
২০৭৮ কোটি টাকা খরচ করে আলেকসান্দার ইসাককে দলে ভেড়ানোর পর প্রথম মৌসুমটা লিভারপুলের জন্য মোটেও স্বস্তির ছিল না। চোট, ফিটনেস সমস্যা আর অনিয়মিত খেলার কারণে সুইডিশ স্ট্রাইকারকে তাঁর পরিচিত ছন্দে দেখা যায়নি। তবে নতুন মৌসুমের শুরুতেই যেন বদলে গেছে সেই চিত্র।
ইপসউইচ টাউনের মাঠে প্রিমিয়ার লিগের ম্যাচে লিভারপুলের ২-০ গোলের জয়ে দুই গোলই করেছেন ইসাক। ম্যাচের মাত্র ৬ ও ৯ মিনিটে করা তাঁর দুই গোলেই নিশ্চিত হয়ে যায় লিভারপুলের জয়। চলতি মৌসুমে তিন ম্যাচেই এখন তাঁর গোলসংখ্যা তিন।
গত মৌসুমে ২২ ম্যাচে মাত্র ১,০৩৩ মিনিট মাঠে থেকে ইসাক করেছিলেন চার গোল। প্রিমিয়ার লিগে ১৪ ম্যাচে ৭০৩ মিনিট খেলে করেছিলেন তিন গোল। ব্রিটিশ রেকর্ড ১২ কোটি ৫০ লাখ পাউন্ডে কেনা একজন স্ট্রাইকারের কাছ থেকে এমন পারফরম্যান্স অবশ্যই প্রত্যাশার তুলনায় কম ছিল।
কিন্তু ইপসউইচের বিপক্ষে ম্যাচে সেই ইসাককেই দেখা গেছে তাঁর পরিচিত রূপে। লিভারপুলের হয়ে দুই গোল করার পাশাপাশি আরও একটি গোল করেছিলেন তিনি, যদিও অফসাইডের কারণে সেটি বাতিল হয়। ফলে হ্যাটট্রিকের খুব কাছাকাছিও পৌঁছে গিয়েছিলেন এই সুইডিশ তারকা।
ম্যাচে ইসাকের প্রথম গোলটি আসে কোডি গাকপোর নিখুঁত পাস থেকে। বক্সে ঢুকে শক্তিশালী শটে বল জালে পাঠান তিনি। দ্বিতীয় গোলটি ছিল আরও বেশি নজরকাড়া। অফসাইডের ফাঁদ এড়াতে বক্সে ঢোকার আগে নিজের দৌড়ের গতি নিয়ন্ত্রণ করেন ইসাক। এরপর গাকপোর দারুণ ‘ট্রিভেল্লা’ পাস নিয়ন্ত্রণ করে ঠান্ডা মাথায় বাঁ পায়ের শটে গোল করেন।
ইসাকের এমন পারফরম্যান্সের পেছনে কোচ আন্দোনি ইরাওলার কৌশলও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে। তাঁকে তাঁর সবচেয়ে কার্যকর ভূমিকায় খেলাচ্ছেন লিভারপুল কোচ—ডিফেন্ডারদের পেছনে দ্রুতগতিতে ঢুকে পড়া এবং আক্রমণের সময় প্রতিপক্ষের ওপর তীব্র চাপ তৈরি করা। নিউক্যাসল ইউনাইটেডে থাকার সময় যে ধরনের ফুটবল খেলে ইসাক বিশ্বের অন্যতম কাঙ্ক্ষিত স্ট্রাইকারে পরিণত হয়েছিলেন, সেই চেনা ছবিটাই এখন দেখা যাচ্ছে আবার।
ইসাকের প্রথম মৌসুম কঠিন হওয়ার পেছনে বড় কারণ ছিল চোট। দেরিতে দলে যোগ দেওয়ায় সতীর্থদের তুলনায় ফিটনেসে কিছুটা পিছিয়ে ছিলেন তিনি। এরপর ভাঙা পা ও পেশির চোটে দীর্ঘ সময় মাঠের বাইরে থাকতে হয়। ফলে নিয়মিত খেলার সুযোগ না পাওয়ায় নিজের সেরা ছন্দে ফিরতে পারেননি। একই সময়ে লিভারপুলের আরেক স্ট্রাইকার উগো একিতিকের পারফরম্যান্সও তাঁকে অনেকটা আড়ালে ফেলে দিয়েছিল।
তবে নতুন মৌসুমে পরিস্থিতি বদলাতে শুরু করেছে। ইপসউইচের বিপক্ষে জোড়া গোলের পর ইসাক নিজেও স্বীকার করেছেন, গত মৌসুম তাঁর জন্য সহজ ছিল না।
“সময়টা একেবারেই সহজ ছিল না। দীর্ঘদিনের চোটের ধাক্কা এবং সার্বিকভাবেই মৌসুমটা বেশ কঠিন কেটেছে। কঠিন দিনগুলো এখন পেছনে ফেলে এসেছি, তবে শুরুটা আসলেই সহজ ছিল না।”
নতুন মৌসুমের শুরুতে দলের পারফরম্যান্স নিয়েও সন্তুষ্ট ইসাক। তাঁর মতে, প্রাক্-মৌসুম প্রস্তুতির পর লিভারপুল নিজেদের কাঙ্ক্ষিত আক্রমণাত্মক ফুটবলে ফিরতে শুরু করেছে।
“প্রাক্-মৌসুম প্রস্তুতির পর আমরা নিজেদের কাঙ্ক্ষিত খেলার শৈলীতে ফিরতে শুরু করেছি। মূল লক্ষ্যই হলো আক্রমণাত্মক ফুটবল খেলা এবং প্রতিপক্ষকে চেপে ধরা। আমার মনে হয় আমরা সেটা করতে পেরেছি। দুটি গোল করেছি, তবে গোলের সুযোগ ছিল আরও বেশি।”
ইপসউইচের বিপক্ষে ইসাকের পারফরম্যান্সকে তাই শুধু একটি ম্যাচের জোড়া গোল হিসেবে দেখার সুযোগ কম। ২০৭৮ কোটি টাকার সেই রেকর্ড ট্রান্সফারের আসল মূল্য প্রমাণের যাত্রাটা হয়তো এবারই শুরু করলেন সুইডিশ স্ট্রাইকার।
স্বদেশ প্রতিদিন/এফএইচ