
ডেঙ্গু হলে জ্বর, বমি, দুর্বলতা ও শরীরে পানিশূন্যতার কারণে খাওয়ার প্রতি অনীহা তৈরি হতে পারে। এ সময় রোগীর শরীরে পর্যাপ্ত পানি, ইলেকট্রোলাইট, ক্যালরি, প্রোটিন ও প্রয়োজনীয় পুষ্টি পৌঁছানো গুরুত্বপূর্ণ। একসঙ্গে বেশি খাবার না খেয়ে অল্প অল্প করে বারবার খাওয়ানো তুলনামূলকভাবে সহজ হতে পারে।
ধাপ ১: জ্বর ও অসুস্থতার সময়
ডেঙ্গুর প্রথম দিকে রোগীর প্রধান লক্ষ্য হওয়া উচিত পর্যাপ্ত তরল গ্রহণ। পানি, ORS, স্যুপ, ডাবের পানি এবং সহনীয় অন্যান্য তরল অল্প অল্প করে বারবার দেওয়া যেতে পারে। বমি বা বমি বমি ভাব থাকলে একবারে বেশি তরল না দিয়ে ছোট পরিমাণে ঘন ঘন দেওয়া ভালো।
ক্ষুধা কম থাকলে পাতলা খিচুড়ি, স্যুপ, পায়েস বা অন্যান্য সহজপাচ্য খাবার নেওয়া যেতে পারে। খাবার জোর করে খাওয়ানোর চেয়ে রোগী যা সহজে সহ্য করতে পারেন, সেটিকে অগ্রাধিকার দেওয়া উচিত।
ধাপ ২: ক্ষুধা ফিরতে শুরু করলে
জ্বর ও বমি কমে ক্ষুধা কিছুটা ফিরলে ধীরে ধীরে নরম ও সহজপাচ্য খাবার বাড়ানো যায়। নরম খিচুড়ি, ভাত-দই, জাউ বা পোরিজ, সেদ্ধ আলু এবং সেদ্ধ সবজি ভালো বিকল্প হতে পারে।
এ সময় কলা, পাকা পেঁপে, তরমুজসহ বিভিন্ন ফলও খাবারের তালিকায় রাখা যায়। পাশাপাশি ডিম, মাছ, মুরগি, ডাল ও দুধজাতীয় খাবার থেকে পর্যাপ্ত প্রোটিন পাওয়ার চেষ্টা করা উচিত।
ধাপ ৩: সুস্থ হওয়ার পর
শরীর পুরোপুরি সুস্থ হয়ে উঠতে সময় লাগে। তাই জ্বর কমে যাওয়ার পরও কয়েক দিন পুষ্টিকর ও সুষম খাবার চালিয়ে যাওয়া গুরুত্বপূর্ণ। ভাত বা রুটির সঙ্গে মাছ, ডিম, মাংস বা ডাল, পর্যাপ্ত সবজি এবং বিভিন্ন ধরনের ফল রাখা যেতে পারে।
এই পর্যায়ে মূল লক্ষ্য হওয়া উচিত শরীরের হারানো শক্তি ফিরিয়ে আনা এবং স্বাভাবিক খাবারের অভ্যাসে ধীরে ধীরে ফিরে যাওয়া।
প্লেটলেট বাড়াতে কী খাবেন?
ডেঙ্গুতে প্লেটলেট কমে যেতে পারে। তবে কোনো নির্দিষ্ট খাবার—যেমন পেঁপে, পেঁপে পাতা, ডালিম, পেয়ারা, পালং শাক বা ব্রোকলি—নিশ্চিতভাবে প্লেটলেট দ্রুত বাড়িয়ে দেয়, এমন শক্ত প্রমাণ নেই। এসব খাবার অবশ্যই পুষ্টিকর এবং সুষম খাদ্যের অংশ হিসেবে খাওয়া যেতে পারে, কিন্তু এগুলোকে ডেঙ্গুর চিকিৎসা হিসেবে বিবেচনা করা উচিত নয়।
বিশেষ করে পেঁপে পাতার রস বা নির্যাস নিয়ে বিভিন্ন প্রচলিত ধারণা থাকলেও এটি চিকিৎসার বিকল্প নয়। ডেঙ্গুতে প্লেটলেটের পাশাপাশি রোগীর সামগ্রিক অবস্থা ও অন্যান্য রক্তের পরীক্ষাও চিকিৎসকের পরামর্শ অনুযায়ী পর্যবেক্ষণ করা জরুরি।
কোন খাবার এড়িয়ে চলবেন?
রোগীর বমি, গ্যাস্ট্রিক বা পেটের অস্বস্তি থাকলে অতিরিক্ত তেল-মসলা, ভাজাপোড়া ও খুব ভারী খাবার সাময়িকভাবে এড়িয়ে চলা ভালো। ক্যাফেইনযুক্ত পানীয়ও অতিরিক্ত না খাওয়াই ভালো।
সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ হলো পর্যাপ্ত তরল গ্রহণ, সহজপাচ্য পুষ্টিকর খাবার খাওয়া এবং চিকিৎসকের পরামর্শ মেনে চলা।
কখন দ্রুত চিকিৎসা প্রয়োজন?
ডেঙ্গুতে জ্বর কমে যাওয়ার পরও বিপদের লক্ষণ দেখা দিতে পারে। তীব্র পেটব্যথা, বারবার বমি, নাক-মাড়ি বা অন্য কোথাও রক্তপাত, অতিরিক্ত দুর্বলতা বা অস্থিরতা, শ্বাসকষ্ট কিংবা অস্বাভাবিক ঘুমঘুম ভাব দেখা দিলে দ্রুত চিকিৎসা নেওয়া প্রয়োজন।
ডেঙ্গুর সময় নিজের ইচ্ছায় aspirin বা ibuprofen জাতীয় ওষুধ না খাওয়াই নিরাপদ, কারণ এগুলো রক্তপাতের ঝুঁকি বাড়াতে পারে। জ্বর বা ব্যথার ওষুধ নেওয়ার ক্ষেত্রে চিকিৎসকের পরামর্শ অনুসরণ করা উচিত।
স্বদেশ প্রতিদিন/এস পি