
পাকিস্তানি অভিনেত্রী মাহিরা খানকে ঘিরে এখন আলোচনার অন্যতম বিষয় তার দ্বিতীয়বার মা হওয়ার খবর। ৪১ বছর বয়সে ১৭ বছর পর আবারও মাতৃত্বের অভিজ্ঞতার মধ্য দিয়ে যাচ্ছেন তিনি। সম্প্রতি কানাডার টরন্টো আন্তর্জাতিক চলচ্চিত্র উৎসবে অন্তঃসত্ত্বা অবস্থায় রেড কার্পেটে উপস্থিত হয়ে বিষয়টি প্রকাশ্যে আনেন অভিনেত্রী।
টরন্টো চলচ্চিত্র উৎসরের একটি আলোচনায় দক্ষিণ এশিয়ার গল্প ও নির্মাতাদের বিশ্ব চলচ্চিত্রে আরও বেশি সুযোগ দেওয়ার প্রয়োজনীয়তার কথা বলেন মাহিরা। একই অনুষ্ঠানে তার ব্যক্তিগত জীবনের নতুন অধ্যায়ও সামনে আসে।
মাহিরা প্রথমবার মা হয়েছিলেন ২৪ বছর বয়সে। তৎকালীন স্বামী আলি আসকারির সঙ্গে তার ছেলে আজলানের জন্ম হয়। ২০০৭ সালে বিয়ে করা এই দম্পতির বিচ্ছেদ হয় ২০১৫ সালে। পরে ২০২৩ সালে ব্যবসায়ী সেলিম করিমকে বিয়ে করেন মাহিরা। দ্বিতীয় বিয়ের প্রায় তিন বছর পর এবার তাদের সংসারে আসতে যাচ্ছে নতুন অতিথি।
নিজের অন্তঃসত্ত্বা হওয়ার খবর প্রকাশ্যে আনার সিদ্ধান্তটি সহজ ছিল না বলে জানান মাহিরা। ব্যক্তিগত বিষয় নিয়ে প্রকাশ্যে খুব বেশি কথা বলতে তিনি স্বাচ্ছন্দ্যবোধ করেন না। ফলে এবারও বিষয়টি জানানো নিয়ে তার মধ্যে দ্বিধা ছিল।
অন্তঃসত্ত্বা অবস্থায় রেড কার্পেটে হাঁটার অভিজ্ঞতাও মাহিরার জন্য নতুন। শরীরের পরিবর্তন আড়াল না করে সেটিকে স্বাভাবিকভাবেই গ্রহণ করার সিদ্ধান্ত নেন তিনি। উৎসবে তার পরনে ছিল গাঢ় রঙের শাড়ি, সঙ্গে কারুকাজ করা ওড়না। বড় কানের দুল, সাজসজ্জা ও খোলা বেণিতে তাকে দেখা যায়।
দ্বিতীয়বার মাতৃত্বের অভিজ্ঞতা প্রথমবারের তুলনায় অনেকটাই আলাদা বলে জানিয়েছেন মাহিরা। ২৪ বছর বয়সে যখন প্রথম মা হয়েছিলেন, তখন ভবিষ্যৎ নিয়ে খুব বেশি ভাবতেন না। সে সময় নিজেকে সুস্থ ও স্বাভাবিকভাবে দেখতেন বলেও জানান তিনি।
এবার ৪১ বছর বয়সে এসে শারীরিক ও মানসিক—দুই দিক থেকেই অভিজ্ঞতাটি তার কাছে বেশি কঠিন মনে হচ্ছে। অনেক সময় শরীর তার মনের মতো সাড়া দেয় না। অথচ নিয়মিত কাজ, ভ্রমণ ও ব্যস্ত জীবনযাপনে অভ্যস্ত তিনি।
বয়স বাড়ার সঙ্গে জীবনের মূল্য ও ভঙ্গুরতা সম্পর্কে নিজের উপলব্ধিও বদলেছে বলে জানান মাহিরা। তাই এবারের মাতৃত্বে আনন্দের পাশাপাশি ভয়, ক্লান্তি ও দুর্বলতার অনুভূতিও কাজ করছে তার মধ্যে।
মাহিরার ভাষ্য অনুযায়ী, দ্বিতীয়বার মা হওয়ার আগে তার জীবন অনেকটাই গুছিয়ে নিয়েছিলেন। বড় হয়ে যাওয়া ছেলে, নিজের ক্যারিয়ার, দৈনন্দিন জীবন ও স্বাধীনতার সঙ্গে তিনি অভ্যস্ত হয়ে উঠেছিলেন। ভবিষ্যৎ নিয়েও তার নিজস্ব পরিকল্পনা ছিল। এত বছর পর আবার মাতৃত্বের অভিজ্ঞতার মুখোমুখি হতে হবে, তা তিনি আগে কল্পনাও করেননি।
তবে এই অপ্রত্যাশিত পরিবর্তনকে এখন জীবনের গুরুত্বপূর্ণ একটি শিক্ষা হিসেবে দেখছেন মাহিরা। তার উপলব্ধি, জীবনের সবকিছু পরিকল্পনা অনুযায়ী চলে না। মানুষ ভবিষ্যৎকে একভাবে সাজালেও জীবন অনেক সময় তাকে ভিন্ন পথে নিয়ে যায়।
নিজের অভিজ্ঞতা থেকে মাহিরা মনে করেন, সবকিছু নিজের নিয়ন্ত্রণে রাখার চেষ্টা না করে জীবনের পরিবর্তনগুলোও গ্রহণ করতে হয়। টরন্টো চলচ্চিত্র উৎসরে তার উপস্থিতিতে তাই একই সঙ্গে সামনে এসেছে পেশাগত সাফল্য ও ব্যক্তিগত জীবনের নতুন অধ্যায়—বিশ্বমঞ্চে দক্ষিণ এশীয় সিনেমার প্রতিনিধিত্বের পাশাপাশি ১৭ বছর পর আবারও মাতৃত্বের পথে তার যাত্রা।
স্বদেশ প্রতিদিন/এফএইচ