প্রকাশ: বুধবার, ১৯ নভেম্বর, ২০২৫, ৩:৫৬ পিএম

দেলদুয়ার থানা
টাঙ্গাইলের দেলদুয়ারে কিশোর গ্যাংয়ের হামলায় মুন্না দেওয়ান (১৭) নামের এক কিশোর খুন হয়েছেন। মুন্না মির্জাপুর উপজেলার পাইকপাড়া গ্রামের হাসু দেওয়ানের ছেলে। রবিবার রাতে এ ঘটনা ঘটলেও মঙ্গলবার (১৮ নভেম্বর) রাতে ঢাকার একটি হাসপাতালে মুন্না চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা যান। এদিন রাতেই দেলদুয়ার থানায় নিহত মুন্নার চাচা বাদী হয়ে চিহ্নিত ৬ জন ও অজ্ঞাত আরও ১০ থেকে ১২ জনের বিরুদ্ধে একটি হত্যা মামলা দায়ের করেন। মামলার নম্বর ৫। দেলদুয়ার থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) সোহেব খান বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।
পুলিশ ও পরিবার সূত্রে জানা যায়, রবিবার (১৬ নভেম্বর) সন্ধ্যায় দেলদুয়ার উপজেলার ফাজিলহাটী ইউনিয়নের কুমারজানী গ্রামে আজিজুল মেম্বারের বাড়িতে ওয়াজ মাহফিলের আয়োজন করা হয়। পার্শ্ববর্তী মির্জাপুর উপজেলার পাইকপাড়া গ্রাম থেকে কয়েকজন কিশোর ওই ওয়াজ মাহফিলে আসেন। ওয়াজ মাহফিল থেকে ফেরার পথে শাহদারীপাড়া মাদরাসার পেছনে পৌঁছালে পূর্ব থেকে ওত পেতে থাকা দলবদ্ধ কয়েকজন কিশোর তাদের ওপর হামলা চালিয়ে প্রথমে মারধর করে মোবাইল ফোন কেড়ে নিয়ে আটকে রাখে। পরে হামলাকারীরা তাদের উদ্দেশ করে বলে, “তোদের গ্রামে খবর দে, সাহস থাকলে ছাড়িয়ে নিয়ে যাক।”
মোবাইলে এমন বার্তা পেয়ে পাইকপাড়া গ্রামের মুন্নাসহ আরও কয়েকজন কিশোর ছোট ভাইদের ছাড়িয়ে নিতে মোটরসাইকেলে ঘটনাস্থলে পৌঁছালে তারা হামলার শিকার হন। হামলায় মুন্না ও অপর কিশোর জিয়ন গুরুতর আহত হন। তাদের উদ্ধার করে প্রথমে মির্জাপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স, জামুর্কীতে নেওয়া হয়। সেখানে প্রাথমিক চিকিৎসার পর উন্নত চিকিৎসার জন্য টাঙ্গাইল মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেওয়ার পরামর্শ দেন কর্তব্যরত চিকিৎসক। পরে টাঙ্গাইল মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল থেকে মুন্নাকে ঢাকা মেডিকেল কলেজে রেফার করা হয়। ঢাকা মেডিকেল কলেজে অবস্থার অবনতি হলে তাকে ঢাকার একটি বেসরকারি হাসপাতালে নেওয়া হয়। পরে মঙ্গলবার (১৮ নভেম্বর) রাতে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মুন্না মারা যান।
এ বিষয়ে দেলদুয়ার থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) সোহেব খান বলেন, রবিবার (১৬ নভেম্বর) ফাজিলহাটী ইউনিয়নের শাহদারীপাড়ায় মারামারির ঘটনায় আহত মুন্না নামে এক কিশোর মঙ্গলবার (১৮ নভেম্বর) রাতে ঢাকায় চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা গেছে। এ ঘটনায় থানায় একটি হত্যা মামলা দায়ের করা হয়েছে। অভিযুক্তদের গ্রেপ্তারে অভিযান চলছে।