প্রকাশ: শুক্রবার, ১৮ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ১২:৪৮ পিএম

দেশে কয়েক মাসের উচ্চ মূল্যস্ফীতির পর মূল্যচাপ কমার প্রবণতা অব্যাহত রয়েছে। বাংলাদেশ পরিসংখ্যান ব্যুরোর (বিবিএস) সর্বশেষ হিসাবে, আগস্টে দেশের সার্বিক মূল্যস্ফীতি কমে ৮ দশমিক ২৬ শতাংশে দাঁড়িয়েছে। এটি গত ১০ মাসের মধ্যে সর্বনিম্ন মূল্যস্ফীতির হার।
জুলাইয়ে সার্বিক মূল্যস্ফীতি ছিল ৮ দশমিক ৩২ শতাংশ। অর্থাৎ এক মাসের ব্যবধানে মূল্যস্ফীতি কমেছে শূন্য দশমিক ০৬ শতাংশীয় পয়েন্ট। এর আগে জুনে ছিল ৯ দশমিক ১৬ শতাংশ এবং মে মাসে ছিল ৯ দশমিক ৪২ শতাংশ। ফলে মে মাসের তুলনায় আগস্টে মূল্যস্ফীতি কমেছে মোট ১ দশমিক ১৬ শতাংশীয় পয়েন্ট।
গত কয়েক মাসে মূল্যস্ফীতির ওঠানামাতেও এই নিম্নমুখী প্রবণতা স্পষ্ট। ২০২৫ সালের নভেম্বরে মূল্যস্ফীতি ছিল ৮ দশমিক ২৯ শতাংশ। ডিসেম্বরে তা বেড়ে ৮ দশমিক ৪৯ শতাংশ এবং ২০২৬ সালের জানুয়ারিতে ৮ দশমিক ৫৮ শতাংশে দাঁড়ায়। ফেব্রুয়ারিতে তা আরও বেড়ে ৯ দশমিক ১৩ শতাংশ হয়। মার্চে কিছুটা কমে ৮ দশমিক ৭১ শতাংশ হলেও এপ্রিলে আবার বেড়ে ৯ দশমিক ০৪ শতাংশ এবং মে মাসে ৯ দশমিক ৪২ শতাংশে পৌঁছায়। এরপর জুন, জুলাই ও আগস্টে ধারাবাহিকভাবে কমেছে মূল্যস্ফীতি।
খাদ্যপণ্যের দাম বাড়ার গতি কমে আসা মূল্যস্ফীতি কমার অন্যতম কারণ হিসেবে দেখা হচ্ছে। আগস্টে খাদ্য মূল্যস্ফীতি কমে ৭ দশমিক ০২ শতাংশে দাঁড়িয়েছে, যেখানে জুলাইয়ে ছিল ৭ দশমিক ১৬ শতাংশ। গত বছরের আগস্টে খাদ্য মূল্যস্ফীতি ছিল ৭ দশমিক ৬০ শতাংশ।
গ্রাম ও শহর—দুই এলাকাতেই আগস্টে মূল্যস্ফীতি কমেছে। গ্রামীণ এলাকায় জুলাইয়ের ৮ দশমিক ৩৬ শতাংশ থেকে কমে আগস্টে হয়েছে ৮ দশমিক ৩১ শতাংশ। শহরাঞ্চলে জুলাইয়ের ৮ দশমিক ২৪ শতাংশ থেকে কমে আগস্টে দাঁড়িয়েছে ৮ দশমিক ২০ শতাংশ।
নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের সরবরাহ পরিস্থিতির উন্নতি এবং সরকারের বিভিন্ন নীতিগত উদ্যোগও মূল্যচাপ কমাতে ভূমিকা রাখছে। ২০২৬-২৭ অর্থবছরের বাজেটে ৬০টি নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের ওপর উৎসে কর কমানো হয়েছে। পাশাপাশি নিম্নআয়ের মানুষের জন্য খাদ্যবান্ধব কর্মসূচি ও ওএমএস সম্প্রসারণ এবং টিসিবির কার্যক্রম জোরদারের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।
তবে মূল্যস্ফীতি কমার অর্থ বাজারে পণ্যের দাম কমে যাওয়া নয়। এর অর্থ হলো পণ্যের দাম আগের তুলনায় ধীরগতিতে বাড়ছে। তাই মূল্যস্ফীতির হার কমলেও সাধারণ মানুষের জীবনযাত্রার ব্যয় কমেছে—এমন সিদ্ধান্ত সরাসরি নেওয়া যায় না।
সরকার ২০২৬-২৭ অর্থবছরে মূল্যস্ফীতি ৭ দশমিক ৫ শতাংশে নামিয়ে আনার লক্ষ্য নির্ধারণ করেছে। আগস্টে মূল্যস্ফীতি ৮ দশমিক ২৬ শতাংশে নেমে আসা সেই লক্ষ্যের দিকে অগ্রগতির একটি ইঙ্গিত হলেও খাদ্য ও খাদ্যবহির্ভূত উভয় খাতে মূল্যচাপ আরও কমানো এখনো গুরুত্বপূর্ণ।
স্বদেশ প্রতিদিন/এস পি