
ফাইল ছবি
অল্প সময়ের মধ্যে অভিনয় দিয়ে দর্শকের মনে দারুণ ছাপ ফেলা অভিনেতা সালমান শাহ। এত সংক্ষিপ্ত সময়ে এত জনপ্রিয়তা পাওয়া এবং মৃত্যুর পরেও সেই খ্যাতি ধরে রাখা বা আরও বৃদ্ধি পাওয়া—এ ধরনের শিল্পী সত্যিই বিরল।
সালমান শাহ আসলে কেমন ছিলেন? তার সঙ্গে সবসময় দেখা যেত অভিনেতা তুষার খানকে। তার সঙ্গে ছিল বন্ধুতপূর্ণ সম্পর্ক।
সালমান শাহর সঙ্গে সম্পর্ক নিয়ে তুষার খান বলছেন, ‘সালমান শাহ আমার বয়সে ছোট ছিল, কিন্তু আমাদের মধ্যে অসম্ভব ভালো একটা বন্ধুত্ব ছিল। বড় ভাই, বন্ধু যাই বলেন না কেন ওর সঙ্গে আমার অনেক স্মৃতি রয়েছে। শেষেরদিকে দেখা গেছে একসঙ্গে ২৪ দিন আমরা একসঙ্গে কাজ করছি। হয়তো ৫টা দিন অন্য ফিল্মে কাজ করছি।
সালমানের সঙ্গে হৃদ্যতা বেশ ভালো ছিল জানিয়ে তুষার খান বলেন, ‘আমরা কাজ করতাম রাত পর্যন্ত, এরপর ও ওর বাসায় চলে যেত, আমি আমার বাসায় চলে আসতাম। কখনো দেখা যেত ১১টা সাড়ে ১১টার দিকে ও আমার বাসায় চলে আসতো। আমাদের প্রতিদিনই আড্ডা হতো। সালমানের সঙ্গে কত স্মৃতি আছে বলে শেষ করা যাবে না।
ও অনেক ভালো একটা মানুষ ছিল। অনেকে বলে না, ভালো মানুষ বেশি দিন থাকে না, আসলেই তাই।’
সম্প্রতি এক সাক্ষাৎকারে সালমান কত শক্তিশালী অভিনেতা ছিলেন- বিশ্লেষণ করে তুষার খান বলেন, ‘এত বছর হলো ও চলে গেছে, কিন্তু ফিল্মগুলো দেখলে মনে হয়তো এই তো সেদিনের ফিল্ম। এখনকার জেনারেশনের ছেলেমেয়েরা যখন সালমানের কথা বলে তখন সত্যি ভালো লাগে। হতো তখন জন্মও হয়নি কিন্তু সালমানকে ভালোবাসে।
তখনই বুঝতে হবে সালমান শাহ অভিনয় দিয়ে নিজের কোন জায়গাটা তৈরি করে নিয়েছে।’
সালমানের মৃত্যু প্রসঙ্গে তুষার বলেন, ‘সালমানের যখন মন খারাপ থাকতো তখন প্রায়ই আমার সঙ্গে কথা বলতো। আমাকে টেলিফোনে বলতো, আমার ভালো লাগছে না। আমি তোমার বাসায় আসব। ওর ফোন পেয়ে আমি কোথাও আর বের হতাম না। আমরা একসঙ্গে নানা বিষয়ে কথা বলতাম। এতে অনেকেটাই ও ফ্রেশ অনুভব করত। পরদিন আবারও ফুরফুরে মেজাজে অভিনয় সেটে দেখতাম ওকে।’
তুষার আরো বলেন, “সালমান যেদিন মারা যায় তার আগের দিন আমি আমেরিকা থেকে দেশে ফিরি। বিকেলে আমার আর ওর ‘প্রেমপিয়াসী’ সিনেমার ডাবিংয়ের কাজ ছিল। ডাবিংয়ে যাওয়ার আগে আমি আমেরিকা থেকে আনা একটি পার্সেল আমার আত্মীয়ের বাড়িতে দিতে যাই। আমি এত ক্লান্ত অনুভব করি যে, সে আত্মীয়ের বাড়িতে পার্সেল আর শুভেচ্ছা বিনিময়ের পর ঘুমিয়ে পড়ি। ঘুমিয়ে পড়ায় তারাও আমায় আর ডাকেনি।’’
মৃত্যুর সংবাদ পাওয়ার সময় মনে করে তুষার বলেন, ‘আমার ঘুম ভাঙে রাত পৌনে ১১টায়। সেদিন আর ডাবিংয়ে যাইনি। পরদিন সকাল বেলা পরিচালক চাষী নজরুল ইসলামের মেয়ে আন্নি আমাকে ফোন দিয়ে জানায়, সালমান সুইসাইড করেছে। আমি তখন বিষয়টা মেনে নিতেই পারিনি। আন্নিকে আমি আবার বলি, ওকি মারা গেছে। আন্নি জানায়, হ্যাঁ, এখন মেডিক্যালে। আমি সঙ্গে সঙ্গে সেখানে চলে যাই।’
এরপরই আফসোস করে তুষার বলেন, ‘হাসপাতালে পরিচালক রেজা হাসমত আমাকে দেখে বলেন, কালকে আপনি কই ছিলেন? আমি বললাম কেন? তখন রেজা জানান, গতকাল ডাবিংয়ের সময় সালমান খুব আপসেট ছিল। আপনাকে অনেক খুঁজেছে। ফোন করেছে। ফোনে না পেয়ে আপনার বাসায় লোক পাঠিয়েছে।’
দুঃখ প্রকাশ করে এই অভিনেতা বলেন, “এমন খবর শুনে প্রায়ই মনে হয়, সে হয়তো অন্যদিনের মতো আমার সঙ্গে কিছু শেয়ার করতে চেয়েছিল। হয়তো আমার সঙ্গে কথা বলার পর তার মনটা আবার হালকা হয়ে যেত। তাহলে হয়তো এমন দুর্ঘটনা ঘটত না। এখন মনে হয়, কেন আমি ওইদিন আত্মীয়ের বাড়িতে ঘুমিয়ে পড়েছিলাম! এই ব্যথা আমার সারাজীবন সঙ্গে থাকবে। হয়তো আমি সেই দিন না ঘুমাতাম, আজও আমাদের মাঝে সালমান শাহ থাকত। এত দর্শকের মনও ভাঙত না।”
স্বদেশ প্রতিদিন/ নিয়াজ