প্রকাশ: মঙ্গলবার, ১১ নভেম্বর, ২০২৫, ১০:৩৭ পিএম

মুরাদনগরে মানবপাচার ও পতিতাবৃত্তির অভিযোগে গ্রেপ্তার ৬
কুমিল্লার মুরাদনগরে মানবপাচার ও পতিতাবৃত্তির অভিযোগে ৬ জনকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। সোমবার (১০ নভেম্বর) রাতে উপজেলার নবীপুর পশ্চিম ইউনিয়নের নিমাইকান্দি এলাকার জাকিরের বিল্ডিংয়ের চতুর্থ তলায় একটি ফ্ল্যাটে অভিযান চালিয়ে তাদের আটক করা হয়। তবে এই চক্রের মূল হোতা লুনা আক্তার (৩৫) ও তার স্বামী বিল্লাল হোসেন (৪২) অভিযানের আগেই পালিয়ে যেতে সক্ষম হয়েছে।
এ ঘটনায় হোমনা উপজেলার খাদিজা আক্তার (৪০) বাদী হয়ে মোট ৮ জনকে আসামি করে মুরাদনগর থানায় একটি মামলা দায়ের করেছেন। মামলার বাদী অভিযোগ করেন, রামচন্দ্রপুর বাজার থেকে তার মেয়ে সুমনা আক্তারের সঙ্গে শাহ পরান নামে এক ছেলের পরিচয় হয়। শাহ পরান তাকে নিমাইকান্দির ওই ফ্ল্যাটে নিয়ে যায়। সেখানে অন্যান্য আসামিরা সুমনার সাথে থাকা স্বর্ণের চেইন, কানের দুল, আংটি ও পায়ের নূপুর ছিনিয়ে নেয়। এছাড়া তাকে যৌন নিপীড়নের জন্য অকথ্য নির্যাতন করা হয় বলে খাদিজা আক্তার উল্লেখ করেন এবং আসামিদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি দাবি করেন।
আটককৃতরা হলেন চাপিতলা গ্রামের শাহ পরান (২১), মুরাদনগর দক্ষিণপাড়া খাইরুল ইসলামের ছেলে নাঈম আহমেদ (১৮), রানীমুহুরী গ্রামের রাকিব (১৮), চাপিতলা গ্রামের রুমা আক্তার (১৯), রাণীমুহুরী গ্রামের সাদিয়া (১৯) ও নবীপুর পশ্চিম পাড়া এলাকার নুরুন্নাহার (২০)।
মুরাদনগর থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) জাহিদুর রহমান জানান, মানবপাচার ও পতিতা ব্যবসার অভিযোগে ৮ জনের নামে মামলা রুজু করা হয়েছে এবং গ্রেপ্তারকৃত ৬ জনকে আদালতে সোপর্দ করা হয়েছে। তিনি আরও জানান, "ঘটনাস্থল থেকে প্রাথমিক আলামত সংগ্রহ করা হয়েছে। পতিতাবৃত্তি ও মানবপাচার চক্রের মূল হোতা বিল্লাল এবং তার স্ত্রী লুনাসহ পলাতক আসামিদের গ্রেপ্তারের চেষ্টা অব্যাহত রয়েছে।"
মামলার তদন্ত কর্মকর্তা এসআই মঈন উদ্দিন জানান, আসামীদের নিকট হতে ভিক্টিমের মালামাল উদ্ধারের কার্যক্রম চলছে এবং দ্রুত সময়ের মধ্যে প্রধান আসামীদের গ্রেপ্তার করা হবে।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, পলাতক মূল অভিযুক্ত বিল্লাল ও তার স্ত্রী লুনা আক্তার দীর্ঘদিন ধরে বিভিন্ন এলাকায় ফ্ল্যাট ভাড়া নিয়ে এই ধরনের মানবপাচার ও যৌন নিপীড়নমূলক কর্মকাণ্ড পরিচালনা করে আসছিলেন। এর আগেও তারা একাধিকবার পতিতাবৃত্তির অভিযোগে গ্রেপ্তার হয়েছিলেন, কিন্তু আইনের দুর্বলতার কারণে অল্প সময়ের মধ্যে জামিনে মুক্ত হয়ে আবার একই অপরাধে জড়িয়ে পড়েন।