
সংগৃহীত ছবি
বাংলা চলচ্চিত্রের অমর নায়ক সালমান শাহর মৃত্যু নিয়ে রহস্যের শেষ নেই। মাত্র চার বছরের ক্যারিয়ারে ২৭টি সুপারহিট সিনেমা উপহার দেওয়া এই অভিনেতার মৃত্যু আজও প্রশ্নবিদ্ধ; আত্মহত্যা, নাকি পরিকল্পিত হত্যা? সালমানের পরিবার সবসময় দাবি করে আসছে, এটি হত্যা। এ অভিযোগে তাঁর স্ত্রী সামিরাকে করা হয়েছে মামলার এক নম্বর আসামি।
তবে, সম্প্রতি এক সাক্ষাৎকারে সালমান শাহর স্ত্রী সামিরা দাবি করেছেন, সালমান এর আগেও তিনবার আত্মহত্যার চেষ্টা করেছিলেন।
তিনি বলেন, “ইমন (সালমান শাহ) মানসিকভাবে আত্মহত্যাপ্রবণ ছিল। এর আগেও তিনবার আত্মহত্যার চেষ্টা করেছে। মেট্রোপলিটন হাসপাতালে দু’বারের রেকর্ড আছে, আরেকটি ঘটনার রেকর্ড অন্য হাসপাতালে। ঘটনাগুলো আমাদের বিয়ের আগের। একবার মায়ের সঙ্গে ঝগড়া করে, একবার আমাকে বিয়েতে রাজি করাতে, আরেকবার অন্য একটি বিষয়ে আত্মহত্যার চেষ্টা করেছিল।”
সামিরা আরও বলেন, “আমাদের সংসার খুব সুখের ছিল। ইমন আমাকে খুব ভালোবাসত। মনোমালিন্য হলে ও নিজেই তা ভালোবাসা দিয়ে ভরিয়ে দিত। আত্মহত্যার দিনও তেমন কোনো বড় ঝগড়া হয়নি, সামান্য অভিমান থেকেই ও রুমে চলে যায়। এরপর দরজা বন্ধ করে দেয়, আর কিছুক্ষণের মধ্যেই সব শেষ হয়ে যায়।”
তিনি অভিযোগ করে বলেন, “সেদিন ইমনকে দ্রুত হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়, কিন্তু আমাকে যেতে দেওয়া হয়নি। ওর মা আমাকে অনেক অপমান করে বাসা থেকে বের করে দেন। আমি হাসপাতালে বা সিলেটেও যেতে পারিনি। ইমনের শেষ মুখটাও আমাকে দেখতে দেওয়া হয়নি।”
সালমানের মা নীলা চৌধুরীর অভিযোগ, ব্যবসায়ী আজিজ মোহাম্মদ ভাইয়ের সঙ্গে সামিরার সম্পর্ক ছিল, এ কারণেই সালমানকে হত্যা করা হয়েছে। তবে সামিরা এসব অভিযোগ সম্পূর্ণ মিথ্যা ও ভিত্তিহীন বলে দাবি করেন।
তিনি বলেন, “আজিজ মোহাম্মদ ভাইকে আমি ভালোভাবে চিনতাম না। বরং ইমনের মা তাঁকে চিনতেন। আমার বিরুদ্ধে এসব গুজব ছড়ানো হয়েছে উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে।”
তিনি আরও জানান, “ইমনের বাবা ম্যাজিস্ট্রেট ছিলেন। তিনি যখন রমনা থানায় কেস করেন, সেটি ইউডি মামলা (অপমৃত্যু) হিসেবে ফাইল করেছিলেন। পরে ইমনের মা একে হত্যা মামলা হিসেবে চালান।”
উল্লেখ্য, ১৯৯৬ সালের ৬ সেপ্টেম্বর রাজধানীর ইস্কাটনে নিজ বাসায় ঝুলন্ত অবস্থায় সালমান শাহর মরদেহ উদ্ধার করা হয়। প্রায় ২৯ বছর পর, সম্প্রতি ঢাকার ষষ্ঠ অতিরিক্ত মহানগর দায়রা জজ আদালত এ ঘটনায় হত্যা মামলা করার নির্দেশ দিয়েছেন, যা তদন্তের দায়িত্ব পেয়েছে রমনা থানা।