প্রকাশ: বৃহস্পতিবার, ১৩ নভেম্বর, ২০২৫, ১১:৫৮ AM

সংগৃহীত ছবি
কার্যক্রম স্থগিত থাকা সত্ত্বেও আওয়ামী লীগের ঘোষিত সারাদেশব্যাপী লকডাউনের প্রথম দিনেও রাজধানীসহ দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে গণপরিবহন স্বাভাবিকভাবে চলাচল করছে। তবে দূরপাল্লার বাসে যাত্রী সংকট স্পষ্ট। যাত্রী না থাকায় অনেক টার্মিনাল প্রায় ফাঁকা পড়ে আছে।
বৃহস্পতিবার (১৩ নভেম্বর) সকালে রাজধানীর যাত্রাবাড়ী, সায়েদাবাদ ও গুলিস্তান এলাকায় ঘুরে দেখা গেছে, শহরের ভেতরে বাসগুলোতে স্বাভাবিকভাবে যাত্রী ওঠানামা করলেও দূরপাল্লার কাউন্টারগুলোতে যাত্রী উপস্থিতি ছিল প্রায় নেই বললেই চলে।
সকাল থেকে প্রায় সব ধরনের গাড়ি স্বাভাবিকভাবে চলাচল করছে। যাত্রাবাড়ী ও সায়েদাবাদ টার্মিনালের কাউন্টারগুলো খোলা থাকলেও যাত্রী সংখ্যা ছিল তুলনামূলকভাবে খুবই কম।
ফরিদপুরগামী যাত্রী মোশারফ হোসেন বলেন, ‘জরুরি কাজ থাকায় বের হয়েছি। রাস্তায় গাড়ি অনেক, কিন্তু মনের মধ্যে ভয় কাজ করছে—কখন কী হয় বলা যায় না। এখন আবার গাড়ি পোড়ানোর রাজনীতি শুরু হয়েছে, মানুষের জীবনের দাম যেন নেই।’
গোমতি এক্সপ্রেস-এর সুপারভাইজার আমির হামজা বলেন, ‘যাত্রী নেই বললেই চলে। গত কয়েকদিনে সন্ত্রাসীরা বেশ কিছু গাড়ি পুড়িয়ে দিয়েছে। এতে যাত্রীদের মধ্যে আতঙ্ক তৈরি হয়েছে। সকাল থেকে এখনও এক গাড়িরও পুরো যাত্রী হয়নি।’
একই চিত্র দেখা গেছে সায়েদাবাদ টার্মিনাল এলাকাতেও। টার্মিনালে সারি সারি বাস দাঁড়িয়ে আছে, কিন্তু বেশিরভাগই ফাঁকা।
তিশা এক্সপ্রেস-এর সুপারভাইজার নাহিদ হাসান বলেন, ‘সাধারণ দিনে সকাল ৯টার আগেই ১০-১২টা গাড়ি ছেড়ে যায়, আর লাকসাম থেকেও গাড়ি আসে। আজ যাত্রী না থাকায় এখনও কোনো বাস ছেড়ে যায়নি।’
অন্যদিকে, রাজধানীর বিভিন্ন সড়কের মোড়ে মোড়ে বিএনপি ও জামায়াতে ইসলামীর নেতাকর্মীদের অবস্থান ও নজরদারি লক্ষ্য করা গেছে। প্রত্যক্ষদর্শীদের মতে, অনাকাঙ্ক্ষিত কোনো ঘটনা এড়াতে ছাত্রদলের কর্মীরা মোটরসাইকেলে করে এলাকায় টহল দিচ্ছে।
এ ছাড়া গুরুত্বপূর্ণ সড়কগুলোতে বাড়ানো হয়েছে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর টহল। তারা সতর্ক অবস্থানে রয়েছে, যেন কোনো ধরনের নাশকতা বা বিশৃঙ্খলা পরিস্থিতি তৈরি না হয়।
স্বদেশ প্রতিদিন/ নিয়াজ