প্রকাশ: মঙ্গলবার, ৪ নভেম্বর, ২০২৫, ১০:৪২ পিএম

পাঠক সংকট ও নানা জটিলতায় ভুগছে পাবনা সরকারি গণগ্রন্থাগার
পড়িলে বই আলোকিত হয়, না পড়িলে বই অন্ধকারে থেকে যায়, এমন জ্ঞানের প্রতীক হিসেবে লাইব্রেরি জাতিকে সমৃদ্ধ করার গুরুত্বপূর্ণ মাধ্যম। কিন্তু পাবনার লষ্করপুরে অবস্থিত একমাত্র সরকারি গণগ্রন্থাগার পাঠক শূন্যতা ও নানা প্রতিবন্ধকতায় ভুগছে।
পাবনা জেলা স্কুলের এক শিক্ষার্থী বলেন, “আমাদের স্কুল শহরের মধ্যে না হওয়ায় লাইব্রেরিতে আসা সময়সাপেক্ষ ও খরচসাপেক্ষ। তাই ইচ্ছে থাকা সত্ত্বেও নিয়মিত আসা সম্ভব হয় না। শহরের কাছাকাছি থাকলে ভালো হত।”
পাবনা বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের বাংলা বিভাগের শিক্ষার্থী দেলোয়ার হোসেন বলেন, “সরকারি লাইব্রেরি হলেও পর্যাপ্ত বই থাকা সত্ত্বেও কাছাকাছি দূষিত পরিবেশ ও ময়লার দুর্গন্ধ পড়াশোনায় মনোযোগী হওয়া কঠিন করছে। আশা করি কর্তৃপক্ষ প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ গ্রহণ করবেন।”
লাইব্রেরিটি শহর থেকে দূরে হওয়ায় প্রতিদিন মাত্র ১০-১৫ জন পাঠক আসে। পর্যাপ্ত বই থাকা সত্ত্বেও শ্রেণীবিন্যাস না থাকায় প্রয়োজনীয় বই খুঁজতে সমস্যা হয়। এছাড়া ময়লার দুর্গন্ধের কারণে পড়াশোনার উপযুক্ত পরিবেশ নেই।
সিনিয়র লাইব্রেরিয়ান সাজ্জাতুল করিম জানান, “আমাদের ৪৮ হাজার বইয়ের কালেকশন রয়েছে, তবে জায়গা সংকট রয়েছে। আমরা গণপূর্ত অধিদফতরের সঙ্গে যোগাযোগ করেছি, আশা করি দ্রুত সমাধান হবে। এছাড়া পাঠক আকৃষ্ট করতে প্রতিযোগিতা ও উৎসাহমূলক কার্যক্রম নেওয়া হয়েছে। ভবিষ্যতে পাঠকের বাসায় চাহিদা অনুযায়ী বই পৌঁছে দেওয়ার পরিকল্পনাও রয়েছে।”
পাবনার জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ মফিজুল ইসলাম বলেন, “প্রযুক্তির ব্যবহার বৃদ্ধি ও শিক্ষার কারিকুলাম পরিবর্তনের কারণে পাঠক বিমুখতা তৈরি হয়েছে। তবে শীঘ্রই শিক্ষার্থী ও বইপ্রেমীরা পুনরায় লাইব্রেরি মুখী হবে। সংশ্লিষ্ট দপ্তরের সঙ্গে যোগাযোগ করে সমস্যা ও সম্ভাবনা নিয়ে কাজ করব।”