
সোনারগাঁয়ে দুই শতাধিক অবৈধ স্থাপনা, সড়ক দখলে প্রভাবশালী চক্রের রাজত্ব
নারায়ণগঞ্জের সোনারগাঁ উপজেলার মোগরাপাড়া চৌরাস্তা এলাকায় ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কের পাশে সড়ক ও জনপথ (সওজ) বিভাগের জায়গা দখল করে দুই শতাধিক অবৈধ দোকান গড়ে তোলা হয়েছে। এতে মহাসড়কে যানজট সৃষ্টি হচ্ছে এবং পথচারীরা প্রতিদিন দুর্ভোগে পড়ছেন।
সরজমিন ঘুরে দেখা গেছে, হকাররা অবৈধভাবে ফুটপাত ও ফুটওভারব্রিজ দখল করে ব্যাবসা চালাচ্ছেন। দুর্ঘটনা এড়াতে এবং পথচারীদের পারাপারের সুবিধার জন্য নির্মিত হলেও ফুটওভারব্রিজ এখন হকারদের দখলে। এক পাশে দোকান থাকায় পথচারীদের চলার জায়গা সংকীর্ণ, ফলে নিরাপদে রাস্তা পারাপারে সমস্যা হচ্ছে।
এলাকার বাসিন্দাদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, ঢাকা–চট্টগ্রাম মহাসড়কের মোগরাপাড়া চৌরাস্তা থেকে উদ্ধবগঞ্জ হয়ে বৈদ্যেরবাজার পর্যন্ত, এবং চৌরাস্তা থেকে কাইকারটেক হাট পর্যন্ত সড়কটি পুরো উপজেলার প্রধান সড়ক হিসেবে পরিচিত। মোগরাপাড়া চৌরাস্তা মাঝখানে রেখে সড়কটি মহাসড়কের দুই পাশে দুই দিকে বিস্তৃত। এই গুরুত্বপূর্ণ সড়ক দিয়েই প্রতিদিন উপজেলার ২৪টি সরকারি দপ্তর, ইউএনও অফিস, থানা-পুলিশ, উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সসহ মেঘনা নদীতীরের বৈদ্যেরবাজার লঞ্চঘাটে হাজারো মানুষের যাতায়াত হয়। তবে বাস্তবে মোগরাপাড়া চৌরাস্তা এলাকায় হকাররা সড়কের বড় একটি অংশ দখল করে রেখেছেন, ফলে জেলার অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ এই পথটিই আজ সবচেয়ে বেশি ভোগান্তির কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে।
স্থানীয়রা অভিযোগ করেছেন, দীর্ঘদিন ধরে কয়েকটি চক্র সড়ক ও জনপথের জায়গা দখল করে দোকানপাট নির্মাণ করে ভাড়া আদায় করছে। বারবার উচ্ছেদ অভিযান চালানো হলেও স্থায়ীভাবে এ অবৈধ দখল ঠেকানো সম্ভব হয়নি।
স্থানীয় সূত্র জানাচ্ছে, ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কের পাশে প্রভাবশালীরা দীর্ঘদিন ধরে দোকানপাট তৈরি করে বছরে কোটি কোটি টাকা চাঁদাবাজি করছে। সরকার বদলায়, জনপ্রতিনিধি বদলায়-কিন্তু মোগরাপাড়ার দৃশ্য বদলায় না।
একজন ব্যবসায়ী আক্ষেপ করে বললেন, আগে এক গ্রুপ টাকা তুলত, এখন আরেক গ্রুপ। সাধারণ মানুষের দুর্ভোগ একই। নামমাত্র উচ্ছেদ হয়, পরদিন আবার সব দোকান আগের মতো।
সম্প্রতি সোনারগাঁ উপজেলা প্রশাসন বড় উচ্ছেদ অভিযান চালিয়ে আওয়ামী লীগ কার্যালয়সহ প্রায় পাঁচ শতাধিক অবৈধ দোকান উচ্ছেদ করেছে। কিন্তু কয়েক দিনের মধ্যে আবার সব জায়গা দখল হয়ে গেছে।
একজন শ্রমজীবী নারী বলেন, রাতে এদিকে হাঁটা যায় না। ছিনতাইকারীর কবলে পড়তে হয়। দোকানের আড়ালে কোনটা হকার, কোনটা ছিনতাইকারী বোঝা যায় না।
স্থানীয় বাসিন্দা আরিফ বলেন, মোগরাপাড়া চৌরাস্তা শুধু আমাদের চলাচলের রাস্তা নয়, এটি পুরো এলাকার জীবনসংক্রান্ত পথ। হকাররা দখল করে রেখেছে ফুটপাত ও ওভারব্রিজ, ফলে পথচারী, স্কুলছাত্র থেকে শুরু করে সরকারি অফিসের মানুষও নিরাপদে চলতে পারছে না। প্রতিদিন গাড়ি, অটোরিকশা আর মানুষের চাপে এখানে ভোগান্তি চরমে। প্রশাসন শুধু উচ্ছেদ অভিযান চালিয়ে কয়েকদিনের জন্য সমস্যার সমাধান করছে, কিন্তু স্থায়ী উদ্যোগ না নিলে আমাদের দুর্ভোগ কখনও কমবে না।
এ বিষয়ে জানতে চাইলে নারায়ণগঞ্জ সড়ক ও জনপথ (সওজ) বিভাগের নির্বাহী প্রকৌশলী আবদুর রহিম বলেন, উচ্ছেদ অভিযান আসলে একটি চলমান প্রক্রিয়া। আমরা নিয়মিত ভাঙছি, কিন্তু কিছু স্থাপনা অল্প সময়ের মধ্যেই আবার গড়ে ওঠে, এটাই আমাদের সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ। খুব শিগ্গিরই আবারও অভিযান পরিচালনার প্রস্তুতি নিচ্ছি। স্থায়ী সমাধানের জন্য স্থানীয় প্রশাসন, আইনশৃঙ্খলা বাহিনী এবং রাজনৈতিক নেতৃত্বের সমন্বিত উদ্যোগ প্রয়োজন।
এ বিষয়ে জানতে সোনারগাঁ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ফারজানা রহমানের মোবাইলে একাধিকবার ফোন করা হলেও তিনি কল রিসিভ করেননি।