
গজারিয়ায় দাসকান্দী বাজারে ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডে ৮টি দোকান পুড়ে ছাই, ক্ষতি ২৫ লাখ টাকা
মুন্সীগঞ্জের গজারিয়া উপজেলার বাউশিয়া ইউনিয়নের দাসকান্দী বাজারে ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডে ৮টি দোকান পুড়ে ছাই হয়ে গেছে। এতে আনুমানিক ২৫ লাখ টাকার ক্ষতি হয়েছে।
আজ শনিবার (৮ নভেম্বর) ভোর সাড়ে ৪টার দিকে এ ঘটনা ঘটে।
বাজারের পশ্চিম-দক্ষিণ অংশে অবস্থিত ফার্মেসি, মিষ্টান্ন, কাপড় ও শুটকির দোকানসহ মোট ৮টি ব্যবসা প্রতিষ্ঠানের মালামাল আগুনে পুড়ে যায়।
ক্ষতিগ্রস্ত মায়া মেডিকেল হলের মালিক দেবাশীষ রায় চৌধুরী বলেন, “আমার বাবা প্রয়াত পবিত্র রায় চৌধুরীর হাতে গড়া শতবর্ষী প্রতিষ্ঠানটি আজ পুড়ে ছাই হয়ে গেল।”
গজারিয়া উপজেলা ফায়ার সার্ভিসের স্টেশন কর্মকর্তা মো. ফিরোজ মিয়া বলেন, “খবর পেয়ে ভোর পৌনে ৫টায় ঘটনাস্থলে পৌঁছাই। আমাদের দুইটি ইউনিট প্রায় ২৫ মিনিটের চেষ্টায় আগুন নিয়ন্ত্রণে আনে। তবে আগুন পুরোপুরি নির্বাপণে এক ঘণ্টার বেশি সময় লাগে। প্রাথমিকভাবে ধারণা করছি, বৈদ্যুতিক শর্টসার্কিট থেকেই আগুনের সূত্রপাত।”
প্রত্যক্ষদর্শী নিরাপত্তা প্রহরী চাঁন মিয়া বলেন, “ভোরে প্রথমে একটি দোকানে আগুন লাগে, পরে তা পাশের দোকানগুলোতে দ্রুত ছড়িয়ে পড়ে।”
স্থানীয়রা প্রাথমিকভাবে আগুন নেভানোর চেষ্টা করলেও পরে ফায়ার সার্ভিস এসে নিয়ন্ত্রণে আনে।
ক্ষতিগ্রস্ত দোকান মালিক ক্ষুধিরাম বর্মণ, সঞ্জিত, হিমাংশু, আব্দুল আউয়াল ও ইব্রাহিম মিয়া বলেন, “আমাদের চোখের সামনেই একের পর এক দোকান পুড়ে গেল। আমরা কিছুই করতে পারিনি।”
অগ্নিকাণ্ডের খবর পেয়ে সকাল ১০টার দিকে ঘটনাস্থলে ছুটে আসেন মুন্সীগঞ্জ জেলা বিএনপির আহ্বায়ক কমিটির সদস্য সচিব ও মুন্সীগঞ্জ-৩ আসনের দলীয় মনোনয়ন প্রত্যাশী মো. মহিউদ্দিন। তিনি ক্ষতিগ্রস্ত ব্যবসায়ীদের প্রতি সহানুভূতি প্রকাশ করেন এবং ব্যক্তিগত তহবিল থেকে ৩ লাখ টাকা সহায়তার ঘোষণা দেন।
এ সময় উপস্থিত ছিলেন দাসকান্দী বাজার পরিচালনা কমিটির সভাপতি মো. মুছা সরকার, বিএনপি নেতা মুহাম্মদ মজিবুর রহমান, আব্দুর রহমান সফিক, মুকবুল আহম্মদ রতন ও মুন্সীগঞ্জ জেলা জাসাসের আহ্বায়ক হাসান জাহাঙ্গীর প্রধান প্রমুখ।
গজারিয়া থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মো. আনোয়ার আলম আজাদ বলেন, “খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে গেছে। বিষয়টি খতিয়ে দেখা হচ্ছে।”