| শিরোনাম: |

দেশের বাজারে আবারও কমেছে সোনার দাম। বিশ্ববাজারে সোনার দর কমে যাওয়ার প্রভাবে দেশের বাজারেও মূল্য সমন্বয় করেছে বাংলাদেশ জুয়েলার্স সমিতি (বাজুস)। নতুন সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, ভালো মানের অর্থাৎ ২২ ক্যারেট সোনার দাম ভরিতে ৪ হাজার ৩৭৪ টাকা কমেছে।
বুধবার (২ সেপ্টেম্বর) সকাল ১০টা থেকে নতুন এ দাম কার্যকর হয়েছে। বাজুস বিজ্ঞপ্তির মাধ্যমে সোনার দাম কমানোর বিষয়টি জানিয়েছে।
নতুন দাম অনুযায়ী, এখন দেশের বাজারে ২২ ক্যারেটের এক ভরি সোনার দাম ২ লাখ ৩১ হাজার ৮৮০ টাকা। ২১ ক্যারেটের প্রতি ভরি সোনার দাম নির্ধারণ করা হয়েছে ২ লাখ ২১ হাজার ৪৪১ টাকা। এ ছাড়া ১৮ ক্যারেটের এক ভরি সোনার দাম ১ লাখ ৯০ হাজার ১২৩ টাকা এবং সনাতন পদ্ধতির সোনার দাম ১ লাখ ৫৫ হাজার ৩০৬ টাকা।
এর আগে ২২ ক্যারেটের প্রতি ভরি সোনার দাম ছিল ২ লাখ ৩৬ হাজার ২৫৪ টাকা। ২১ ক্যারেটের দাম ছিল ২ লাখ ২৫ হাজার ৬৪০ টাকা। ১৮ ক্যারেটের সোনার দাম ছিল ১ লাখ ৯৩ হাজার ৭৩৯ টাকা এবং সনাতন পদ্ধতির প্রতি ভরি সোনার দাম ছিল ১ লাখ ৫৮ হাজার ২৮০ টাকা।
বাজুস জানিয়েছে, স্থানীয় বাজারে তেজাবি সোনার দাম কমে যাওয়ায় দেশের বাজারে সোনার দাম সমন্বয় করা হয়েছে। তবে আন্তর্জাতিক বাজারের পরিস্থিতিও দেশের বাজারে সোনার দামের ওপর বড় প্রভাব ফেলছে।
এদিকে রুপার দামও নতুন করে নির্ধারণ করা হয়েছে। ২২ ক্যারেটের প্রতি ভরি রুপার দাম ৫ হাজার ১৫ টাকা, ২১ ক্যারেটের ৪ হাজার ৭৮২ টাকা, ১৮ ক্যারেটের ৪ হাজার ৮২ টাকা এবং সনাতন পদ্ধতির রুপার দাম ৩ হাজার ৯০ টাকা।
এর আগে গত ৩১ আগস্ট দেশের বাজারে সোনার দাম ভরিতে সর্বোচ্চ ৪ হাজার ৪৭৪ টাকা কমানো হয়েছিল। ফলে অল্প সময়ের ব্যবধানে আবারও সোনার দাম কমল।
চলতি বছরের ২৯ জানুয়ারি দেশের বাজারে সোনার দাম ইতিহাসের সর্বোচ্চ পর্যায়ে উঠেছিল। ওই দিন একলাফে ভরিতে ১৬ হাজার ২১৩ টাকা বেড়ে ২২ ক্যারেটের সোনার দাম ২ লাখ ৮৬ হাজার টাকায় পৌঁছেছিল। পরবর্তী সময়ে অবশ্য সোনার দাম কমতে কমতে ২ লাখ ২০ হাজার টাকার নিচেও নেমে আসে।
বিশ্ববাজারেও গত কয়েক দিন ধরে সোনার দামে নিম্নমুখী প্রবণতা দেখা যাচ্ছে। গত সপ্তাহ থেকে আন্তর্জাতিক বাজারে সোনার দাম কমছে। বুধবার বাংলাদেশ সময় সকাল ৬টা ১৭ মিনিটের দিকে স্পট মার্কেটে সোনার দাম দশমিক ৬ শতাংশ কমে প্রতি আউন্স ৪ হাজার ৩০৪ দশমিক ০১ ডলারে নেমে আসে।
৭ আগস্টের পর এটিই বিশ্ববাজারে সোনার সর্বনিম্ন দাম। এর ফলে টানা চতুর্থ দিনের মতো আন্তর্জাতিক বাজারে সোনার দাম কমার সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে।
বাজার বিশ্লেষণে সোনার ২০০ দিনের গড় দাম একটি গুরুত্বপূর্ণ সূচক। বর্তমানে আন্তর্জাতিক বাজারে সোনার দাম সেই গড়েরও নিচে অবস্থান করছে। অন্যদিকে যুক্তরাষ্ট্রের বাজারে ডিসেম্বর সরবরাহের জন্য সোনার আগাম দরও প্রায় ১ শতাংশ কমে প্রতি আউন্স ৪ হাজার ৩৫০ দশমিক ৮০ ডলারে নেমেছে।
মার্কিন ডলারের তুলনামূলক শক্ত অবস্থানও সোনার দামে প্রভাব ফেলছে। ডলারের মূল্য বাড়লে অন্যান্য মুদ্রায় লেনদেন করা ক্রেতাদের জন্য ডলারে নির্ধারিত সোনা তুলনামূলক ব্যয়বহুল হয়ে ওঠে। ফলে আন্তর্জাতিক বাজারে সোনার চাহিদা ও দামে এর প্রভাব পড়তে পারে।
এদিকে মধ্যপ্রাচ্যের সাম্প্রতিক উত্তেজনা, তেলের দাম বৃদ্ধি এবং যুক্তরাষ্ট্রের ট্রেজারি বন্ডের সুদহার বৃদ্ধিও আন্তর্জাতিক বাজারের বিভিন্ন মূল্যবান ধাতুর দামে প্রভাব ফেলছে। এসব পরিস্থিতির মধ্যেই বিশ্ববাজারে সোনার দামে টানা পতন দেখা যাচ্ছে।