
প্রায় চার বছর পর অবশেষে রাজশাহী মহানগর বিএনপির নতুন নেতৃত্ব ঘোষণা করা হয়েছে। দীর্ঘদিনের রাজনৈতিক স্থবিরতা, নেতৃত্ব সংকট ও অভ্যন্তরীণ বিভাজনের পর গঠিত এই আংশিক কমিটিকে কেন্দ্রীয় বিএনপি রাজশাহীর রাজনীতিতে নতুন প্রাণ ফেরানোর সূচনা হিসেবে দেখছে।
২০২১ সালে গঠিত আহ্বায়ক কমিটিতে আহ্বায়ক ছিলেন অ্যাডভোকেট এরশাদ আলী ঈসা এবং সদস্য সচিব ছিলেন মামুনুর রশিদ মামুন। এবার নবগঠিত কমিটিতে মামুনুর রশিদ মামুন সভাপতি এবং মাহফুজুর রহমান রিটন সাধারণ সম্পাদক হিসেবে দায়িত্ব পেয়েছেন।
গত কয়েক বছরে রাজশাহী বিএনপি নানা সংকটে পড়ে রাজনৈতিকভাবে প্রায় নিষ্ক্রিয় হয়ে পড়েছিল। আন্দোলন-সংগ্রামের দিনগুলোতে পুরোনো অনেক নেতা সক্রিয় থাকলেও নতুন যোগ দেওয়া অনেক নেতাকে কর্মীরা ‘হাইব্রিড’ বলে আখ্যা দেন। অভিযোগ রয়েছে, নবাগতদের মধ্যে কেউ কেউ দখলবাজি, পদবাণিজ্য ও চাঁদাবাজির মতো কর্মকাণ্ডে জড়িয়ে দলের অভ্যন্তরে বিভাজন সৃষ্টি করেন। এর ফলে মহানগর বিএনপি কয়েকটি গ্রুপে বিভক্ত হয়ে পড়ে এবং একে অপরের বিরুদ্ধে সংবাদ সম্মেলন ও অভিযোগের পালা চলে।
এই প্রেক্ষাপটে সংগঠনকে পুনরায় ঐক্যবদ্ধ করতে উদ্যোগ নেয় কেন্দ্রীয় বিএনপি। দলটির সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী বলেন, “রাজশাহী একসময় বিএনপির শক্ত ঘাঁটি ছিল। আগামী জাতীয় নির্বাচনকে সামনে রেখে ঐক্যবদ্ধ ও আন্দোলনমুখী সংগঠন গড়তে আমরা নতুন কমিটি দিয়েছি। এই নেতৃত্ব রাজশাহীতে বিএনপির হারানো অবস্থান ফিরিয়ে আনবে।”
দলনেত্রী বেগম খালেদা জিয়ার উপদেষ্টা ও রাজশাহীর সাবেক মেয়র মিজানুর রহমান মিনু বলেন, “দীর্ঘদিন পর ত্যাগী নেতাদের নিয়ে সুন্দর একটি কমিটি ঘোষণা করা হয়েছে। এখন সবার কাজ হবে নিঃস্বার্থভাবে দলকে সংগঠিত করা এবং আংশিক কমিটিকে পূর্ণাঙ্গ রূপ দেওয়া।”
রাজশাহী জেলা বিএনপির আহ্বায়ক আবু সাঈদ চাঁদ বলেন, “কেন্দ্রের এই সিদ্ধান্তে আমরা আনন্দিত। নতুন নেতৃত্বের ওপর আমাদের পূর্ণ আস্থা আছে। তারা বিভাজন দূর করে রাজশাহীর বিএনপিকে ঐক্যবদ্ধ করবে।”
মহানগর বিএনপির সভাপতি মামুনুর রশিদ মামুন বলেন, “আমাদের সামনে তিনটি বড় চ্যালেঞ্জ দলীয় ঐক্য ফিরিয়ে আনা, সাংগঠনিক পুনর্গঠন সম্পন্ন করা এবং আন্দোলনমুখী রাজনীতি পুনরায় সক্রিয় করা।”
সাধারণ সম্পাদক মাহফুজুর রহমান রিটন বলেন, “দীর্ঘস্থবিরতা ও বিভাজন আমাদের রাজনীতিকে পিছিয়ে দিয়েছিল। এখন আর কাউকে বাদ দেওয়া নয় সবাই রাজশাহীর বিএনপির ঘরে ফিরবে। দেশনায়ক তারেক রহমানের ঘোষিত ৩১ দফা বাস্তবায়নে আমরা জনগণের ভোটাধিকার ও নিরাপত্তা ফিরিয়ে আনতে কাজ করব।”
স্থানীয় রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা মনে করছেন, নতুন এই কমিটি যদি অভ্যন্তরীণ কোন্দল পেরিয়ে তৃণমূলকে ঐক্যবদ্ধ করতে পারে, তবে রাজশাহী আবারও বিএনপির ঐতিহ্যবাহী শক্ত ঘাঁটি হিসেবে ফিরে আসবে।
স্বদেশ প্রতিদিন/কেআইকে