প্রকাশ: শনিবার, ৫ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ৭:২৫ পিএম আপডেট: ০৫.০৯.২০২৬ ৭:২৮ PM

আমেরিকান বাজারে তৈরি পোশাক রপ্তানিতে চীনকে আবার পেছনে ফেলে দ্বিতীয় স্থান ধরে রেখেছে বাংলাদেশ। চলতি বছরের জানুয়ারি-জুলাই মেয়াদে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে চীনের তৈরি পোশাক রপ্তানিতে রেকর্ড পতন ঘটায় বাংলাদেশ এই অবস্থান বজায় রাখতে সক্ষম হয়েছে।
ইউএস অফিস অব টেক্সটাইল অ্যান্ড অ্যাপারেল (OTEXA)-এর সাম্প্রতিক তথ্য অনুযায়ী, জানুয়ারি-জুলাই মেয়াদে যুক্তরাষ্ট্রের বাজারে সামগ্রিক পোশাক আমদানি ৮.৬৫ শতাংশ কমে মোট ৪১.৮৩ বিলিয়ন ডলারে নেমে এসেছে। আমেরিকান বাজারে স্থানীয়ভাবে তৈরি পোশাকের চাহিদা কমে যাওয়ার কারণে বাংলাদেশ থেকেও রপ্তানি আগের বছরের একই সময়ের তুলনায় ৬.৫০ শতাংশ কমে ৪.৬৬ বিলিয়ন ডলারে দাঁড়িয়েছে। তা সত্ত্বেও বাংলাদেশ তার দ্বিতীয় অবস্থান ধরে রাখতে পেরেছে। কেবল জুলাই মাসেই বাংলাদেশ থেকে যুক্তরাষ্ট্রে পোশাক পাঠানে ১০.৭৩ শতাংশ পতন লক্ষ্য করা গেছে।
এর আগে চলতি বছরের জানুয়ারি-ফেব্রুয়ারি মেয়াদে ট্রাম্প প্রশাসন চীনা পণ্যের ওপর অতিরিক্ত শুল্ক আরোপ করায় প্রথমবারের মতো যুক্তরাষ্ট্রে পোশাক চালানে চীনকে টপকে যায় বাংলাদেশ।
রপ্তানি মূল্যের বিচারে প্রধান প্রতিদ্বন্দ্বী দেশগুলোর অবস্থান চীনের রপ্তানি ৩৪.২১ শতাংশ কমে ৪.৫৫ বিলিয়ন ডলারে নেমেছে।ভারতের রপ্তানি ২৫.৭৭ শতাংশ কমে দাঁড়িয়েছে ২.৪৫ বিলিয়ন ডলারে।পাকিস্তানের রপ্তানি ৫.৬০ শতাংশ কমে হয়েছে ১.২৬ বিলিয়ন ডলার।ভিয়েতনামের ১.০৩ শতাংশ পতন সত্ত্বেও ৯.৩৬ বিলিয়ন ডলারের পোশাক রপ্তানি করে প্রথম স্থান ধরে রেখেছে।
ইন্দোনেশিয়া ও কম্বোডিয়া: ইতিবাচক প্রবৃদ্ধি দেখিয়েছে দেশ দুটি। ইন্দোনেশিয়ার রপ্তানি ২.৭৬ শতাংশ বেড়ে ২.৭৪ বিলিয়ন ডলার এবং কম্বোডিয়ার ১০.৪৮ শতাংশ বেড়ে ২.৬২ বিলিয়ন ডলারে পৌঁছেছে।
পোশাকের পরিমাণের (পিস হিসেবে) দিক থেকে বাংলাদেশ, চীন এবং ভারতের চালান যথাক্রমে ৪.৩৪ শতাংশ, ২৪.১৭ শতাংশ এবং ২৪.০২ শতাংশ কমেছে।
তবে সামগ্রিকভাবে পোশাকের ইউনিট মূল্য বা গড় দাম কমেছে। চীনের ক্ষেত্রে ইউনিট মূল্য সর্বোচ্চ ১৩.২৪ শতাংশ হ্রাস পেয়েছে। এর বিপরীতে বাংলাদেশের ক্ষেত্রে এই হ্রাসের হার ছিল বেশ সহনীয়—মাত্র ২.২৬ শতাংশ। অন্যদিকে ভিয়েতনাম, ইন্দোনেশিয়া ও কম্বোডিয়ার জন্য গড় ইউনিট মূল্য কিছুটা বৃদ্ধি পেয়েছে।
স্বদেশ প্রতিদিন/এফএইচ