
২০২৭ সালের হজযাত্রীদের জন্য স্বাস্থ্য পরীক্ষার নিয়ম আরও কঠোর করেছে সৌদি আরব। নতুন নিয়ম অনুযায়ী, হজের ভিসা ইস্যুর আগে প্রত্যেক হজযাত্রীকে মেডিকেল ফিটনেস বা ‘হেলথ ক্লিয়ারেন্স সার্টিফিকেট’ সংগ্রহ করতে হবে। সৌদি আরবের হজ ও ওমরাহ মন্ত্রণালয়ের নির্দেশনা অনুযায়ী, এই স্বাস্থ্য সনদ প্রক্রিয়া ‘নুসুক মাসার’ প্ল্যাটফর্মের মাধ্যমে সম্পন্ন করতে হবে।
নতুন এই ব্যবস্থার মূল উদ্দেশ্য হলো হজের সময় প্রচণ্ড গরম, দীর্ঘ সময় হাঁটা, শারীরিক পরিশ্রম এবং বিপুল জনসমাগমের মধ্যে হজযাত্রীদের স্বাস্থ্যঝুঁকি কমানো। একই সঙ্গে সৌদি আরবের জনস্বাস্থ্য সুরক্ষাও নিশ্চিত করতে চায় দেশটির কর্তৃপক্ষ।
নিয়ম অনুযায়ী, হজে যাওয়ার আগে প্রত্যেক যাত্রীকে বাধ্যতামূলক মেডিকেল স্ক্রিনিংয়ের মধ্য দিয়ে যেতে হবে। পরীক্ষার ফলাফলের ভিত্তিতে যাত্রী হজ পালনের জন্য শারীরিকভাবে উপযুক্ত কি না, তা নির্ধারণ করা হবে। হেলথ ক্লিয়ারেন্স প্রক্রিয়া সম্পন্ন ও অনুমোদিত হওয়ার পরই হজের ভিসা ইস্যু করা হবে। সৌদি আরবে পৌঁছানোর পরও প্রবেশপথে স্বাস্থ্যসংক্রান্ত কাগজপত্র পরীক্ষা করা হতে পারে।
কিছু গুরুতর স্বাস্থ্যগত অবস্থাকে হজ পালনের ক্ষেত্রে অযোগ্যতার কারণ হিসেবে বিবেচনা করা হবে। এর মধ্যে রয়েছে ডায়ালাইসিস-নির্ভর কিডনি বিকলতা, সামান্য শারীরিক পরিশ্রমেই উপসর্গ দেখা দেয় এমন গুরুতর হার্ট ফেইলিওর এবং সার্বক্ষণিক বা কৃত্রিম অক্সিজেন প্রয়োজন হয় এমন গুরুতর ফুসফুসের রোগ।
এ ছাড়া গুরুতর স্নায়বিক বা মানসিক সমস্যা, যা স্বাভাবিক চিন্তাশক্তি বা চলাফেরায় বড় ধরনের প্রতিবন্ধকতা তৈরি করে, এবং গুরুতর ডিমেনশিয়াকেও স্বাস্থ্যগত অযোগ্যতার কারণ হিসেবে বিবেচনা করা হতে পারে।
গর্ভাবস্থার ক্ষেত্রেও বিশেষ সতর্কতা রাখা হয়েছে। ঝুঁকিপূর্ণ গর্ভাবস্থা কিংবা গর্ভাবস্থার শেষ তিন মাসে থাকা নারীরা হজের স্বাস্থ্যগত ছাড়পত্র নাও পেতে পারেন। একইভাবে সক্রিয় ক্যান্সারের ক্ষেত্রে, বিশেষ করে কেমোথেরাপি বা নিবিড় ইমিউনোসপ্রেসিভ চিকিৎসা চললে, স্বাস্থ্যগত অনুমোদন না পাওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।
জনস্বাস্থ্যের জন্য গুরুতর ঝুঁকি তৈরি করতে পারে এমন সক্রিয় সংক্রামক রোগও অযোগ্যতার কারণ হতে পারে। প্রতিবেদনে উদাহরণ হিসেবে ওপেন পালমোনারি টিউবারকিউলোসিস বা সংক্রামক যক্ষ্মার কথা উল্লেখ করা হয়েছে।
হজের বিভিন্ন আনুষ্ঠানিকতা সম্পন্ন করার জন্য শারীরিক সক্ষমতার বিষয়টিও গুরুত্ব পাচ্ছে। সামান্য সহায়তার জন্য লাঠি ব্যবহার করা সম্ভব হলেও সম্পূর্ণভাবে হুইলচেয়ার বা ইলেকট্রিক স্কুটারের ওপর নির্ভরশীল ব্যক্তিদের ক্ষেত্রে হজ পালনের অনুমতি না দেওয়ার কথা বলা হয়েছে।
তবে নতুন হেলথ ক্লিয়ারেন্স ব্যবস্থা চালু হলেও প্রয়োজনীয় টিকার নিয়ম বাতিল হচ্ছে না। অর্থাৎ স্বাস্থ্য পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হওয়ার পাশাপাশি নির্ধারিত টিকাও নিতে হবে। এর মধ্যে বিশেষভাবে মেনিনজোকোক্কাল ACWY টিকার কথা উল্লেখ করা হয়েছে। সৌদি কর্তৃপক্ষ প্রয়োজন অনুযায়ী অন্যান্য টিকার শর্তও নির্ধারণ করতে পারে।
বিভিন্ন দেশের হজযাত্রীদের স্বাস্থ্য পরীক্ষা সংশ্লিষ্ট দেশের জাতীয় হজ কমিটি বা কর্তৃপক্ষের তত্ত্বাবধানে পরিচালিত হবে। ফলে বাংলাদেশি হজযাত্রীদের জন্য কোথায়, কখন এবং কীভাবে স্বাস্থ্য পরীক্ষা হবে—এ বিষয়ে বাংলাদেশের সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের নির্দেশনা অনুসরণ করতে হবে।
সব মিলিয়ে, ২০২৭ সালের হজে স্বাস্থ্যসংক্রান্ত প্রস্তুতি আগের তুলনায় আরও গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠছে। সম্ভাব্য হজযাত্রীদের আগে থেকেই নিজেদের স্বাস্থ্য পরীক্ষা করানো, প্রয়োজনীয় টিকা নেওয়া এবং সরকারি নির্দেশনা অনুযায়ী হেলথ ক্লিয়ারেন্সের প্রক্রিয়া সম্পন্ন করার প্রস্তুতি নেওয়া উচিত।
স্বদেশ প্রতিদিন/এস পি