প্রকাশ: সোমবার, ১৭ নভেম্বর, ২০২৫, ৫:৪০ পিএম

পায়ে হেঁটে টেকনাফ থেকে তেঁতুলিয়া ভ্রমণ
টেকনাফ থেকে তেঁতুলিয়া দীর্ঘ হাজার কিলোমিটার পায়ে হেঁটে ভ্রমণ করলেন স্বপ্নরাজ অলি সাবের নামের এক তরুণ। রোববার বাংলাবান্ধা জিরোপয়েন্টে ৩৫ দিনের হাঁটার মধ্য দিয়ে শেষ করেছেন হাজার কিলোমিটার পায়ে হেঁটে ভ্রমণ।
২৫ বছর বয়সি এ ভ্রমণচারী স্বপ্নরাজ অলি। সুনামগঞ্জের তাহিরপুর উপজেলার বালিজুরীর কৃষক লুৎফুর রহমানের ছেলে তিনি। মা রোকেয়া বেগম গৃহিণী। পাঁচ ভাই বোনের মধ্যে সবার বড় তিনি। '১০০ মনীষীর জীবনী' ছিল প্রথম পড়ার গল্প। এই বইকে কেন্দ্র করেই পায়ে হেঁটে ভ্রমণ বলে জানান তিনি।
ভ্রমণ সম্পর্কে স্বপ্নরাজ জানান, ৪০ দিনের লক্ষ্য নিয়ে গত ৩০ সেপ্টেম্বর টেকনাফের শাহপরীর দ্বীপ থেকে শুরু করেন পায়ে হেঁটে ভ্রমণ। মাঝে মাঝে বিরতি দিয়ে ৩৫ দিনে শেষ করেছেন এ ভ্রমণ। এর আগেও তিনি পায়ে হেঁটে ভ্রমণ করেছেন।
বই পাঠের নেশায় হয়ে উঠেছেন বই পোকা। সারাক্ষণ বই নিয়ে ধ্যানজ্ঞান। প্রচুর বই কিনেন। এ পর্যন্ত পাঁচশর বেশি বই পড়েছেন। বিশ্বসাহিত্য কেন্দ্র থেকে পেয়েছেন বই উপহার। ২০১৮ সালে নিজের বাড়িতে গড়েছেন একটি পাঠাগার। নাম দিয়েছেন ‘স্বপ্নরাজ বুক ক্লাব’। এ পাঠাগার থেকে বই পড়ছেন এলাকার অনেকেই। শুধু এলাকার মানুষকে নয়, দেশের মানুষকে বই পড়ায় উদ্বুদ্ধ করতে ২০২২ সালে বাইসাইকেল নিয়ে জেলায় জেলায় ঘুরেছেন এ ভ্রমণচারী তরুণ।
স্বপ্নরাজ অলি জানায়, ‘আমার পড়া সেরা বই ‘‘বিশ্বের শ্রেষ্ঠ ১০০ মনীষীর জীবনী’’ আমার পড়া সেরা বই। এই বই পড়ে আমি বিখ্যাত মানুষদের সাথে পরিচিত হতে পেরেছি। তাঁদের কাজ সম্পর্কে জানতে পেরে আমার জীবনটাই পরিবর্তন হয়ে গেছে। এ কারণে যখন যেখানে বের হই তখনই বইটির প্রচারণায় হাঁটছি। দেখতে পারছেন টেকনাফ থেকে তেঁতুলিয়া ভ্রমণ সঙ্গী হিসেবেও বইটি হাতে রয়েছে।
ভ্রমণে কোথায় কোথায় থেকেছেন জানতে চাইলে তিনি জানান, হেঁটে হেঁটে ভ্রমণে টাকা দিয়ে থাকা হয়নি। কারো বাড়িতে, কখনো মসজিদের বারান্দায় থেকেছি। এটাতেও বিভিন্ন পরিস্থিতি উপভোগ করেছি। যদিও চলার পথে অনেক ঝুঁকি ছিল। কিন্তু সতর্ক ও সচেতন থেকেছি বলে দীর্ঘ এ ভ্রমণে কিছু হয়নি। বরঞ্চ পথে পথে মানুষের সহযোগিতা, উৎসাহ ও উদ্দীপনা আমার ভ্রমণে অনুপ্রেরণা তৈরি করেছে।
তিনি আরও বলেন, নিজের মাতৃভূমি তো আছেই, বিশেষ করে উত্তরাঞ্চলের মানুষের সহজ, সরল ও অতিথিপনায় আমার খুব ভালো লেগেছে। সব মিলে আমার এ ভ্রমণে যারা সহযোগিতা করেছেন, উদ্বুদ্ধ করেছেন সবার প্রতি কৃতজ্ঞতা জানাচ্ছি।
ভ্রমণ শেষে তেঁতুলিয়ার জাতীয় পরিবেশ পদকপ্রাপ্ত পরিবেশ ও শিক্ষাকর্মী মাহমুদুল ইসলামের সাথে দেখা করেছেন এ তরুণ।
স্বদেশ প্রতিদিন/ নিয়াজ