প্রকাশ: সোমবার, ৭ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ১২:৪৯ পিএম

ইয়েমেনে ইরান-সমর্থিত হুথি বিদ্রোহীদের বিভিন্ন স্থাপনা লক্ষ্য করে একযোগে ১৩টি বিমান অভিযান পরিচালনা করেছে দেশটির সেনাবাহিনী। সোমবার (৭ সেপ্টেম্বর) ভোরে মধ্য ও দক্ষিণাঞ্চলের কয়েকটি এলাকায় এসব অভিযান চালানো হয় বলে জানিয়েছে ইয়েমেনি সেনাবাহিনী।
সেনাবাহিনীর এক বিবৃতিতে বলা হয়েছে, মধ্যাঞ্চলীয় প্রদেশ আল-বায়দার আল-শারিয়াহ, ধি নাইম, আল-বায়দা ও আল সাওয়াদিয়াহ জেলায় হুথিদের বিভিন্ন সামরিক স্থাপনা লক্ষ্য করে বিমান অভিযান পরিচালনা করা হয়। এসব হামলায় হুথিদের ক্ষেপণাস্ত্র উৎক্ষেপণ লঞ্চার, কমান্ড সেন্টার, সামরিক যানবাহন ও সমাবেশস্থলকে লক্ষ্যবস্তু করা হয়েছে।
দক্ষিণাঞ্চলীয় আল-ধালে প্রদেশেও অভিযান চালানো হয়েছে। সেখানে হুথিদের একটি কমান্ড অ্যান্ড কন্ট্রোল সেন্টার এবং নাসা পর্বতে থাকা একটি থার্মাল নজরদারি ব্যবস্থা ধ্বংস করার দাবি করেছে ইয়েমেনি বিমানবাহিনী।
এর আগের দিন রোববার হুথিদের কাছ থেকে দক্ষিণ-পূর্বাঞ্চলীয় শহর তাইজ এবং লোহিত সাগরের উপকূলবর্তী শহর আল হুদায়দার নিয়ন্ত্রণ নেওয়ার দাবি করে ইয়েমেনের সেনাবাহিনী। ওই সংঘর্ষে ২০ জনের বেশি হুথি যোদ্ধা নিহত হয়েছেন বলেও জানানো হয়েছে।
ইয়েমেনে চলমান সংঘাতের পটভূমি বেশ দীর্ঘ। ২০১৪ সালে দেশটিতে গৃহযুদ্ধ শুরু হওয়ার পর ২০১৫ সালে হুথি গোষ্ঠী রাজধানী সানা দখল করে। এর পর তৎকালীন প্রেসিডেন্ট মনসুর আবদ-আল হাদি সৌদি আরবে চলে যান। তার নেতৃত্বাধীন সরকারকে পুনরায় ক্ষমতায় প্রতিষ্ঠার লক্ষ্যে ওই বছর ইয়েমেনে সামরিক অভিযান শুরু করে ইয়েমেন-সৌদি জোট।
বর্তমানে ইয়েমেনের বিভিন্ন অঞ্চলে হুথিদের পাশাপাশি আন্তর্জাতিকভাবে স্বীকৃত সরকারের অনুগত বাহিনীর নিয়ন্ত্রণ রয়েছে। ইয়েমেনের সেনাবাহিনী প্রেসিডেন্সিয়াল কাউন্সিল সরকারের অনুগত এবং দেশটির দীর্ঘস্থায়ী সংঘাতের মধ্যে বিভিন্ন পক্ষের নিয়ন্ত্রণে ভূখণ্ড বিভক্ত হয়ে আছে।
ইরানের সঙ্গে হুথিদের ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক থাকলেও আঞ্চলিক সংঘাতের পরিবর্তিত পরিস্থিতিতে তাদের সহায়তা ও সমর্থনের মাত্রা নিয়ে নতুন বাস্তবতা তৈরি হয়েছে। এই পরিস্থিতিকে কাজে লাগিয়ে হুথিদের নিয়ন্ত্রণে থাকা এলাকাগুলো পুনরুদ্ধারে ইয়েমেনি সেনাবাহিনী গত জুলাই থেকে অভিযান আরও জোরদার করেছে বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।
সাম্প্রতিক সামরিক তৎপরতায় হুথিদের সামরিক অবকাঠামো ও যোগাযোগব্যবস্থাকে লক্ষ্য করা হচ্ছে। তাইজ ও আল হুদায়দার মতো গুরুত্বপূর্ণ এলাকার নিয়ন্ত্রণ নিয়ে নেওয়ার পর নতুন করে বিমান অভিযান চালানোয় ইয়েমেনের চলমান সংঘাত আরও তীব্র হওয়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে।
স্বদেশ প্রতিদিন/এস পি