প্রকাশ: সোমবার, ৩ নভেম্বর, ২০২৫, ৪:৩১ পিএম

জয়হার আমিনিয়া মহাব্বতিয়া দ্বিমূখী দাখিল মাদ্রাসা
জয়পুরহাট জেলা অনেক পড়াশোনা ও ধর্মীয় শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের জন্য সুপরিচিত। তবে এবার উপজেলার কুসুম্বা ইউনিয়নের জয়হার আমিনিয়া মহাব্বতিয়া দ্বিমূখী দাখিল মাদ্রাসা-তে সুপার নিয়োগকে কেন্দ্র করে সৃষ্টি হয়েছে গভীর সংকট। সুপার ও মাদ্রাসা শিক্ষিকা-শিক্ষক ও পরিচালনা কমিটির মধ্যে দীর্ঘদিনের বিরোধের কারণে শিক্ষা ও অফিসিয়াল কার্যক্রম ব্যহত হচ্ছে।
বিরোধের সূত্রপাত বন্ধ সুপার পদে নিয়োগ সংক্রান্ত বিজ্ঞপ্তি প্রকাশিত হওয়ার পরে। গত ২০২৩ সালে সুপার নিয়োগ বিজ্ঞপ্তি দেওয়া হয়; আবেদন করেন আব্দুস সাত্তার। তবে মাদ্রাসার তৎকালীন পরিচালনা কমিটির সভাপতি সোহরাব হোসেন মণ্ডল ও অন্যদের অবৈধ লেনদেনের আশঙ্কায় নিয়োগ প্রক্রিয়ায় আঁতাত হয়েছে এমন অভিযোগ ওঠে। অভিযোগ অনুসারে নিয়োগ বোর্ডের সদস্য সচিব থাকলেও তিনি জানতেন না এবং সভাপতি নিজের পছন্দের ব্যক্তিকে নিয়োগ বোর্ডের মাধ্যমে নিয়োগ দিয়ে দেন।
২০২৪ সালে ওই দৃষ্টান্তবশত্ আব্দুস সাত্তারকে সুপার নিয়োগ দেওয়া হয়। নিয়োগ প্রক্রিয়া নিয়ে অসন্তোষ দেখা দিলে সুপার ও শিক্ষক-শিক্ষার্থীর মধ্যে দ্বন্দ্ব শুরু হয়। সুপার পদে যোগদান না করলেও আব্দুস সাত্তার নিজের অনুপস্থিতিতেই মাদ্রাসার বিল-বেতন অনুমোদন করেন বলেও অভিযোগ। পাশাপাশি তিনি ও সভাপতির সহযোগীতায় প্রায় অর্ধ কোটি টাকার নিয়োগ বানিজ্য চালিয়ে আয়া ও নিরাপত্তা প্রহরীর পদে নিয়োগ দেন। এ ঘটনায় শিক্ষক ও কমিটির মধ্যে উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে।
এক্ষেত্রে অভিভাবক ও এলাকাবাসী সুপারের পদত্যাগের দাবিতে গত ৩১ জুলাই একটি মানববন্ধন ও উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার নিকট লিখিত অভিযোগ দাখিল করেন। শিক্ষক ও কর্মচারীরা অভিযোগ করে বলেন, নিয়োগ লাভের পরই সুপার মাদ্রাসায় সন্নিবেশ করেননি; মাঝে মাঝে এসে হাজিরা খাতায় স্বাক্ষর দিয়ে আবার অনুপস্থিত থাকেন। নিয়োগ পাওয়া কর্মচারীরাও নিয়মিত কাজে আসেননি।
অপরদিকে মাদ্রাসার সভাপতি সোহরাব হোসেন মণ্ডল দাবি করেছেন, “সকল নিয়োগ প্রক্রিয়া নিয়ম অনুসারে হয়েছে, নিয়োগ বানিজ্যের অভিযোগ ভিত্তিহীন।”
উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তা (অতিরিক্ত দায়িত্ব) তোফাজ্জল হোসেন জানান, কমিটি গঠন ও সুপারের বিষয় আদালতে মামলার স্বপক্ষে রায় দিয়েছে। অনুপস্থিতি বা অন্য অভিযোগের বিষয়ে এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো অভিযোগ দেওয়া হয়নি, সত্যতা পেলে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
এই সব পরিস্থিতিতে মাদ্রাসার শিক্ষার্থীদের পাঠদান ব্যাহত হচ্ছে, স্কুল-মাদ্রাসার সাধারণ কার্যক্রম স্থবির রয়েছে। শিক্ষক ও অভিভাবকরা উদ্বিগ্ন, আগামী নিয়োগ ও কমিটির বৈধতা নির্ধারণ না হলে শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের সার্বিক পরিবেশ বিপন্ন হতে পারে।
শিক্ষার্থীর অধিকার রক্ষায় এবং মাদ্রাসার স্বচ্ছ ও নিয়মবদ্ধ প্রশাসন নিশ্চিত করতে দ্রুত উপযুক্ত পদক্ষেপ নেওয়ার আহবান জানাচ্ছেন স্থানীয়রা।
স্বদেশ প্রতিদিন/ নিয়াজ