বিএনপির জাতীয় নির্বাহী কমিটির ক্ষুদ্র ঋণ বিষয়ক সম্পাদক ও ঢাকা মহানগর উত্তর বিএনপির সাবেক প্রতিষ্ঠাতা সভাপতি ড. এম এ কাইয়ুম বলেছেন, এদেশের মানুষের ধর্মের দুর্বলতা নিয়ে একটি দল রাজনীতি করছে। আপনারা সে ফাঁদে পা দিবেন না। দেশকে আধুনিক রাষ্ট্রে পরিণত করতে বিএনপির বিকল্প নেই।
আজ বুধবার (২৯ অক্টোবর) রাজধানীর ভাটারা থানা মহিলা দলের পরিচিতি সভায় তিনি এসব কথা বলেন।
তিনি বলেন, “সকল ষড়যন্ত্র মোকাবিলায় এবারের ভোট, ধানের শীষের পক্ষে হোক। আপনাদের সকল আত্মীয়দের বলে দিবেন, সময় নষ্ট করবেন না ধানের শীষে ভোট দিবেন। দীর্ঘ ১৭ বছর পরে এই ভোটাধিকার বিএনপির আন্দোলনের ফসল। ধানের শীষে ভোট দেওয়ার পর আমরা আপনাদের দাবি আদায়ের সকল ব্যবস্থা করবো। ইনশাআল্লাহ্।”
ড. এম এ কাইয়ুম আরো বলেন, “তারেক রহমানের নেতৃত্বে আমরা জনকল্যাণমূলক কাজ করবো এবং বাংলাদেশকে একটি আধুনিক রাষ্ট্রে পরিণত করবো। মানুষে রক্তের বিনিময়ে অর্জিত নতুন এই বাংলাদেশে কোনো বৈষম্য থাকবে না। কোনো অন্যায়, অত্যাচার-জুলুম থাকবে না, আমরা সকলে এই বাংলাদেশে মিলেমিশে বসবাস করবো।”
নির্বাচন নিয়ে ষড়যন্ত্র হচ্ছে উল্লেখ করে তিনি বলেন, “অনেকে অনেক কথা বলছে। তবে সকল ষড়যন্ত্র মোকাবিলা করে আগামী ফেব্রুয়ারীতেই নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে। ষড়যন্ত্র মোকাবিলা করে এগিয়ে যাওয়াকেই বলা হয় রাজনীতি। অতীতের ন্যায় ভবিষতেও আমরা মানুষের কল্যানে কাজ করে যাবো ইনশাআল্লাহ্।”
ঢাকা ১১ আসনের মাটি ও মানুষের নেতা ড. এম এ কাইয়ুম বলেন, “এমন কোনো অপকর্ম নেই যা শেখ হাসিনা করেনি। ক্ষমতায় থাকতে মানুষদের হত্যা থেকে শুরু করে যা প্রয়োজন সব করেছে, তার মধ্যে কোন অনুসূচনা পর্যন্ত নেই। অথচ আমাদের নেত্রী বেগম খালেদা জিয়াকে দেখুন! সারাজীবন এই দেশের মানুষের কথা ভেবেছে, মানুষের কল্যাণে কাজ করে গিয়েছে। তাই পালিয়ে যেতে হয়নি, দেশের মানুষ তাকে ভালোবেসেছে।”
ঢাকা মহানগর উত্তর বিএনপির সাবেক প্রতিষ্ঠাতা সভাপতি ড. এম এ কাইয়ুম বলেন, “আগামী শনিবার আমরা বিনামূল্যে চিকিৎসার ব্যবস্থা করেছি। সেখানে যে কোনো ধরনের রোগের চিকিৎসার ব্যবস্থা করা হয়েছে। সাধারণ রোগ হলে সেখানে ডাক্তার থাকবেন আর জটিল কোনো রোগ হলে হাসপাতালে প্রেরণ করে তার চিকিৎসার ক্ষেত্রে আমরা সাহায্য করবো। এই চিকিৎসা ব্যবস্থা চলমান থাকবে। এবং বিগত সময়েও আমরা এই ব্যবস্থা করেছি।”
আমরা প্রত্যেকটা মসজিদ, মাদ্রাসা, গির্জা ও মন্দিরে কাজ করছি উল্লেখ করে তিনি বলেন, “হিন্দু-বৌদ্ধ কিংবা খ্রিষ্টান সে যেই ধর্মেরই হোক না কেন সে আমাদের ভাই। সে বাংলাদেশি। আমরা এই বাংলাদেশে মিলেমিশে বসবাস করবো। একে অন্যের বিপদে এগিয়ে আসবো, একে অন্যকে সাহস জোগাবো। বিএনপি আগামীদিনে আসলে তাদের কোনো ক্ষতি হবে না, যা স্বৈারাচার আ. লীগ করেনি।”
দাঁড়ি-টুপি তো ইসরায়েলেরও আছে উল্লেখ করে তিনি আরো বলেন, “দাঁড়ি-টুপি রেখে একটি ভণ্ড দল বাংলাদেশের মানুষের ধর্মের দুর্বলতা নিয়ে রাজনীতি করতে চাচ্ছে। হেফাজতের সভাপতি তো বলেই দিয়েছেন- যে জামায়াতকে যারা ভোট দিবে, তাদের ঈমান থাবেনা। কুরআন ধ্বংস করার জন্য তারা অনেকবার চেষ্টা করেছে, কিন্তু হাফেজরা বেঁচে থাকায় সেটা তাদের পক্ষে সম্ভব হয়নি। তারা বলে, নবী-রাসূলগণ নিষ্পাপ ছিলেননা।”
বিএনপি বিশ্বাস করে ইসলামি মূল্যবোধ প্রতিষ্ঠা উল্লেখ করে তিনি আরো বলেন, “জিয়াউর রহমান সর্বপ্রথম বাংলাদেশের সংবিধানে বিসমিল্লাহির রাহমানির রাহিম সংশোধন করেছেন। আমরা ধর্ম নিয়ে বাড়াবাড়ি করতে চাই না। আমরা বিশ্বাস করি বাংলাদেশি জাতীয়তাবাদ। আমরা বিশ্বাস করি বহু দলীয় গণতন্ত্র, যার জন্য দীর্ঘ ১৭ বছর আমরা লড়াই করেছি। মানুষের ভোটাধিকার এবং রাষ্ট্রের উন্নয়নের জন্য।”
ভাটারা থানা মহিলা দলের আহ্বায়ক শাহ্নাজ সুলতানার সভাপতিত্বে পরিচিতি সভায় উপস্থিত ছিলেন নির্বাহী কমিটির সদস্য চাঁদপুরের কৃতি সন্তান মোশাররফ হোসেন। আলোচনা সভায় বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন, ঢাকা মহানগর উত্তর বিএনপির যুগ্ম আহ্বায়ক ও ভাটারা ইউনিয়ন পরিষদের সাবেক চেয়ারম্যান আলহাজ্ব মো. আতাউর রহমান প্রমুখ।
স্বদেশ প্রতিদিন/আইএমএস/ওএফ