মহেশখালী উপজেলার কুতুবজোম ইউনিয়নে অবস্থিত সোনাদিয়া দ্বীপ একটি বহু পরিচিত একটি নাম। এটি কক্সবাজার শহর থেকে প্রায় ১৫ কিলোমিটার উত্তর- পশ্চিমে বঙ্গোপসাগরের তীরে অবস্থিত প্রায় ৯ হাজার একরের এ দ্বীপ রক্ষায় সরকার সোনাদিয়া ঘিরে লক্ষ লক্ষ ম্যানগ্রোভ চারা রোপণ করে কিন্তু (২০১৫ সালের রিপোর্ট অনুযায়ী) চিংড়ি চাষের জন্য প্রায় ৩ হাজার একরের বেশি প্যারাবন ধ্বংস করে ৩৭টি চিংড়িঘের তৈরি করা ভূমি দস্যুরা।
মহেশখালী দায়িত্বরত বেজা, উপজেলা প্রশাসন, বন বিভাগ ও পরিবেশ অধিদপ্তরের নীরবতা এবং দায়িত্বহীনতার সুযোগে এখনো চলছে নির্বিচারে প্যারাবন ধ্বংসের মহোৎসব।
স্থানীয়দের সাথে কথা বলে জানা যায়, গত কয়েকদিন ধরে ভূমি দস্যুরা ঘটিভাঙ্গার পশ্চিমে শত শত শ্রমিক ও স্কেভেটার ব্যবহার করে হাজার হাজার বাইন, কেওড়া এবং অন্যান্য বনজগাছ কেটে শত একর প্যারাবন উজাড় করছে। মাটি কেটে তৈরি করা হচ্ছে চিংড়ি ঘের। জীববৈচিত্র্য ধ্বংসের এই ঘটনা পরিবেশের জন্য মারাত্মক হুমকি তৈরি করলেও সংশ্লিষ্ট দপ্তরগুলোর জোরালো পদক্ষেপ না থাকায় স্থানীয়দের মধ্যে
তীব্র ক্ষোভ ও হতাশা দেখা দিয়েছে।
এ ব্যাপারে মহেশখালী রেঞ্জ কর্মকর্তা আয়ূব আলীর সাথে কথা হলে তিনি নানা জটিলতার কথা প্রকাশ করে বলেন, “জায়গাগুলো বেজার। তারা আমাদের বুঝিয়ে না দেওয়ায় প্যারাবন কেটে চিংড়ি ঘের করলেও আমাদের কিছু করার নেই। বিষয়টি উপজেলা প্রশাসন, বেজা বা পরিবেশ অধিদপ্তরের দেখার কথা। তারা সহযোগিতা চাইলে আমরা সঙ্গে যেতে পারি।”
কুতুবজোম ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান শেখ কামাল বলেন, “প্যারাবন কেটে চিংড়ি ঘের করার তথ্য আমরা বন বিভাগ ও প্রশাসনকে জানিয়েছি। কিন্তু তারা কোনো ব্যবস্থা না নেওয়ায় দস্যুরা নির্বিঘ্নে প্যারাবন কাটছে। মূলত প্রশাসনের দায়িত্বহীনতা এবং আইনগত ব্যবস্থা না নেওয়ার কারণেই ভূমি দস্যুরা প্যারাবন কেটে চিংড়ি চাষ করছে।”
সবুজ আন্দোলনের পরিবেশকর্মী মো. সজীব বলেন, “গণমাধ্যমে সংবাদ প্রকাশ হলেই প্রশাসন নাটকীয়ভাবে অভিযান চালায়। প্রকৃতপক্ষে দায়িত্ব পালনে অবহেলা এবং ভূমি দস্যুদের সঙ্গে অনৈতিক সুবিধার সম্পর্ক থাকায় প্যারাবন রক্ষা করা যাচ্ছে না।”
জামায়াত নেতা জাকের হোসাইন বলেন, “মূল সাগরের সাথে আমাদের এই দ্বীপ। যত সাইক্লোন বা ঘূর্ণিঝড় হয় সবগুলো আসে সমুদ্রের দিক থেকে। সেখানে প্রথম বাঁধা দেয় সোনাদিয়া ও ঘটিভাঙ্গা প্যারাবন গুলো যদি থাকে। যদি এগুলো নিধন করা হয় তাহলে ঘূর্ণিঝড়ে হাজার হাজার মানুষ ক্ষতিগ্রস্ত হবে। এই জন্য কোন ধরনের রাজনৈতিক প্রভাবমুক্ত হয়ে কোন ধরনের প্যারাবন নিধন না হয় সেটার জন্য প্রশাসন এবং পরিবেশ উপদেষ্টার কাছে অনুরোধ থাকবে এবং আমার দলের কোন লোক যদি প্যারাবন নিধনে জড়িত থাকে তাদের বিরুদ্ধে দলগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”
এ বিষয়ে মহেশখালী উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. হেদায়েত উল্লাহ বলেন, “আমাদের মহেশখালীতে ঘটিভাঙ্গা ও সোনাদিয়ায় প্রতিনিয়ত প্যারাবন নিধনের চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে। আমরা চেষ্টা করি এবং বেশ কয়েকবার অভিযান চালিয়েছি এবং অতিশীঘ্রই আবারও বড় অভিযান পরিচালনা করা হবে এবং জড়িতদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”