
ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে বিএনপির প্রার্থী ঘোষণা করা মাত্রই দেশে সহিংসতা ও নাশকতার “তৃতীয় বিশ্বযুদ্ধ” শুরু হয়েছে বলে মন্তব্য করেছেন ইসলামি আন্দোলন বাংলাদেশের প্রেসিডিয়াম সদস্য অধ্যাপক আশরাফ আলী আকন।
শুক্রবার (২১ নভেম্বর) বিকেল ৪টায় কুড়িগ্রামের নাগেশ্বরীর ডি. এম. একাডেমি ফুটবল মাঠে ইসলামি আন্দোলন বাংলাদেশ আয়োজিত ওয়ার্ড প্রতিনিধি সম্মেলনে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ মন্তব্য করেন।
অধ্যাপক আকন বলেন, প্রার্থী ঘোষণার পর দেশের বিভিন্ন স্থানে আগুন, ভাঙচুর, সংঘর্ষসহ রাজনৈতিক অস্থিরতা নতুন রূপ নিয়েছে, যা নির্বাচনী পরিবেশকে প্রশ্নবিদ্ধ করছে। তার অভিযোগ, বিএনপির কর্মীরা বাস ও দোকানপাটে হামলা চালাচ্ছে এবং নাশকতা করছে।
তিনি আরও বলেন, “ড. ইউনুস সরকার আপনাদের মনোনয়ন দেয়নি, দিয়েছে তারেক রহমান। তাহলে তারেক রহমানের বাসায় আগুন লাগান, দেশের সম্পদ নষ্ট করছেন কেন? নির্বাচনের আগেই আগুন–জ্বালাও-পোড়াও শুরু হয়েছে—এবার আমরা এগুলো চলতে দেব না।”
ভোট নিয়ে সহিংসতার বিষয়ে তিনি হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেন, “যারা ভোট ডাকাতির চেষ্টা করবে বা কেন্দ্র দখলে যেতে চাইবে, তাদের কঠোরভাবে প্রতিরোধ করা হবে। জামায়াতের আমীর ডা. শফিকুর রহমানও বলেছেন—ভোট ডাকাতি করতে এলে হাত ভেঙে দেওয়া হবে।”
দেশের দুর্নীতি, অর্থনীতি ও সামাজিক নিরাপত্তা পরিস্থিতি নিয়ে তিনি বলেন, দুর্নীতি বন্ধ করতে পারলে শ্রমিকদের বেতন দ্বিগুণ বাড়ানো, চাল ৪০ টাকায় বিক্রি, বিদ্যুতের দাম এক-তৃতীয়াংশ কমানো এবং পরিবহন ভাড়া কমানো সম্ভব।
তিনি অভিযোগ করেন, “৯২ ভাগ মুসলমানের দেশে এবং লাখ লাখ মসজিদ-মাদ্রাসা থাকার পরও আমরা পাঁচবার দুর্নীতিতে বিশ্বচ্যাম্পিয়ন হয়েছি—এটা লজ্জাজনক। দুর্নীতিবাজদের হাতে দেশ দিলে উন্নতি হবে না।”
জোটগত প্রার্থী নিয়ে দিকনির্দেশনা দিয়ে তিনি বলেন, “এই আসনে জোটগতভাবে ইসলামি আন্দোলনের প্রার্থী দিলে হাতপাখায় ভোট দেবেন। আর জামায়াতের প্রার্থী হলে দাঁড়িপাল্লায় ভোট দেবেন।”
সম্মেলনে বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন ইসলামি আন্দোলন বাংলাদেশের কেন্দ্রীয় যুগ্ম-মহাসচিব ইঞ্জিনিয়ার আশরাফুল আলম, রংপুর বিভাগীয় সাংগঠনিক সম্পাদক এডভোকেট এম. হাসিবুল ইসলাম, কুড়িগ্রাম-১ আসনের সংসদ প্রার্থী হারিসুল বারী রনি এবং ইসলামি ছাত্র আন্দোলনের সেক্রেটারি জেনারেল শেখ মাহবুবুর রহমান নাহিয়ানসহ জেলা ও উপজেলা নেতৃবৃন্দ।
স্বদেশ প্রতিদিন/কেআইকে