প্রকাশ: রবিবার, ৬ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ৭:৪৩ পিএম আপডেট: ০৬.০৯.২০২৬ ৭:৪৬ PM

ইরানের সঙ্গে চলমান যুদ্ধকে কেন্দ্র করে যুক্তরাষ্ট্রের ক্ষেপণাস্ত্র ও প্রয়োজনীয় যুদ্ধাস্ত্রের মজুদ কমে আসছে—এমন গোপন তথ্য আন্তর্জাতিক গণমাধ্যমে প্রকাশ পাওয়ার পর ওয়াশিংটনে ব্যাপক তোলপাড় শুরু হয়েছে।
তথ্যটি কার মাধ্যমে সাংবাদিকদের কাছে ফাঁস হয়েছে, তা শনাক্ত করতে মার্কিন সামরিক বাহিনীর ৫০ জন শীর্ষ কর্মকর্তা ও সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তার পলিগ্রাফ পরীক্ষা নেওয়া হয়েছে। মার্কিন সামরিক বাহিনীর ইতিহাসে এমন বড় পরিসরে পলিগ্রাফ পরীক্ষা নেওয়ার ঘটনা নজিরবিহীন বলে জানা গেছে।
‘নিউ ইয়র্ক টাইমস’-এর প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, আগস্টে পেন্টাগনের উচ্চপদস্থ সামরিক ও বেসামরিক কর্মকর্তাদের এই পরীক্ষার আওতায় আনা হয়। গোপন তথ্য ফাঁসের সঙ্গে কারা জড়িত, তা শনাক্ত করার পাশাপাশি ভবিষ্যতে এ ধরনের ঘটনা ঠেকাতে কর্মকর্তাদের সতর্ক করাও ছিল এই উদ্যোগের অন্যতম উদ্দেশ্য।
দূরপাল্লার ক্ষেপণাস্ত্র ও আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থার প্রয়োজনীয় অস্ত্রের মজুদ কমে যাওয়ার বিষয়ে একাধিক প্রতিবেদন প্রকাশের পরই প্রশাসন কঠোর অবস্থান নেয়।
পেন্টাগনের মুখপাত্র শিন পারনেল বলেন, জাতীয় নিরাপত্তার সঙ্গে সংশ্লিষ্ট গোপন তথ্য ফাঁসকে অত্যন্ত গুরুতর অপরাধ হিসেবে বিবেচনা করা হয়। এ ধরনের তথ্য কীভাবে বাইরে গেল, তা শনাক্ত করতে তদন্ত চলছে।
এদিকে যুক্তরাষ্ট্রের অস্ত্রের মজুদ নিয়ে সংবাদ প্রকাশিত হওয়ায় ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দেওয়া এক বক্তব্যে তিনি এ ধরনের খবরকে সম্পূর্ণ মিথ্যা বলে দাবি করেন। একই সঙ্গে তথ্য ফাঁসকারীদের ‘দেশদ্রোহী’ হিসেবে অভিহিত করেন তিনি।
ট্রাম্পের দাবি, বর্তমানে চলমান যুদ্ধ কিংবা ভবিষ্যতের যেকোনো সংঘাত মোকাবিলায় যুক্তরাষ্ট্রের কাছে পর্যাপ্ত এবং প্রায় সীমাহীন যুদ্ধাস্ত্রের মজুদ রয়েছে।
তিনি আরও বলেন, যুক্তরাষ্ট্র বর্তমানে ইতিহাসের অন্য যেকোনো সময়ের তুলনায় দ্রুতগতিতে নতুন যুদ্ধাস্ত্র উৎপাদন করছে। ফলে দেশের সামরিক সক্ষমতা নিয়ে উদ্বেগের কোনো কারণ নেই বলেও আশ্বস্ত করেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট।
গোপন তথ্য ফাঁসের ঘটনায় পলিগ্রাফ পরীক্ষা এবং অস্ত্রের মজুদ নিয়ে প্রেসিডেন্টের বক্তব্য—দুই বিষয় ঘিরেই যুক্তরাষ্ট্রের প্রশাসন ও সামরিক মহলে নতুন করে আলোচনা শুরু হয়েছে।
স্বদেশ প্রতিদিন/এফএইচ