
কথায় আছে, ‘মাছে ভাতে বাঙালি’। কারণ, মাছ বাঙালির একটু বেশিই প্রিয়। তাছাড়া নদীমাতৃক দেশ হওয়ায় মাছের প্রাচুর্যতাও বেশি। তবে আজকাল ব্যস্ততার কারণে অনেকেই বাজার থেকে মাছ কেনার পর বাসায় গিয়ে তা কাটার ঝামেলা নিতে চান না। তাই মাছ কেনার পর অনেক ক্রেতাই এখন শরণাপন্ন হচ্ছেন মাছ কাটিয়াদের কাছে। স্থানীয়ভাবে তাদেরকে ‘মাছ কাটিয়া’ বা ‘মাছ কুটনি’ বলা হয়।
দা, বটি নিয়ে বেশ কয়েকজন লোক কাঠের পিঁড়িতে বসে আবার কেউ দাঁড়িয়ে কাজ করছেন। পাশে রাখা আছে ছাঁই। ব্যাগ ভর্তি মাছ তাদের হাতে তুলে দিচ্ছেন ক্রেতারা। মাছগুলো সযত্নে কুটে আবার তাদের ব্যাগে ভরে দিচ্ছেন মাছ কুটনি। এমন দৃশ্য দেখা যায় ব্রাহ্মণবাড়িয়ার আখাউড়ায় পৌর শহরের সড়ক বাজার মাছ বাজারে। জীবিকার প্রয়োজনে মাছ কুটতেই শুরু হয় তাঁদের দিন। মাছ কুটে যা আয় হয় এতেই চলে তাদের সংসার।
খোঁজ নিয়ে জানা যায়, পৌর শহরের সড়ক বাজারে রয়েছে মাছ বাজার। সকাল থেকেই জমে উঠে এই বাজার। দৈনন্দিন বাসা বাড়িতে খাবারের পাশাপাশি ছোট-বড় যেকোনো অনুষ্ঠানের জন্য লোকজন এই বাজার থেকে মাছ ক্রয় করছেন। তবে বেশীভাগ লোকজন তাদের ক্রয়করা মাছগুলো কুটে নিয়ে যাচ্ছে। প্রতি কেজি মাছ কুটতে মজুরি ১৫ টাকা নিচ্ছেন। দৈনিক এভাবে মাছ কেটে প্রত্যেকে এক হাজার থেকে দেড় হাজার টাকার উপর আয় করছেন।
বাজারে আসা একাধিক লোকজনরা জানায়, এমনিতেই সারা দিন আমাদের কাজে ব্যস্ত থাকতে হয়। একদিকে বাসায় কাজের লোকের সমস্যা, অন্য দিকে দৈনিক স্ব স্ব প্রতিষ্ঠানের কাজ, কেনাকাটা আর রান্নাবান্নার মতো জরুরি কাজ করে হাঁপিয়ে উঠতে হয়। তাই সময় বাঁচাতে বাজার থেকে মাছ কিনে সেখান থেকেই কুটে বাসায় নিয়ে যায়। এতে আর কোন বাড়তি ঝামেলা পোহাতে হয় না।
মাছ কুটার সাথে জড়িত প্রসনজিৎ বলেন, এক সময় মাছের আড়তে শ্রমিকের কাজ করা হতো। সংসারের খরচ বেড়ে যাওয়ায় চলা খুবই কষ্ট হয়ে যায়। তাই এই পেশা ছেড়ে দিয়ে বাজারে মাছ কুটার কাজ করছি। প্রতিদিন সকাল ৮ থেকে দুপুর পর্যন্ত মাছ কুটার কাজ করছি। চাকুরজীবি, ব্যবসায়ীসহ বিভিন্ন শ্রেণি পেশার মানুষ মাছ কিনে তাদের বাসা বাড়িতে কুটে নিয়ে যায়। প্রতি কেজি মাছ ১৫ টাকা নেওয়া হয়। প্রতিদিন এভাবে মাছ কুটে নিচে দেড় হাজার টাকা আয় হয় বলে জানায়।
তিনি আরও বলেন সপ্তাহে ছুটির দিন শুক্রবার কিংবা বিভিন্ন দিবসে বাজারে ক্রেতা সমাগম বেশি হওয়ায় ব্যস্তা কয়েকগুন বেড়ে যায়। এই কাজের সহযোগিতার জন্য দোকানে একজন শ্রমিক রাখা হয়েছে। প্রতিমাসে দোকান ভাড়া, বিদ্যুৎ বিল, শ্রমিক বেতন ,অন্যান্য খরচ বাদে ২০ হাজার টাকার উপর আয় হয়।
পৌর শহরের কলেজ পাড়া এলাকার গৃহিণী আয়েশা আক্তার বলেন, আমি একটি বেসরকারি প্রতিষ্ঠানে কাজ করছি। সংসারে এক ছেলে এক মেয়ে রয়েছে। আমার কর্মস্থল ব্রাহ্মণবাড়িয়া হওয়ায় নির্ধারিত সময়ের আগেই বাসা থেকে বের হতে হয়। বর্তমানে বাসায় কোন কাজের লোক না থাকায় সব কাজ এক হাতে করতে হয়। তাই সময় বাঁচাতে, বাজার থেকে মাছ কিনে কুটে নিয়ে যাচ্ছি। এতে করে বাড়তি কোনো ঝামেলা পোহাতে হয় না।
সড়ক বাজারের ব্যবসায়ী মনিরুল ইসলাম বলেন, স্ত্রী বেশ কিছু দিন ধরে অসুস্থ। বাসায় কাজের লোক ছিল সে অসুস্থ হওয়ায় চলে গেছে। যখন বাজার থেকে মাছ কেনা হয় তখন এগুলো কুটে নেওয়া হয়। এই ব্যবস্থা না থাকলে আমাদের মতো পরিবারগুলো যেন মাছ খাওয়া ছেড়ে দিতে হতো। বাজারে মাছ কুটার ব্যবস্থা থাকায় এখন রীতিমতো মাছ কিনে খাওয়া যাচ্ছে।
স্বদেশ প্রতিদিন/ এমএস