বৃহস্পতিবার ২৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬
   
শিরোনাম:
পরিকল্পিতভাবে কাজ করলে গ্যাস ও বিদ্যুৎ সংকটের সমাধান সম্ভব      যুবসমাজকে মাদকের গ্রাস থেকে রক্ষায় সর্বোচ্চ গুরুত্ব: সাচিং প্রু      সনদের পাশাপাশি বাস্তবমুখী দক্ষতা অর্জন জরুরি: শ্রমমন্ত্রী      ৮ মাসে পেরিয়ে গেলেও ফরেনসিক প্রতিবেদন পাওয়া জায় নেই      বিএনপি ও সহযোগী সংগঠনের বিক্ষোভ মিছিল-সমাবেশ       একাদশের শিক্ষার্থীদের ওরিয়েন্টেশন      ২৪ ঘণ্টায় ডেঙ্গুতে প্রাণ গেল আরও ৮ জনের      শরণখোলায় আওয়ামী লীগের বিরুদ্ধে বিএনপির বিক্ষোভ      রৌমারীতে উপজেলা কাব ক্যাম্পুরীর উদ্বোধন      কপোতাক্ষে মিলল ভ্যানচালক ইখলাসের মরদেহ      টাঙ্গাইল সেতুর প্রকৌশলীকে স্ট্যান্ড রিলিজ      মিছিলের চেষ্টা, ছাত্রলীগের ২০ নেতাকর্মী আটক      
তেলের বিনিময়ে চীনা পণ্য, ব্যবহার হচ্ছে বিশেষ ‘ক্রেডিট’ ব্যবস্থা
স্বদেশ ডেস্ক
প্রকাশ: বৃহস্পতিবার, ১০ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ৫:২৪ পিএম

মার্কিন নিষেধাজ্ঞার চাপের মধ্যেও চীন থেকে ওষুধ, গাড়ি, যোগাযোগ সরঞ্জামসহ বিভিন্ন পণ্য আমদানি করছে ইরান। এমনকি সামরিক সরঞ্জাম কেনার ক্ষেত্রেও একই ধরনের আর্থিক ব্যবস্থার ব্যবহার হয়েছে বলে জানিয়েছে বার্তা সংস্থা রয়টার্স। এই বাণিজ্য কীভাবে চলছে, তা নিয়ে আন্তর্জাতিক মহলে নতুন করে আগ্রহ তৈরি হয়েছে।

রয়টার্সের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ইরান ও চীনের মধ্যে বাণিজ্যে একটি বিশেষ ধরনের ‘ক্রেডিট’ ব্যবস্থা ব্যবহার করা হচ্ছে। বিষয়টির সঙ্গে পরিচিত দুই জ্যেষ্ঠ ইরানি কর্মকর্তা এবং আরও তিনজন ব্যক্তি জানিয়েছেন, এই ব্যবস্থায় ইরানের তেলের বিনিময়ে চীন থেকে পণ্য আমদানির জন্য ক্রেডিট সুবিধা তৈরি করা হয়।

সাম্প্রতিক বছরগুলোতে যুক্তরাষ্ট্র ইরানের ওপর অর্থনৈতিক ও সামরিক চাপ বাড়িয়েছে। এই পরিস্থিতিতে তেল বিক্রি করে পাওয়া অর্থকে সরাসরি আন্তর্জাতিক ব্যাংকিং ব্যবস্থায় না এনে বিকল্প আর্থিক কাঠামোর মাধ্যমে প্রয়োজনীয় পণ্য আমদানিতে ব্যবহার করছে তেহরান।

চীনও পাচ্ছে অর্থনৈতিক সুবিধা
এই ব্যবস্থার মাধ্যমে শুধু ইরান নয়, চীনও লাভবান হচ্ছে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলোর দাবি।

চীন বিশ্বের অন্যতম বৃহৎ অপরিশোধিত তেল আমদানিকারক দেশ। ফলে ইরানের কাছ থেকে তুলনামূলক কম দামে তেল কেনার সুযোগ পাচ্ছে চীনা প্রতিষ্ঠানগুলো। একই সঙ্গে ইরানে পণ্য সরবরাহকারী চীনা কোম্পানি ও সংশ্লিষ্ট আর্থিক প্রতিষ্ঠানগুলো আন্তর্জাতিক নজরদারি এবং মার্কিন নিষেধাজ্ঞার ঝুঁকি কমানোর সুযোগ পাচ্ছে।

রয়টার্সের তথ্য অনুযায়ী, ২০২৫ সালে সমুদ্রপথে ইরান থেকে রপ্তানি হওয়া তেলের ৮০ শতাংশের বেশি চীন কিনেছে। ওই বছর চীনে ইরানের তেল রপ্তানির পরিমাণ ছিল প্রতিদিন গড়ে প্রায় ১৪ লাখ ব্যারেল।

