প্রকাশ: শনিবার, ৮ নভেম্বর, ২০২৫, ৫:৪৬ পিএম

ঘরে জ্বলছিল পূজার প্রদীপ—হঠাৎ তা থেকে আগুন। মুহূর্তেই লেলিহান শিখা গিলে খায় অভাবী এক জেলে পরিবারের শেষ সম্বল তিন কক্ষের বসতঘর। আগুনে নগদ টাকা, স্বর্ণালংকার, আসবাবপত্রসহ জীবনের সমস্ত সঞ্চয় পুড়ে ছাই হয়ে পথে বসেছে পরিবারটি।
শুক্রবার (৭ নভেম্বর) সন্ধ্যা ৭টার দিকে চট্টগ্রামের আনোয়ারা উপজেলার বারখাইন ইউনিয়নের ৭ নম্বর ওয়ার্ডের তৈলারদ্বীপ জেলেপাড়ায় এ অগ্নিকাণ্ড ঘটে। ক্ষতিগ্রস্ত গৃহকর্তা বাচুরাম জলদাশ (৫০), পিতা কালুরাম দাশ; তিনি পেশায় জেলে ও কৃষিকাজের ওপর নির্ভরশীল।
দগ্ধ ভিটের সামনে দাঁড়িয়ে কান্নাজড়িত কণ্ঠে বাচুরাম জলদাশ বলেন, “কিস্তির ঋণ নিয়ে ঘর বানিয়েছিলাম। ৬০ হাজার টাকার মতো শুধু ঘরেই খরচ হয়েছে। ঘরে রাখা নগদ টাকা, কিস্তির বাকি অর্থ, মেয়েদের সোনার গয়না—সবই আগুনে শেষ। সহায়তা ছাড়া এখন ঘুরে দাঁড়ানোরও শক্তি নেই।”
প্রতক্ষ্যদর্শী স্থানীয় যুবক মো. সাফায়েত আলী জানান, মুহূর্তেই আগুন ছড়িয়ে পড়ে পুরো ঘরে। প্রথমে স্থানীয়রা বালতি ও পানি দিয়ে নেভানোর চেষ্টা করলেও আগুনের তীব্রতার কাছে তা হার মানে।খবর পেয়ে আনোয়ারা ফায়ার সার্ভিসের একটি ইউনিট ঘটনাস্থলে ছুটে গেলেও সরু রাস্তার কারণে গাড়ি প্রবেশ করতে পারেনি। পরে ভ্যানে করে সরঞ্জাম নিয়ে গিয়ে দেড় ঘণ্টার চেষ্টায় আগুন নিয়ন্ত্রণে আনা হয়।
উপজেলা ফায়ার সার্ভিস স্টেশনের ফায়ার ফাইটার মো. সেলিম উদ্দিন জানান, “প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে, পূজার প্রদীপ ও ধূপবাতি থেকে আগুন লেগেছে। এতে প্রায় ৫০ হাজার টাকার ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে, আর প্রায় ৩ লাখ টাকার সম্পদ রক্ষা করা সম্ভব হয়েছে।”
উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা তাহমিনা আক্তার বলেন, “ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারকে প্রাথমিকভাবে খাদ্য সহায়তা দেওয়া হবে। ক্ষয়ক্ষতির প্রতিবেদন মন্ত্রণালয়ে পাঠানো হচ্ছে। প্রয়োজনে টিন ও অন্যান্য পুনর্বাসন সহায়তাও দেওয়া হবে।
স্বদেশ প্রতিদিন/ এমএস