমাধ্যমের সাংবাদিকরা উপস্থিত ছিলেন।
আন্তরিক ও প্রাণবন্ত পরিবেশে অনুষ্ঠিত সভায় মূল বক্তব্য উপস্থাপন করেন কুরআন পাঠ আন্দোলনের আহ্বায়ক আবু সাঈদ খান।
তিনি তাঁর বক্তব্যে প্রথমেই একটি মৌলিক প্রশ্ন উত্থাপন করেন—মানবজাতির একজন সাধারণ সদস্য হিসেবে আমাদের কেন কুরআন পড়া প্রয়োজন? এরপর সাংবাদিকতার পেশাগত ও নৈতিক দৃষ্টিকোণ থেকে সাংবাদিকদের মাতৃভাষায় কুরআন বুঝে পড়ার প্রয়োজনীয়তা ও গুরুত্ব বিস্তারিতভাবে তুলে ধরেন।
তিনি বলেন, পবিত্র কুরআন কোনো বিশেষ শ্রেণি, গোষ্ঠী বা পেশার মানুষের জন্য নয়; এটি সমগ্র মানবজাতির জন্য আল্লাহর পক্ষ থেকে পথনির্দেশনা।
প্রত্যেক মানুষেরই কুরআনের বক্তব্য জানার, বোঝার এবং তা নিয়ে চিন্তা করার সুযোগ থাকা উচিত। কুরআনকে কেবল আনুষ্ঠানিক ধর্মীয় পাঠের মধ্যে সীমাবদ্ধ না রেখে মানবজীবনের সার্বিক কল্যাণের নির্দেশনা হিসেবে অধ্যয়ন করা প্রয়োজন।
সাংবাদিকদের উদ্দেশে তিনি বলেন, সাংবাদিকতা কেবল সংবাদ সংগ্রহ, পরিবেশন কিংবা তথ্য প্রকাশের পেশা নয়; এটি একটি গুরুত্বপূর্ণ সামাজিক দায়িত্ব। একজন সাংবাদিকের হাতে যেমন সত্য প্রকাশের শক্তি রয়েছে, তেমনি অসত্য, গুজব ও যাচাইবিহীন তথ্য প্রচারের মাধ্যমে সমাজে বিভ্রান্তি সৃষ্টির আশঙ্কাও রয়েছে। তাই একজন দায়িত্বশীল সাংবাদিকের জন্য সত্যনিষ্ঠা, নিরপেক্ষতা, তথ্য যাচাই, ন্যায়বিচার, আমানতদারি এবং মানুষের প্রতি দায়বদ্ধতার মতো নৈতিক গুণাবলি অপরিহার্য।
কুরআন পাঠ আন্দোলনের আহ্বায়ক আরও বলেন, সাংবাদিক বন্ধুরা সমাজের বিভিন্ন স্তরের মানুষের কাছে পৌঁছাতে পারেন এবং তাঁদের লেখনী ও প্রচার মাধ্যমের মাধ্যমে জনমত গঠনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেন। তাই সাংবাদিকদের নিজেদের পেশাগত দক্ষতা বৃদ্ধির পাশাপাশি নৈতিক ও বুদ্ধিবৃত্তিক ভিত্তি সমৃদ্ধ করাও জরুরি। আর এ ক্ষেত্রে মাতৃভাষায় কুরআন বুঝে পড়া হতে পারে একটি গুরুত্বপূর্ণ জ্ঞানগত ও নৈতিক অনুশীলন।
তিনি কুরআন পাঠ আন্দোলনের মূল দর্শন ও কর্মপদ্ধতি ব্যাখ্যা করে বলেন, আন্দোলনের উদ্দেশ্য কাউকে কোনো বিশেষ সংগঠনের সদস্য করা কিংবা কোনো নির্দিষ্ট ধর্মীয় বা রাজনৈতিক পরিচয়ের মধ্যে সীমাবদ্ধ রাখা নয়। বরং মানুষের মধ্যে কুরআন পাঠের সংস্কৃতি গড়ে তোলা। কুরআন সবার জন্য—তাই এর বক্তব্য জানার ও বোঝার সুযোগও সবার জন্য উন্মুক্ত হওয়া উচিত। এ কাজে দল-মত, ধর্মীয় পরিচয় ও সামাজিক বিভাজনের ঊর্ধ্বে উঠে সর্বস্তরের মানুষের অংশগ্রহণ প্রয়োজন।
সভায় উপস্থিত সাংবাদিকরা কুরআন পাঠ আন্দোলনের আহ্বায়কের কাছে বিভিন্ন বিষয়ে প্রশ্ন উত্থাপন করেন। তিনি কুরআনের আয়াতের আলোকে প্রশ্নগুলোর উত্তর দেওয়ার চেষ্টা করেন। এ সময় আলোচনা ও প্রশ্নোত্তর পর্বে অত্যন্ত প্রাণবন্ত পরিবেশের সৃষ্টি হয়।
অনুষ্ঠানের সভাপতি নজরুল ইসলাম শেখ কুরআন পাঠ আন্দোলনের আহ্বায়ককে এ ধরনের একটি ব্যতিক্রমধর্মী মতবিনিময় সভার আয়োজনের জন্য আন্তরিক মোবারকবাদ জানান।
তিনি বলেন, কুরআন পাঠ জনপ্রিয়করণের লক্ষ্যে সমাজের সর্বস্তরে কুরআন পাঠ আন্দোলন যে কাজ করে যাচ্ছে, সে সম্পর্কে তাঁদের আগে তেমন ধারণা ছিল না। আজকের আলোচনা থেকে তাঁরা আন্দোলনের কর্মপরিধি, উদ্দেশ্য ও গুরুত্ব সম্পর্কে বিস্তারিত জানতে পেরেছেন।
স্বদেশ প্রতিদিন/এস পি