
বিশ্ব অর্থনীতির সঙ্গে তাল মিলিয়ে বাংলাদেশের আন্তর্জাতিক ব্যবসা-বাণিজ্য ক্রমেই বিস্তৃত হচ্ছে। ফলে আমদানি-রপ্তানি ও অন্যান্য আন্তর্জাতিক লেনদেনে বৈদেশিক মুদ্রার চাহিদাও বাড়ছে। এর সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে বিভিন্ন দেশের মুদ্রার বিপরীতে বাংলাদেশি টাকার বিনিময় হারও নিয়মিত পরিবর্তিত হচ্ছে।
সংশ্লিষ্ট কেন্দ্রীয় ও বাণিজ্যিক ব্যাংক সূত্রে জানা গেছে, গত মাসে আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিলের (আইএমএফ) শর্ত বাস্তবায়নের অংশ হিসেবে পর্যায়ক্রমে ডলারের দাম বাড়ানো এবং টাকার মান কমানো হয়েছিল। তবে সম্প্রতি ডলারের দাম আবার আগের অবস্থানের কাছাকাছি চলে এসেছে।
আন্তঃব্যাংকে ডলারের বর্তমান দর
চলতি বছরের জুলাই মাসের শুরুতে আন্তঃব্যাংক বাজারে ডলারের সর্বোচ্চ ও সর্বনিম্ন দর ১২২ টাকা ৮৫ পয়সায় স্থিতিশীল ছিল। পরে ডলারের দাম বেড়ে সর্বোচ্চ ১২৩ টাকা ৮২ পয়সায় পৌঁছায়।
তবে বর্তমানে ডলারের দাম কিছুটা কমে এসেছে। আজ মঙ্গলবার, ৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬, আন্তঃব্যাংক বাজারে ডলার লেনদেন হচ্ছে ১২২ টাকা ৭৮ পয়সা দরে।
আজকের বৈদেশিক মুদ্রার দর
বাংলাদেশ ব্যাংক ও দেশের বিভিন্ন বাণিজ্যিক ব্যাংকের তথ্য অনুযায়ী, আজকের সর্বনিম্ন মুদ্রা বিনিময় হারের একটি চিত্র হলো—
ইউএস ডলার: ১২২ টাকা ৭৮ পয়সা
ইউরো: ১৪২ টাকা ৬৮ পয়সা
পাউন্ড: ১৬৬ টাকা ২১ পয়সা
কানাডিয়ান ডলার: ৮৮ টাকা ৮৭ পয়সা
অস্ট্রেলিয়ান ডলার: ৮৮ টাকা ৫৮ পয়সা
চায়নিজ ইয়েন: ১৮ টাকা ৩০ পয়সা
সিঙ্গাপুরি ডলার: ৯৬ টাকা ৯৭ পয়সা
ভারতীয় রুপি: ১ টাকা ২৯ পয়সা
মালয়েশিয়ান রিঙ্গিত: ৩০ টাকা ৩৯ পয়সা
সৌদি রিয়াল: ৩২ টাকা ৯৭ পয়সা
কাতারি রিয়াল: ৩৩ টাকা ৭১ পয়সা
কুয়েতি দিনার: ৩৯৬ টাকা ৯৪ পয়সা
আরব আমিরাতের দিরহাম: ৩৩ টাকা ৪৬ পয়সা
মুদ্রার বিনিময় হার বাজার পরিস্থিতি ও ব্যাংকভেদে পরিবর্তিত হতে পারে। তাই লেনদেনের সময় সংশ্লিষ্ট ব্যাংক বা অনুমোদিত মানি এক্সচেঞ্জ প্রতিষ্ঠানের সর্বশেষ হার যাচাই করা প্রয়োজন।
রেমিট্যান্সে কমেছে বাজারের চাপ
আর্থিক খাতের বিশ্লেষকদের মতে, কেন্দ্রীয় ব্যাংকের কঠোর নজরদারি এবং প্রবাসী আয় বা রেমিট্যান্সের ইতিবাচক প্রবাহের কারণে খোলাবাজার ও অফিশিয়াল বিনিময় হারের মধ্যকার ব্যবধান অনেকটাই কমে এসেছে।
আইএমএফের শর্ত বাস্তবায়নের কারণে সম্প্রতি ডলারের দাম কিছুটা বাড়লেও বর্তমানে তা আবার আগের অবস্থানে ফিরে এসেছে। ডলারের এই স্থিতিশীলতা আমদানিকারক ও সাধারণ ব্যবসায়ীদের জন্য কিছুটা স্বস্তি তৈরি করেছে।
তবে আন্তর্জাতিক বাজারের পরিস্থিতি, আমদানি ব্যয়, রেমিট্যান্স প্রবাহ এবং কেন্দ্রীয় ব্যাংকের নীতিগত সিদ্ধান্তের ওপর ভবিষ্যতে বৈদেশিক মুদ্রার বিনিময় হার অনেকটাই নির্ভর করবে।
স্বদেশ প্রতিদিন/এস পি