কীভাবে চলছে এই আর্থিক ব্যবস্থা?
রয়টার্সের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ইরান-চীন বাণিজ্যে আন্তর্জাতিক ব্যাংকিং ব্যবস্থার সরাসরি ব্যবহার এড়িয়ে একাধিক মধ্যস্থতাকারী প্রতিষ্ঠান এবং বিশেষ আর্থিক কাঠামো ব্যবহার করা হচ্ছে।

বিষয়টির সঙ্গে পরিচিত ব্যক্তিদের দাবি, চীনের রাষ্ট্রীয় মালিকানাধীন তেল ব্যবসায়ী প্রতিষ্ঠান ঝুহাই ঝেনরংয়ের হয়ে কাজ করা একজন ক্রেতা প্রতি মাসে কয়েকশ মিলিয়ন ডলার চীনের একটি অপেক্ষাকৃত অখ্যাত আর্থিক প্রতিষ্ঠানে জমা দিতেন। প্রতিষ্ঠানটির নাম ‘চুশিন’ বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।

এই অর্থের একটি অংশ ইরানে অবকাঠামো প্রকল্পে ব্যয় করা হয়। অন্য একটি অংশ রাখা হয় ‘স্পেশাল পারপাস ভেহিকল’ বা SPV-তে। পরবর্তী সময়ে ইরানে পণ্য সরবরাহকারী চীনা কোম্পানিগুলোর অর্থ পরিশোধে এই তহবিল ব্যবহার করা হয়।

সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলোর হিসাব অনুযায়ী, গত এক বছরে এই SPV-এর মাধ্যমে প্রায় ২০০ কোটি থেকে ২৫০ কোটি মার্কিন ডলার অর্থ প্রবাহিত হয়েছে।

ওষুধ থেকে বিমান প্রতিরক্ষা সরঞ্জাম
এই আর্থিক ব্যবস্থার মাধ্যমে ইরান বিভিন্ন ধরনের প্রয়োজনীয় পণ্য আমদানি করেছে বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। এর মধ্যে রয়েছে ওষুধ, গাড়ি এবং যোগাযোগ সরঞ্জাম।

শুধু বেসামরিক পণ্য নয়, গত এক বছরে কয়েক মিলিয়ন ডলারের বিমান প্রতিরক্ষা সরঞ্জাম সরবরাহের একটি চুক্তিতেও এই ব্যবস্থা অন্তত একবার ব্যবহার করা হয়েছে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলো দাবি করেছে।

তবে রয়টার্স জানিয়েছে, এসব কথিত লেনদেন তারা স্বাধীনভাবে যাচাই করতে পারেনি।

নিষেধাজ্ঞার ঝুঁকি কীভাবে কমছে?
ইরানের সঙ্গে ব্যবসা করা কয়েকটি ছোট চীনা প্রতিষ্ঠানের ওপর ইতোমধ্যে যুক্তরাষ্ট্র নিষেধাজ্ঞা দিয়েছে। তবে বৈশ্বিক অর্থনীতিতে বড় ধরনের প্রভাব ফেলতে পারে এমন কঠোর ব্যবস্থা নেওয়ার ক্ষেত্রে ওয়াশিংটন এখনো সতর্ক রয়েছে বলে প্রতিবেদনে বলা হয়েছে।

এ ধরনের বিকল্প আর্থিক কাঠামোর অন্যতম উদ্দেশ্য হলো ইরানের সঙ্গে বাণিজ্যকে এমনভাবে পরিচালনা করা, যাতে আন্তর্জাতিক ব্যাংকিং ব্যবস্থায় সরাসরি লেনদেনের প্রয়োজন কমে যায়।

ফলে মার্কিন নিষেধাজ্ঞার আওতায় থাকা প্রতিষ্ঠানগুলোর সঙ্গে সরাসরি আর্থিক সম্পর্কের ঝুঁকিও কিছুটা কমানো সম্ভব হয়।

চীনের অবস্থান কী?
এক্সেটার বিশ্ববিদ্যালয়ের আন্তর্জাতিক রাজনীতির প্রভাষক আন্দ্রেয়া ঘিসেল্লির মতে, যুক্তরাষ্ট্রের নিষেধাজ্ঞার চাপ মোকাবিলা এবং দ্বিতীয় পর্যায়ের নিষেধাজ্ঞার হুমকির মধ্যেও চীন যে বিকল্প ব্যবস্থা ব্যবহার করতে পারে, সেটিই এ ধরনের কাঠামোর মাধ্যমে দেখানো হচ্ছে।

