জনপ্রিয় ম্যাগাজিন অনুষ্ঠান ‘ইত্যাদি’ পরিচালক ও উপস্থাপক হানিফ সংকেত বলেছেন, ইত্যাদি অনুষ্ঠানের সঙ্গে আমার সম্পর্ক এতটাই ঘনিষ্ঠ যে, নিয়মিত শিল্পীরাও এ অনুষ্ঠানের সঙ্গে যুক্ত থাকতে স্বাচ্ছন্দ্য বোধ করেন। দীর্ঘদিনের সম্পর্কের কারণে তারা যেমন আমাকে ভালোবাসেন, তেমনি ইত্যাদিকেও ভালোবাসেন। প্রতিটি শিল্পী ইত্যাদিতে অভিনয়ের সুযোগের জন্য অপেক্ষা করেন।
সম্প্রতি এক গণমাধ্যমকে দেয়া এক সাক্ষাৎকারে এসব বলেন তিনি।
হানিফ সংকেত বলেন, আমার এবং শিল্পীদের সম্পর্ক তিন যুগেরও বেশি সময় ধরে চলেছে। অনেকেই আছেন, যারা অন্যান্য অনুষ্ঠানে কাজ করলেও শেষ পর্যন্ত ইত্যাদিতেই অভিনয় করেছেন। উদাহরণস্বরূপ পপসম্রাট আজম খান, বাংলা গানের ঐশ্বর্য এন্ড্রু কিশোর এবং সংগীতশিল্পী খালিদ হাসান মিলু, তাদের শেষ গানটি ইত্যাদিতে পরিবেশিত হয়েছিল।
তিনি আরো বলেন, প্রয়াত অভিনেতা এটিএম শামসুজ্জামান এবং মাসুদ আলী খান তাদের শেষ অভিনয় একসঙ্গে ইত্যাদিতে করেছেন। শামসুজ্জামান অসুস্থ অবস্থায়ও বিশেষ ব্যবস্থায় চেয়ারে বসিয়ে তাকে নিয়ে ছোট্ট নাটিকা পরিচালনা করা হয়েছিল, যা দুজনেরই জন্য স্মরণীয় হয়ে গেছে।
হানিফ সংকেত বলেন, অভিনেতা মহিউদ্দিন বাহার তার শেষ দিনগুলোতে অ্যাম্বুলেন্সে এসে ইত্যাদিতে অভিনয় করেছেন। সাইফুদ্দিন আহমেদ শেষ পর্যন্ত এক শব্দ বলতে পারলেও ইত্যাদিতে অভিনয় চালিয়ে গেছেন। অভিনেতা আরিফুল হক বিদেশ যাওয়ার আগে তার শেষ অভিনয়ও ইত্যাদিতে হয়েছে। তেমনি হাসমত, ব্ল্যাক আনোয়ার, আমিনুল হক, নাজমুল হুদা বাচ্চু, কে এস ফিরোজ, আব্দুল কাদের, এস এম মহসিন, বেবী জামানসহ বহু গুণীশিল্পীর শেষ কাজটি আমার অনুষ্ঠানে হয়েছে।
হানিফ সংকেত বলেন, ইত্যাদির শিল্পীদের সঙ্গে আমার এক আত্মিক বন্ধন গড়ে উঠেছে। তারা আমার সঙ্গে কাজ করে স্বাচ্ছন্দ্য বোধ করেন, আর আমি তাঁদের সঙ্গে কাজ করে স্বাচ্ছন্দ্য বোধ করি। তাঁরা আমাকে যেমন ভালোবাসেন, তেমনি ইত্যাদিকেও ভালোবাসেন।
উল্লেখ্য, প্রয়াত দুই গুণী অভিনেতা এটিএম শামসুজ্জামান ও মাসুদ আলী খানের একসঙ্গে শেষ অভিনয় ইত্যাদিতেই হয়েছে, এবং ছবিতে তাদের দৃশ্য হানিফ সংকেতের মাধ্যমে প্রদর্শিত হয়েছে।
স্বদেশ প্রতিদিন/এমএএম