প্রকাশ: বুধবার, ১২ নভেম্বর, ২০২৫, ১০:১৮ AM আপডেট: ১২.১১.২০২৫ ১০:৫৪ এএম

সাইফুল ইসলাম
রাজশাহীর পুঠিয়া উপজেলার ভাল্লুকগাছি ইউনিয়নের পাঁচআনী পাড়া দাখিল মাদ্রাসার সুপারিনটেনডেন্ট সাইফুল ইসলামের বিরুদ্ধে আর্থিক অনিয়ম ও দুর্নীতির অভিযোগ উঠেছে। অভিযোগের পরিপ্রেক্ষিতে উপজেলা প্রশাসন তদন্ত শুরু করেছে।
উপজেলা নির্বাহী অফিসারের কাছে ইতোমধ্যে মাদ্রাসার বিভিন্ন অর্থনৈতিক হিসাব–নিকাশ নেওয়ার দাবি জানিয়ে অভিযোগপত্র দেওয়া হয়েছে। অভিযোগে প্রায় ১৫৭ জন এলাকাবাসী স্বাক্ষর করেছেন। পাশাপাশি হিসাব গ্রহণের জন্য পাঁচ সদস্যের একটি কমিটি গঠন করা হলেও সুপার তাদের কাছেও কোনো হিসাব জমা দেননি। এতে ক্ষুব্ধ হয়ে কিছুদিন আগে বিক্ষুব্ধ স্থানীয়রা সুপারের কক্ষে তালা ঝুলিয়ে দেন।
সরেজমিনে গেলে বহু স্থানীয় বাসিন্দা সাংবাদিকদের অভিযোগ করেন—সুপারিনটেনডেন্ট সাইফুল ইসলাম হিসাব দিতে অনীহা প্রকাশ করছেন।
স্থানীয় গোলাম মোস্তফা বলেন—এলাকাবাসী মাদ্রাসার প্রতিটি টাকা-পয়সার হিসাব চেয়েছে। কিন্তু সুপার বলেছেন, তিনি শিক্ষা অফিসার ও ইউএনও’র কাছে হিসাব দেবেন, এলাকাবাসীর কাছে নয়।
মাদ্রাসার প্রতিষ্ঠাতার নাতি কামরুজ্জামান বাবু অভিযোগ করে বলেন—এখানে প্রায় অর্ধ কোটি টাকা নয়ছয় হয়েছে। আমরা বারবার হিসাব চেয়েছি, কিন্তু তিনি দেননি। ব্যাপক দুর্নীতি হয়েছে, আমরা তার বিচার চাই।
মাদ্রাসার সাবেক সভাপতি আসাদুজ্জামান আসাদ বলেন— আমি শুধু কাগজে-কলমেই সভাপতি ছিলাম। কখনো কোনো হিসাব আমাকে দেওয়া হয়নি। বহুবার দাবি করেও পাইনি। হিসাব না দিতে অসুস্থতার ভান করে তিনি প্রতিষ্ঠানেও আসছিলেন না।
তবে অভিযোগ অস্বীকার করে সুপারিনটেনডেন্ট সাইফুল ইসলাম বলেন— সব অভিযোগ মিথ্যা। আমাকে হেনস্তা করার উদ্দেশ্যে অভিযোগ দেওয়া হয়েছে। কোনো অনিয়ম করা হয়নি।
এ বিষয়ে পুঠিয়া উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা অফিসার লায়লা আখতার জাহান বলেন— বেশিরভাগ অভিযোগই আর্থিক অনিয়ম সম্পর্কিত। নিয়মিত হিসাব জমা দিলে এসব ঘটতো না। পাঁচআনী পাড়া দাখিল মাদ্রাসা থেকেও অভিযোগ পেয়েছি। তদন্ত চলছে। অভিযোগ প্রমাণিত হলে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে। সুপারকে ডাকা হয়েছিল।
স্বদেশ প্রতিদিন/ নিয়াজ