তবে চীনের নেতারা নিজেদের ব্যাংক ও কোম্পানিগুলোকে আন্তর্জাতিক আর্থিক ব্যবস্থা থেকে বিচ্ছিন্ন করতে চান না। তাই এমন একটি ব্যবস্থা রাখা হচ্ছে, যেখানে প্রয়োজনে সংশ্লিষ্টতা বা দায় অস্বীকার করার সুযোগ থাকে বলে মনে করেন তিনি।

অন্যদিকে চীনের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় রয়টার্সকে জানিয়েছে, প্রতিবেদনে বর্ণিত এই নির্দিষ্ট ব্যবস্থার বিষয়ে তারা অবগত নয়। একই সঙ্গে চীন বলেছে, জাতিসংঘ নিরাপত্তা পরিষদের অনুমোদন নেই—এমন একতরফা নিষেধাজ্ঞার তারা বিরোধিতা করে।

ইরান-চীন সম্পর্কের নতুন মাত্রা
ইরান ও চীন দীর্ঘদিন ধরে অর্থনৈতিক ও রাজনৈতিক অংশীদার। দুই দেশই পশ্চিমা নিষেধাজ্ঞাকে একতরফা ও অবৈধ হিসেবে সমালোচনা করে আসছে।

ইরানের জন্য চীন গুরুত্বপূর্ণ কারণ দেশটি ইরানি তেলের বড় ক্রেতা এবং একই সঙ্গে বিভিন্ন ধরনের পণ্যের সরবরাহকারী। অন্যদিকে চীনের জন্য ইরান তুলনামূলক কম দামে তেল পাওয়ার একটি গুরুত্বপূর্ণ উৎস।

যুক্তরাষ্ট্র যখন ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচির সঙ্গে সংশ্লিষ্ট উপকরণ ও অর্থের প্রবাহ বন্ধ করতে চাপ বাড়াচ্ছে, তখন তেহরান ও বেইজিংয়ের এই বিকল্প বাণিজ্যিক ব্যবস্থা আন্তর্জাতিকভাবে নতুন করে নজর কেড়েছে।

সব মিলিয়ে, তেলকে কেন্দ্র করে তৈরি এই বিশেষ ক্রেডিট ও অর্থপ্রবাহ ব্যবস্থা ইরানের জন্য নিষেধাজ্ঞার মধ্যেও প্রয়োজনীয় পণ্য সংগ্রহের একটি গুরুত্বপূর্ণ পথ হয়ে উঠেছে বলে প্রতিবেদনে উঠে এসেছে। তবে এর প্রকৃত পরিসর ও সংশ্লিষ্ট লেনদেনের বিস্তারিত তথ্য স্বাধীনভাবে যাচাই করা কঠিন হওয়ায় বিষয়টির অনেকটাই এখনো গোপনীয়তার মধ্যে রয়েছে।



স্বদেশ প্রতিদিন/এস পি



আরও সংবাদ   বিষয়:  ইরানচীনসম্পর্ক মার্কিননিষেধাজ্ঞা   






Loading...
Loading...
এই ক্যাটেগরির আরো সংবাদ  
অনুসরণ করুন
     
সম্পাদক ও প্রকাশক : মোঃ মজিবুর রহমান চৌধুরী
স্বদেশ গ্লোবাল মিডিয়া লিমিটেড -এর পক্ষে প্রকাশক কর্তৃক সিটি পাবলিশিং লি, আর কে মিশন রোড, ঢাকা-১২০৩ থেকে মুদ্রিত ও ১০, তাহের টাওয়ার, গুলশান সার্কেল-২ থেকে প্রকাশিত।
ফোন: ৯৮৫১৬২০, ৮৮৩২৬৪-৬, ফ্যাক্স: ৮৮০-২-৯৮৯৩২৯৫। ই-মেইল : [email protected], [email protected]
🔝
close
অনুসরণ করুন
     
সম্পাদক ও প্রকাশক : মোঃ মজিবুর রহমান চৌধুরী
স্বদেশ গ্লোবাল মিডিয়া লিমিটেড -এর পক্ষে প্রকাশক কর্তৃক সিটি পাবলিশিং লি, আর কে মিশন রোড, ঢাকা-১২০৩ থেকে মুদ্রিত ও ১০, তাহের টাওয়ার, গুলশান সার্কেল-২ থেকে প্রকাশিত।
ফোন: ৯৮৫১৬২০, ৮৮৩২৬৪-৬, ফ্যাক্স: ৮৮০-২-৯৮৯৩২৯৫। ই-মেইল : [email protected], [email protected]
🔝
close