প্রকাশ: বৃহস্পতিবার, ৬ নভেম্বর, ২০২৫, ৮:৪৪ পিএম আপডেট: ০৬.১১.২০২৫ ৯:০৯ PM

সংগৃহীত ছবি
যশোরের রাজনৈতিক ইতিহাসের একটি উজ্জ্বল অধ্যায়ের অবসান ঘটেছে। আওয়ামী লীগের সভাপতিমণ্ডলীর সদস্য, প্রাক্তন সংসদ সদস্য ও সমাজসেবক অ্যাডভোকেট পীযুষ কান্তি ভট্টাচার্য্য বৃহস্পতিবার ভোর সাড়ে পাঁচটার দিকে যশোরের বেজপাড়ার ভাড়া বাসায় শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন। তিনি মৃত্যুকালে ৮৫ বছরের ছিলেন।
তার প্রয়াণে জেলা ও দেশের বিভিন্ন রাজনৈতিক, সামাজিক ও সাংস্কৃতিক সংগঠনে শোকের ছায়া নেমে এসেছে। বর্তমানে আওয়ামী লীগের কার্যক্রমে সরকার নির্বাহী আদেশে অন্তর্বর্তী স্থগিত থাকায় প্রকাশ্যে কোনো শোক বিবৃতি জানানো সম্ভব হয়নি। তবে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে নেতৃবৃন্দ এবং শুভানুধ্যায়ীরা শোকবার্তা প্রকাশ করছেন।
দীর্ঘ রাজনৈতিক জীবনে পীযুষ কান্তি ভট্টাচার্য্য ছিলেন সততা, আদর্শ ও নিষ্ঠার এক উজ্জ্বল উদাহরণ। যশোর আওয়ামী লীগের রাজনীতিতে তিনি ছিলেন ভারসাম্যপূর্ণ, পরিমিত ও নীতিবান এক ব্যক্তিত্ব। স্বাধীনতার পর থেকে সর্বশেষ ঘোষিত যশোর জেলা আওয়ামী লীগের কমিটিতে সহ-সভাপতির দায়িত্ব পালন করেন তিনি। পরে ২০১৬ সালে দলটির কেন্দ্রীয় সভাপতিমণ্ডলীর সদস্য হিসেবে নির্বাচিত হন।
তিনি কেবল একজন রাজনীতিবিদ ছিলেন না, বরং ছিলেন এক নিবেদিতপ্রাণ সমাজসেবক। জাতীয় সংসদের সদস্য থাকাকালীন সময়ে কেশবপুরে ১২টি এবং মণিরামপুরে ২৫টি প্রাথমিক বিদ্যালয় প্রতিষ্ঠা করেন। এসব শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে শিক্ষক নিয়োগ, অবকাঠামো উন্নয়ন ও দৈনন্দিন কার্যক্রমে তিনি সরাসরি তত্ত্বাবধান করতেন।
মণিরামপুর কলেজ ও গোপালপুর স্কুলে বিজ্ঞানাগার স্থাপন এবং আধুনিকায়নে তিনি নিজস্ব অর্থ ব্যয় করেছিলেন। এছাড়া তাঁর উদ্যোগে ওই এলাকায় হাসপাতাল স্থাপনা, টেলিফোন এক্সচেঞ্জ স্থাপন এবং বিদ্যুৎ সংযোগের সম্প্রসারণ ঘটেছে, যা স্থানীয় জনগণের জীবনমান উন্নয়নে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছে।
স্বদেশ প্রতিদিন/ নিয়াজ