
বাংলাদেশ সরকারের মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ জাতীয় ও আন্তর্জাতিক দিবস ও উৎসবগুলো যথাযথ মর্যাদায় উদযাপন বা পালনের জন্য নতুন তালিকা প্রকাশ করেছে। এ বিষয়ে একটি প্রজ্ঞাপন সম্প্রতি প্রকাশ করেছে মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ।
প্রজ্ঞাপনে বলা হয়েছে, জাতীয় দিবস ছাড়া অন্য দিবসগুলোতে অতি আড়ম্বরপূর্ণ আয়োজন বা বড় ধরনের বিচিত্রানুষ্ঠান পরিহার করতে হবে। তবে রেডিও ও টেলিভিশনে আলোচনা অনুষ্ঠান এবং সীমিত পরিসরে সেমিনার বা সিম্পোজিয়াম আয়োজন করা যাবে।
এছাড়া কর্মদিবসে সমাবেশ বা শোভাযাত্রা না করার নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। কোনো সপ্তাহ উদযাপনের ক্ষেত্রেও কার্যক্রম তিন দিনের মধ্যে সীমাবদ্ধ রাখার কথা বলা হয়েছে। সরকারিভাবে গৃহীত কর্মসূচি যেন অফিসের নিয়মিত কাজকর্মে ব্যাঘাত না ঘটায়, তা নিশ্চিত করতে হবে।
ক. জাতীয় পর্যায়ে যথাযোগ্য মর্যাদায় পালিত দিবসসমূহ
১. শহীদ দিবস ও আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস – ২১ ফেব্রুয়ারি
২. জাতীয় বিমা দিবস – ১ মার্চ
৩. গণহত্যা দিবস – ২৫ মার্চ
৪. স্বাধীনতা ও জাতীয় দিবস – ২৬ মার্চ
৫. মে দিবস – ১ মে
৬. বৌদ্ধ পূর্ণিমা – মে মাসে
৭. জুলাই গণ-অভ্যুত্থান দিবস – ৫ আগস্ট
৮. বিজয় দিবস – ১৬ ডিসেম্বর
৯. বড়দিন – ২৫ ডিসেম্বর
১০. বাংলা নববর্ষ – ১ বৈশাখ
১১. রবীন্দ্রজয়ন্তী – ২৫ বৈশাখ
১২. নজরুলজয়ন্তী – ১১ জ্যৈষ্ঠ
১৩. ঈদুল ফিতর – ১ শাওয়াল
১৪. ঈদুল আজহা – ১০ জিলহজ
১৫. ঈদে মিলাদুন্নবী (সা.) – ১২ রবিউল আউয়াল
১৬. দুর্গাপূজা – পঞ্জিকা অনুযায়ী
খ. উল্লেখযোগ্য কলেবরে পালিত দিবসসমূহ
এগুলো ঐতিহ্যগতভাবে পালন করা হয়ে থাকে এবং সমাজের উন্নয়ন ও জনসচেতনতায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। এসব দিবসে প্রধান উপদেষ্টা বা উপদেষ্টাদের আমন্ত্রণ জানানো হবে এবং সর্বোচ্চ ৫০ হাজার টাকা পর্যন্ত সরকারি বরাদ্দ পাওয়া যাবে।
এর মধ্যে রয়েছে জাতীয় সমাজসেবা দিবস (২ জানুয়ারি), জাতীয় ভোটার দিবস (২ মার্চ), জাতীয় পাট দিবস (৬ মার্চ), বিশ্ব স্বাস্থ্য দিবস (৭ এপ্রিল), বিশ্ব পরিবেশ দিবস (৫ জুন), জাতীয় পাবলিক সার্ভিস দিবস (২৩ জুলাই), আন্তর্জাতিক যুব দিবস (১২ আগস্ট), বিশ্ব পর্যটন দিবস (২৭ সেপ্টেম্বর), জাতীয় নিরাপদ সড়ক দিবস (২২ অক্টোবর), আন্তর্জাতিক দুর্নীতিবিরোধী দিবস (৯ ডিসেম্বর), বেগম রোকেয়া দিবস (৯ ডিসেম্বর), এবং জাতীয় প্রবাসী দিবস (১৮ ডিসেম্বর) ইত্যাদি।
গ. সীমিত পরিসরে পালিত দিবসসমূহ
বিশেষ খাতভিত্তিক প্রতীকী দিবসগুলো সীমিত পরিসরে পালিত হবে, এবং এগুলোর জন্য কোনো সরকারি বরাদ্দ থাকবে না।
এ তালিকায় রয়েছে জাতীয় নিরাপদ খাদ্য দিবস (২ ফেব্রুয়ারি), আন্তর্জাতিক নারী অধিকার দিবস (৮ মার্চ), বিশ্ব পানি দিবস (২২ মার্চ), বিশ্ব প্রেস ফ্রিডম দিবস (৩ মে), বিশ্ব তামাকমুক্ত দিবস (৩১ মে), আন্তর্জাতিক প্রবীণ দিবস (১ অক্টোবর), বিশ্ব মানসিক স্বাস্থ্য দিবস (১০ অক্টোবর), বিশ্ব ডায়াবেটিস দিবস (১৪ নভেম্বর), মানবাধিকার দিবস (১০ ডিসেম্বর), এবং জাতীয় জীববৈচিত্র্য দিবস (২৯ ডিসেম্বর) সহ আরও অনেক দিবস।
প্রজ্ঞাপনে আরও বলা হয়েছে, এসব দিবসের কর্মসূচি আয়োজনের সময় শালীনতা, সংযম এবং জাতীয় ভাবগম্ভীরতা বজায় রাখতে হবে।
স্বদেশ প্রতিদিন/ আরএফ