প্রকাশ: বুধবার, ১৬ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ৯:০৪ পিএম

সৌরজগতের ক্ষুদ্রতম ও সূর্যের সবচেয়ে কাছের গ্রহ বুধ বিজ্ঞানীদের ধারণার তুলনায় দ্রুত সংকুচিত হচ্ছে। নতুন এক গবেষণায় দেখা গেছে, গ্রহটির অভ্যন্তরীণ সংকোচনের পরিমাণ আগের হিসাবের চেয়ে প্রায় ৩০ শতাংশ বেশি হতে পারে।
জার্মান অ্যারোস্পেস সেন্টারের ‘ইনস্টিটিউট অব স্পেস রিসার্চ’-এর গবেষকদের এই গবেষণা বিজ্ঞানবিষয়ক সাময়িকী ‘জিওফিজিক্যাল রিসার্চ লেটার্স’-এ প্রকাশিত হয়েছে। গবেষকদের হিসাব অনুযায়ী, সংকোচনের ফলে বুধের ব্যাস প্রায় ২৩ কিলোমিটার বা ১৪ মাইল কমে গিয়ে থাকতে পারে। প্রায় ৪ হাজার ৯০০ কিলোমিটার ব্যাসের একটি গ্রহের ক্ষেত্রে এই পরিবর্তনকে তাৎপর্যপূর্ণ হিসেবে দেখা হচ্ছে।
বিজ্ঞানীরা বলছেন, প্রায় সাড়ে চারশ কোটি বছর আগে বুধের সৃষ্টি হওয়ার পর থেকেই গ্রহটি ধীরে ধীরে সংকুচিত হয়ে আসছে। এর অন্যতম কারণ হলো বুধের তুলনামূলকভাবে বিশাল ও তপ্ত লৌহকেন্দ্র। সময়ের সঙ্গে কেন্দ্রটি শীতল হওয়ার ফলে গ্রহের অভ্যন্তরের ম্যান্টল ও ওপরের ভূত্বক সংকুচিত হচ্ছে।
এই সংকোচনের প্রভাবে বুধের পৃষ্ঠে বিশেষ ধরনের বলিরেখা, খাঁজ ও ফাটল তৈরি হয়। এগুলো গ্রহটির অভ্যন্তরীণ পরিবর্তনের গুরুত্বপূর্ণ চিহ্ন হিসেবে বিবেচিত।
তবে বুধের পৃষ্ঠ অত্যন্ত বন্ধুর এবং সেখানে অসংখ্য উল্কাপাতের চিহ্ন রয়েছে। সংঘর্ষের ফলে ছড়িয়ে পড়া ধুলা ও পাথরের ধ্বংসাবশেষ অনেক পুরোনো সংকোচনের চিহ্নকে ঢেকে দিয়েছে। ফলে এত দিন গ্রহটির প্রকৃত সংকোচনের মাত্রা নির্ভুলভাবে নির্ধারণ করা কঠিন ছিল।
হক্কাইডো বিশ্ববিদ্যালয়ের গবেষক ও গবেষণাটির প্রধান লেখক গাকু নিশিয়ামার নেতৃত্বে গবেষকেরা বুধের পৃষ্ঠের ফাটল ও বিভিন্ন এলাকার ভূ-প্রকৃতির রুক্ষতার মানচিত্র তুলনা করেন। তাদের পর্যবেক্ষণে দেখা যায়, বেশি রুক্ষ এলাকাগুলোতে সংকোচনের ফলে তৈরি বলিরেখা তুলনামূলকভাবে কম দৃশ্যমান।
গবেষকদের মতে, উল্কাপাতের ধ্বংসাবশেষের স্তরের নিচে এসব চিহ্ন আংশিকভাবে চাপা পড়ে থাকায় বুধের সংকোচনের প্রকৃত চিত্র এত দিন আড়ালে ছিল। নতুন বিশ্লেষণ সেই লুকিয়ে থাকা পরিবর্তনকে আরও স্পষ্ট করেছে।
বুধের দ্রুত সংকোচনের এই তথ্য গ্রহটির অভ্যন্তরীণ গঠন, তাপীয় বিবর্তন এবং দীর্ঘমেয়াদি ভূতাত্ত্বিক পরিবর্তন বোঝার ক্ষেত্রে নতুন সূত্র দিতে পারে বলে মনে করছেন গবেষকেরা।
স্বদেশ প্রতিদিন/এফএইচ