প্রকাশ: রবিবার, ২৩ নভেম্বর, ২০২৫, ৪:০৫ AM

আখাউড়া স্থলবন্দর দিয়ে মাছ রপ্তানি শুরু
সার্টিফিকেট সংক্রমিত জটিলতায় একদিন বন্ধ থাকার পর অবশেষে ব্রাহ্মণবাড়িয়ার আখাউড়া স্থলবন্দর দিয়ে পুনরায় মাছ রপ্তানি কার্যক্রম শুরু হয়েছে। রপ্তানিমুখী এ বন্দর দিয়ে শনিবার প্রায় ৬০ মেট্রিক টন মাছ ভারতে যায়। মাছের মোট মূল্য দেড় লাখ ডলার, যা বাংলাদেশি টাকায় প্রায় পৌনে দুই কোটি।
গত বৃহস্পতিবার অনলাইন সনদ জটিলতায় মাছের পাশাপাশি শুঁটকি রপ্তানি বন্ধ রাখতে হয়েছে বলে জানিয়েছেন স্থানীয় ব্যবসায়ীরা। প্রতিদিন এ স্থলবন্দর দিয়ে বিপুল পরিমাণ মাছ ও শুঁটকি ভারতে রপ্তানি হয়ে থাকে। একদিন রপ্তানি বন্ধ থাকায় অনেক টাকা ক্ষতি হয়েছে বলে দাবি করেছেন সংশ্লিষ্টরা।
খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, ব্যাবসায়িক সুবিধা বাড়ানো ও পেপার লেস কাস্টম্সের আওতায় গত ১৯ নভেম্বর বুধবার থেকে অনলাইনে সনদ নেওয়ার সিদ্ধান্ত নেয় জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর)। এ জন্য একটি বিশেষ কোড ব্যবহার করতে হবে। কিন্তু এ সংক্রমিত সিদ্ধান্তের বিষয়টি স্থানীয় কর্তৃপক্ষ ও মাছ রপ্তানিকারকরা অবগত না থাকায় সমস্যা দেখা দেয়।
আখাউড়া স্থলবন্দর আমদানি-রপ্তানিকারক অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি মো. ফারুক মিয়া বলেন, মাছ ও শুঁটকি পাঠানোর জন্য একটি বিশেষ সনদ উপজেলা মৎস্য অফিস থেকে নিতে হয়। গত ১৩ নভেম্বর এনবিআর এক চিঠিতে জানায়, এই সনদ মেন্যুয়ালির বদলে অনলাইনে নিতে হবে। এর ফলে মাছ রপ্তানির বিষয়ে তথ্যের বিশ্বব্যাপী একটা আন্তঃসংযোগ ঘটবে। এ বিষয়ে সংশ্লিষ্টদের কাছে চিঠি পাঠায় এনবিআর। কিন্তু অনলাইনে সনদের বিষয়ে কর্তৃপক্ষ কোনো উদ্যোগ নেয়নি।
ফারুক মিয়া আরো বলেন, ‘বুধবার প্রায় পৌনে দুই কোটি টাকার মাছ রপ্তানির প্রস্তুতি নেওয়া হয়। তখন মৎস্য অফিসের মাধ্যমে সনদ আনতে গেলে বিষয়টি জানাজানি হয়। এক কর্মকর্তার বিশেষ অনুমতি নিয়ে নানা প্রক্রিয়া শেষে মাছগুলো ভারতে পাঠানো হয়। তবে বৃহস্পতিবার থেকে অনলাইন সনদ ছাড়া মাছ পাঠানো যাবে না বলে ওই কর্মকর্তা জানান।
এ অবস্থায় আমরা মাছ ও শুঁটকি রপ্তানি বন্ধ রাখতে বাধ্য হই। তবে জটিলতা কাটিয়ে সকাল থেকে মাছ রপ্তানি শুরু হয়। আখাউড়া স্থলবন্দর সিঅ্যান্ডএফ অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি নেসার আহমেদ ভুঁইয়া বলেন, ‘আখাউড়া স্থলবন্দর রপ্তানিমুখী। সবচেয়ে বেশি রপ্তানি হয় মাছ। কিন্তু মাছ রপ্তানি বন্ধ থাকায় ব্যবসায়ীরা যেমন : লোকসান গুনছেন, তেমনি সরকারও বৈদেশিক মুদ্রা আয় থেকে বঞ্চিত হয়েছে। তবে পুনরায় শনিবার থেকে মাছ রপ্তানি করা সম্ভব হয়েছে।
আখাউড়া উপজেলা মৎস্য সম্প্রসারণ কর্মকর্তা মো. রেজাউল করিম বলেন, ‘অনলাইন সনদের সিদ্ধান্তের বিষয়টি আমাদের জানা ছিল না। তবে বৃহস্পতিবার আমরা অনলাইনে সনদ দেওয়ার কোড পেয়ে যাই।
স্বদেশ প্রতিদিন/ নিয়াজ