প্রকাশ: বুধবার, ১২ নভেম্বর, ২০২৫, ১০:১৯ পিএম

পানগুছি নদীতে জীবনের ঝুঁকি নিয়ে খেয়া পারাপার, ১২ বছরে ৩০ যাত্রীর মৃত্যু
বাগেরহাটের সাইনবোর্ড-শরণখোলা আঞ্চলিক মহাসড়কের মোরেলগঞ্জের বিশাল নদীতে এখনো নির্মাণ করা হয়নি কোনো সেতু। মোংলা-ঘষিয়াখালী আন্তর্জাতিক নৌ-চ্যানেলের অংশ এই নদীতে একটি মাত্র সেতুর অভাবে জনদুর্ভোগের শেষ নেই। প্রতিদিন জীবনের ঝুঁকি নিয়ে মোরেলগঞ্জ, শরণখোলা, রামপাল, মোংলা, মঠবাড়িয়া ও ভান্ডারিয়া উপজেলার প্রায় ৫ লাখ মানুষকে ইঞ্জিনচালিত ছোট খেয়া ট্রলারে করে পানগুছি নদী পারাপার করতে হচ্ছে। এই অবস্থায় গত ১২ বছরে নদী পারাপারের সময় প্রাণ হারিয়েছেন ৩০ যাত্রী।
বাগেরহাট সড়ক বিভাগ জানায়, জনগুরুত্বপূর্ণ পানগুছি সেতু নির্মাণ প্রকল্পটি ইতোমধ্যে একনেকে অনুমোদন পেয়েছে। তবে অর্থ বরাদ্দ না থাকায় এখনো দরপত্র আহ্বান করা সম্ভব হয়নি।
পানগুছি নদীর খেয়া ট্রলারে পারাপার করা যাত্রী ইব্রাহীম হোসেন, শঙ্কর চন্দ্র সাহা, ইলিয়াস শিকদার ও বিলকিস আক্তার জানান, সুন্দরবনের শরণখোলা দেখতে আসা পর্যটকসহ মোরেলগঞ্জ, শরণখোলা, রামপাল, মোংলা, মঠবাড়িয়া ও ভান্ডারিয়া উপজেলার লাখো মানুষকে অফিস-আদালত, চাকরি, স্কুল-কলেজে যেতে প্রতিদিনই জীবনের ঝুঁকি নিয়ে পানগুছি নদী পার হতে হয়।
প্রতিটি খেয়া ট্রলারে মাত্র ৩০ জন যাত্রী পারাপারের নির্দেশনা থাকলেও মোংলা-ঘষিয়াখালী আন্তর্জাতিক নৌ-চ্যানেলের প্রবল স্রোতের মধ্যে শতাধিক যাত্রী নিয়ে ট্রলার চলাচল করছে। ট্রলার মালিকদের উদাসীনতায় প্রায়ই দুর্ঘটনা ঘটছে। এভাবে গত ১২ বছরে পানগুছি নদী পার হতে গিয়ে ৩০ জনের মৃত্যু হয়েছে। এর মধ্যে ২০১৭ সালের ১৮ মার্চ সকালে শতাধিক যাত্রী বোঝাই একটি খেয়া ট্রলার ডুবে ৫ শিশু, ৯ নারী ও ৫ পুরুষসহ ১৯ জনের মৃত্যু হয়।
প্রতিনিয়ত ঝুঁকিপূর্ণভাবে ট্রলার চলাচল করলেও দেখার কেউ নেই বলে অভিযোগ যাত্রীদের। তাঁরা দ্রুত পানগুছি নদীতে সেতু নির্মাণের দাবি জানান।
বাগেরহাট সড়ক ও জনপথ বিভাগের নির্বাহী প্রকৌশলী মো. আশরাফুল ইসলাম বলেন, “জনগুরুত্বপূর্ণ পানগুছি সেতু নির্মাণ প্রকল্পটি ২০২১ সালের একনেক সভায় অনুমোদিত হয়। ২০২১-২২ অর্থবছরে এটি এডিপিতে অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছিল। এখন অর্থ বরাদ্দের ছাড়পত্র পেলেই দ্রুত সময়ের মধ্যে দরপত্র আহ্বান করা সম্ভব।”